Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৩ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আ’লীগের নানক-সাদেক গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ২

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১০ নভেম্বর, ২০১৮, ৬:১১ পিএম

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের সময় পিকআপের ধাক্কায় দুই তরুণ নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও এবার মনোনয়ন প্রত্যাশী ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় আদাবরের ১০ ও ১৬ নম্বর সড়ক, শম্পা মার্কেট ও সুনিবিড় হাউজিং এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষে সাধারন মানুষের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। 

গত ৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এটাই নির্বাচনী সহিংসতায় বড় ধরনের প্রাণহানির প্রথম ঘটনা। নিহত দুই তরুণ হলেন আরিফ ও সুজন। তাদের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। সুজন নির্মাণশ্রমিক ছিলেন। আহতদের মধ্যে ২০জনকে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল রাত পর্যন্ত পুলিশ এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করেনি। থানায় কোন মামলাও হয়নি। এলাকার সাধারন মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছেন। আবারো দু’গ্রুপের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষের আশংকা করছেন স্থানীয় লোকজন।
আওয়ামী লীগের দুইপক্ষের সংঘর্ষের সময় গাড়িচাপায় দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, নির্বাচনের সময় কিছুটা উত্তেজনা থাকে। তবে, প্রাণহানি কাম্য নয়। নির্বাচনকে ঘিরে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদেরকে কঠোর হাতে দমন করা হবে।
সংঘর্ষের বিষয়ে সাদেক খান সাংবাদিকদের বলেন, যুবলীগের তুহিনের নেতৃত্বে আমার সমর্থকদের ওপর হামলা হয়। আদাবর থানা যুবলীগের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম তুহিন নানকের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
অভিযোগ অস্বীকার করে তুহিন তিনি বলেন, জামায়াত-বিএনপির লোকজন আওয়ামী লীগের লেবাস নিয়ে এই ঘটনা ঘটাতে পারে।
জানা গেছে, ঢাকা ১৩ আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ওই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে। গতকাল সকাল সাড়ে নয়টার দিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী সাদেক খানের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার জন্য তার কর্মী সমর্থকদের একটি গাড়িবহর মিছিল মোহাম্মাদপুর এলাকার সুনিবিড় হাউজিংয়ের সামনে এলে নানকের সমর্থকেরা বাধা দেন। তখন দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে তা ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়। দু’পক্ষের মধ্যে বেশ কিছু সময় ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অনেকেই আহত হন। আহতদের সংখ্যা দেড় শতাধিক। আরিফ ও সুজনের বন্ধু নুরুল আমিন দাবি করেন, তারা মিছিলের সময় পিকআপে ছিলেন। সে সময় মোহাম্মদপুরে বেড়িবাঁধের পাশে লোহার গেটসংলগ্ন সড়কে দুই গ্রুপের ইটপাটকেল নিক্ষেপের মধ্যে পড়ে যান তারা। ওই সময় ইটপাটকেল থেকে বাঁচতে তারা পিকআপ থেকে লাফিয়ে নেমে পড়েন। তখন তড়িঘড়ি করে চালক পিকআপ টান দিলে পিকআপের ধাক্কায় আরিফ ও সুজন আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর তারা মারা যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি পিকআপে করে আসা বেশ কিছু তরুণ লোহার গেটের কাছে এলে বিপরীত দিক থেকে সেই পিকআপ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এর পর সবাই ছোটাছুটি করে। ওই সময় পিকআপভ্যানটি দ্রুত ঘোরাতে গেলে তার নিচে চাপা পড়েন আরিফ ও সুজন।
আরিফের ভাই বলেন, যুবলীগের একটি অনুষ্ঠানে যাচ্ছিল আমার ভাই। তাদের গাড়িতে হামলা হলে সে নেমে পালানোর সময় ওই গাড়িতেই পিষ্ট হয়। তাৎক্ষণিক আরিফকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নবোদয়ের পাশাপাশি আদাবরের ১০ ও ১৬ নম্বর সড়ক, শম্পা মার্কেট এলাকা এবং উত্তর আদাবরের সুনিবিড় হাউজিংয়েও একই সময়ে সংঘর্ষ বাঁধে।
স্থানীয় লোকজন জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও এবার মনোনয়ন প্রত্যাশী সাদেক খানের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষ বাঁধে। দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নানক ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর-আদাবর) আসনে এবারও নৌকার মনোনয়নপ্রত্যাশী। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানও মনোনয়ন চাইছেন এবার। তারা আরও জানান, সাদেক খানের মনোনয়ন কিনতে তার সমর্থকদের ধানমন্ডির আবাহনী মাঠে জড়ো হতে বলা হয়েছিল। সেখান থেকে তাদের মনোনয়ন কিনতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পথেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আহত ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাসু কমিশনারের ভাগনে আলী, ইদ্রিস, জাহাঙ্গীর ও জলিলের অবস্থা গুরুতর। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আদাবর থানার ওসি (তদন্ত) জামাল উদ্দিন মীর জানান, সকালে জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং সাদেক খানের দুই গ্রুপ মনোনয়নপত্র নিতে যাচ্ছিলো। এসময় মোহাম্মদপুর নবোদয় হাউজিং এর সামনে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সমর্থকদের বহনকারী পিকআপের নিচে চাপা পড়ে ২জন নিহত হয়েছে।
স্থানীয় মোহাম্মদিয়া হোমসের দারোয়ান আব্দুল জব্বার বলেন, একটি পিকআপে করে আসা বেশ কিছু তরুণ লোহার গেটের কাছে এলে বিপরীত দিক থেকে সেই পিকআপ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এর পর সবাই ছোটাছুটি করে। ওই সময় পিকআপভ্যানটি দ্রুত ঘোরাতে গেলে তার নিচে চাপা পড়েন আরিফ ও সুজন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ