Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯, ০৬ চৈত্র ১৪২৫, ১২ রজব ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

আফগান শান্তি সম্মেলনে এই প্রথম তালেবান অংশগ্রহণ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১০ নভেম্বর, ২০১৮, ৭:১৪ পিএম

এই প্রথম বারের মতো একটি আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে অংশ নিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান। আফগানিস্তানে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয়। উদ্বোধন করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ।
দীর্ঘ দিন ধরে আফগানিস্তানে যুদ্ধরত বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলোর সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের আলোচনার টেবিলে নিয়ে এসেছে রাশিয়া। এর আরেকটা তাৎপর্যপূর্ণ দিক হচ্ছে শুধু তালেবান বা আফগান সরকারি প্রতিনিধিরাই নয় - আঞ্চলিক শক্তিগুলোও এতে সম্পৃক্ত করেছে। রাশিয়াই এই যোগাযোগের প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছিল। তারাই ধীরে ধীরে এর আওতা সম্প্রসারিত করেছে। এখন ১২টি দেশ এতে সম্পৃক্ত হয়েছে।
বিভিন্ন স্তরে সযত্ন প্রয়াসে গড়ে তোলা আপোষ-মীমাংসার মাধ্যমে যুদ্ধরত গোষ্ঠীগুলোকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে এসেছে রাশিয়া। আফগান প্রশাসনের প্রতিনিধি ছাড়াও প্রভাবশালী আঞ্চলিক শক্তি পাকিস্তান, ভারত এবং চীনও এতে অংশ নেয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও একজন কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছে।
আফগান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই শান্তি সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে না - তবে আফগানিস্তানের উচ্চ শান্তি কাউন্সিলের কয়েকজন সদস্য এতে যোগ দেন।
আফগান সরকার আশা প্রকাশ করেছে যে এই সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে কাবুল ও তালেবানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার পথ খুলে যেতে পারে। সম্মেলনস্থল থেকে পাঠানো ছবিতে দেখা গেছে তালেবান নেতারা পাকিস্তান ও চীনসহ অন্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাৎ করছেন।
রাশিয়া আশা করছে, ‘যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আফগানিস্তানের ইতিহাসে একটা নতুন পাতা উন্মোচিত হবে।’ শুক্রবার সকালে মস্কোর একটি হোটেলে আলোচনার শুরুতে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন যে, আলোচনায় আফগান নেতৃবৃন্দ এবং তালেবান – উভয় পক্ষের প্রতিনিধি থাকাটাই একটা গুরুত্বপূর্ণ অর্জন যেটা সরাসরি আলোচনার জন্য একটা অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে।
তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এএফপিকে বলেন যে, তালেবানরা পাঁচজন প্রতিনিধি পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, কাবুল প্রশাসনের সাথে তারা কোন ধরণের ‘দর কষাকষি’ করবে না। তিনি আরও বলেন, ‘কোন পক্ষের সাথে দর-কষাকষির জন্য এই সম্মেলন নয়। বরং আফগানিস্তান ইস্যুতে একটা শান্তিপূর্ণ সমাধান বের করাই এর লক্ষ্য।’
আফগান প্রতিনিধি দলে হাই পিস কাউন্সিলের চারজন প্রতিনিধি ছিলেন। কাবুল সরকারের গঠিত এই কাউন্সিল তালেবানদের সাথে শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করে থাকে। মুখপাত্র সাইয়েদ ইহসান তাহেরি এ কথা জানান। আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য জোর দিয়ে বলেছে যে, এই কাউন্সিল সম্মেলনে আফগান সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছে না।
বিবিসির বিশ্লেষক জিল ম্যাকগিভারিং বলছেন, এ থেকে কোন চটজলদি ফল আসবে বলে কেউ আশা করছেন না কিন্তু - তালেবান এবং আফগান সরকার এবং তালেবানের প্রতিনিধিরা যে একটি সম্মেলন কক্ষে শান্তি আলোচনার জন্য বসেছেন - এটাই আসল তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর আগে রাশিয়ার শুরু করা এই প্রক্রিয়াকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তারা তালেবানের সাথে নিজস্ব উদ্যোগে সরাসরি আলোচনা চালাচ্ছিল। সেই যুক্তরাষ্ট্রও এ সম্মেলনে দূতাবাসের একজন কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছে। অন্যদিকে তালিবানের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রশ্নে ভারতের অবস্থানেও পরিবর্তন ঘটেছে। আগে তারা তালেবানের সঙ্গে এরকম আলোচনার বিরোধী ছিল। কিন্তু এই আলোচনায় ভারত থেকে একটি 'অনানুষ্ঠানিক' প্রতিনিধিদল গেছে - যেখানে দুজন সাবেক ভারতীয় কূটনীতিকও আছেন। সূত্র: রেডিও তেহরান, আল-জাজিরা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: তালেবান

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ