Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

ছত্তিশগড়ে ১৮ টি আসনে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১২ নভেম্বর, ২০১৮, ৯:৩৮ পিএম

কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে বিধানসভার নির্বাচনের প্রথম দফা গতকাল সম্পন্ন হয়েছে। রাজ্যের ৯০ টি আসনের মধ্যে গতকাল সোমবার প্রথম দফায় মাওবাদী অধ্যুষিত আটটি জেলার ১৮ টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়েছে। তফসিল অনুযায়ী বাকি ৭২ আসনের ভোট হবে ২০ তারিখে। ভোট বর্জনে মাওবাদীদের আহ্বান ও তাদের হামলার আশঙ্কায় কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল কম। যাবতীয় নিরাপত্তার বন্দোবস্ত থাকলেও সকালে দান্তেওয়াড়ার কটেকল্যাণে ভোটকেন্দ্রের দেড় কিমি দূরত্বে মাওবাদীরা আইইডি বিস্ফোরণ ঘটালেও কোনও ক্ষয়ক্ষতির হয়নি বলে জানা গিয়েছে।

ছত্তিশগড় রাজ্যের বস্তার, সুকমা, দান্তেওয়াড়া, কাঙ্কের, বিজাপুর, নারায়ণপুর, কোÐাগাঁও, রাজনন্দগাঁও এই আটটি জেলায় গতকাল ভোটগ্রহণ হয়েছে। ১০টি আসনে সকাল সাতটা থেকে ও বাকি আটটি আসনে আটটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত ভোটদানের হার ছিল ৫৬.৫৮ শতাংশ। সকাল থেকেই বুথগুলিতে তেমন লাইন চোখে পড়েনি। ৩১২ জন ভোটার থাকলেও সকাল থেকে ৫০ শতাংশও ভোট পড়েনি দান্তেওয়াড়ার একটি বুথে। সকাল ১১ টা পর্যন্ত ১৮ টি আসনে গড়ে ১৭ শতাংশ ভোট পড়েছে।
তবে, ছত্তিশগড়ে মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা উমেশ সিনহা বলেছেন, সকালে কম থাকলেও বিকেলের দিকে ভোটার উপস্থিতি বাড়ে। শেষ পর্যন্ত কমপক্ষে ৭০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। ২০১৩ সালে ৭৬ শতাংশ ভোট পড়েছিল। সে তুলনায় এবার ভোটের পরিমাণ কিছু কম। এবার মাওবাদী আক্রমণের ভয়ে ভোটের হার কম বলে মনে করা হচ্ছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, ৫৩ টি বুথে যান্ত্রিক কারণে ভোট শুরু হতে দেরি হয়।
সোমবার সকালেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইট করে ছত্তিশগড়ের ভোটারদের গণতন্ত্রের উৎসবে সামিল হতে বলেছিলেন। এর আগে তিনবার রায়পুরের আসন জিতেছিল বিজেপি। এবার তাদের লক্ষ্য ছিল চতুর্থবার সরকার গড়া। অন্যদিকে দীর্ঘ দেড় দশক বাদে ক্ষমতায় ফিরতে চাইছে কংগ্রেস। লড়াইয়ের ময়দানে আছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অজিত যোগীর দলও। কংগ্রেস ত্যাগ করে আলাদা দল করেছেন অজিত। এবার মায়াবতীর বিএসপির সঙ্গে জোট করেছে তার দল।
যে আসনগুলোতে ভোট হয় তার মধ্যে আটটি ছিল কংগ্রেসের দখলে। বাকি গুলিতে গত নির্বাচনে বিজেপি জিতেছিল। অজিত যোগীর দল জনতা কংগ্রেস, কংগ্রেসের ভোট ব্যাঙ্কে ভাগ বসাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এবার আদিবাসীদের মধ্যে ব্যপাক প্রচার করেছে তারা। আদিবাসীদের উন্নয়নের কথা বলেই ভোটের ময়দানে নেমেছেন অজিত। গ্রামের পর গ্রাম ঘুরে প্রচার করেছে তার দল।
আগামী ২০ নভেম্বর, দ্বিতীয় দফা ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর ফলাফল জানতে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ওই একই দিন জানা যাবে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, তেলেঙ্গানা এবং মিজোরামের ভোটের ফলও। এই পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের মহড়া হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক দলগুলি। সূত্র: এনডিটিভি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।