Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৫ পৌষ ১৪২৫, ১১ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

এনআরসি বিল উলফাকে নতুন জীবন দিয়েছে -আসাম পুলিশ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১২ নভেম্বর, ২০১৮, ৯:৪৪ পিএম

ভারতের বিজেপি সরকার নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের যে উদ্যোগ নিয়েছে তার বিরুদ্ধে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর জনগণের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ নিষিদ্ধ সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব অসম (উলফা)-কে নতুন প্রাণ দিয়েছে। দলটি গত দুই মাসে ৮ তরুণকে তাদের সদস্য হিসেবে রিক্রুট করেছে বলে আসাম পুলিশের এক সিনিয়র অফিসার জানিয়েছেন।

শনিবার আসাম পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্জের মহাপরিচালক পল্লব ভট্টাচার্য বলেন, আরো ৮ তরুণকে রিক্রুট করতে উলফার একটি প্রচেষ্টা পুলিশ ভণ্ডুল করে দিয়েছে। পাঁচটি জেলার জনগণ এখন এ নিষিদ্ধ সংগঠনটির প্রতি সহানুভুতিশীল হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে আট তরুণ উলফায় যোগ দিয়েছে। আর যোগ দিতে যাওয়া আরো আট তরুণকে আটক করেছে পুলিশ।
১৯৮৬ সালের ব্যাচের এই আইপিএস অফিসার বলেন, ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় নাগরিকত্ব (সংশোধন) বিলের বিরুদ্ধে তীব্র জনমত উলফাকে নতুন জীবন দিয়েছে। এই বিল রাজ্যের আদিবাসী জনগণের অস্তিত্ব বিপন্ন করে তুলেছে বলে সংগঠনটি অভিযোগ করছে। ভট্টাচার্য বলেন, অল আসাম স্টুডেন্ট ইউনিয়নের (আসু) দেরগাও শাখার নেতা পঙ্কজ প্রতীম দত্ত সম্প্রতি উলফায় যোগ দেন। এই ঘটনা খুবই আতংকজনক একটি বিষয়।
১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে আনা নতুন বিলে মুসলিম বাদে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে পারি জমানো হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি, খৃষ্টানসহ সকল সংখ্যালঘুকে ভারতের নাগরিকত্ব প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। এমনকি তাদের কোন বৈধ কাগজপত্র না থাকলেও ভারতে ছয় বছর অবস্থান করলেই তারা নাগরিকত্ব পাওয়ার উপযুক্ত হবে। আগে এই মেয়াদ ছিলো ১২ বছর।
উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর জনগণ ও বিভিন্ন সংগঠন এই বিলের বিরোধিতা করে বলছে যে এর ফলে ১৯৮৫ সালের আসাম চুক্তি কার্যকারিতা হারাবে। এই চুক্তি অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের পর থেকে ধর্ম নির্বিশেষে সকল অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কারের কথা বলা হয়েছে।
পুলিশের ডিজি বলেন, তিনসুকিয়া, ডিবগড়, শিবসাগর, গোলাঘাট ও উদালগিরি জেলাগুলো থেকে তরুণদের আকৃষ্ট করতে চাচ্ছে উলফা। এর উপর পুলিশ কড়া নজর রেখেছে। ১ নভেম্বর সন্দেহভাজন উলফা জঙ্গিরা তিনসুকিয়া জেলায় পাঁচ বাঙ্গালি হিন্দুকে হত্যা করেছে।
বিলটি পরীক্ষার জন্য গঠিত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান, মেরাট থেকে নির্বাচিত বিজেপি এমপি রাজেন্দ্র আগরওয়াল বলেন, পার্লামেন্টের শীতকালীন অধিবেশনে কমিটি তার সুপারিশ পেশ করতে পারে। তিনি পিটিআইকে টেলিফোনে বলেন, এটা হবে বর্তমান পার্লামেন্টের শেষ অধিবেশন। আমরা রিপোর্ট পেশ করতে না পারলে তার অর্থ হবে আমরা আমাদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করিনি।
আসামে বিলটির বিরুদ্ধে প্রবল জনমত এবং পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাচ্ছে উলফা – এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান যে বিষয়টি সম্পর্কে তারা সচেতন। আগরওয়াল বলেন, আমরা সব ধরনের উদ্বেগ আমলে নেয়ার চেষ্টা করবো।
আসুর প্রধান উপদেষ্টা সমুজ্জল কুমার ভট্টাচার্য বলেন, আসামবাসী মনে করে যে এই বিল আনা হয়েছে জাতীয় নগারিকত্ব তালিকা (এনআরসি) তৈরির প্রক্রিয়া বানচাল করার জন্য। তিনি বলেন, এই বিলের বিরুদ্ধে জনমত প্রবল। এটা এনআরসি নস্যাৎ করার একটি চক্রান্ত বলে জনগণ মনে করে। ভট্টাচার্য দাবি করেন গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চল এই বিলের বিরোধী। এর বিরুদ্ধে মেঘালয় ও মিজোরাম সরকার প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। সূত্র: পিটিআই।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ