Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৬ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

একাদশ জাতীয় সংসদের তফসিল পিছিয়েছে ইসি: ভোট ৩০ ডিসেম্বর

ইভিএম ব্যবহারে এখনো অনড় ইসি মনোনয়নপত্র জমা ২৮ নভেম্বর যাচাই-বাছাই ২ ডিসেম্বর প্রত্যাহার ৯ ডিসেম্বর

পঞ্চায়েত হাবিব | প্রকাশের সময় : ১৩ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:০১ এএম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। এক সাপ্তাহ পিছিয়ে দেয়ায় এখন ভোট হবে ৩০ ডিসেম্বর। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপি এবং যুক্তফ্রন্টসহ বিভিন্ন জোটের দাবির প্রেক্ষিতে ভোট এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেয়া হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার গতকাল নতুন নির্বাচনের নতুন তফসিল ঘোষণা করেছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল পুনঃনির্ধারণ অনুযায়ী ভোটগ্রহণ ২৩ ডিসেম্বরের পরিবর্তে অনুষ্ঠিত হবে ৩০ ডিসেম্বর। আর মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সবশেষ তারিখ নির্ধারন করা হয়েছে ২৮ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২ ডিসেম্বর এবং প্রত্যাহারের তারিখ ৯ ডিসেম্বর। নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল সোমবার ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রদর্শনীর উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন সিইসি কেএম নূরুল হুদা। গত ৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এটিকে স্বাগত জানায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিসহ বেশকিছু রাজনৈতিক দল। তবে তফসিলকে ‘সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন’ বলে অভিযোগ তোলে রাজপথের বিরোধী দল বিএনপিসহ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন নবগঠিত রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। যদিও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে তারা। তবে সরকারবিরোধী এই জোটটি নির্বাচনের তারিখ একমাস পেছানোর আবেদন জানায়। সাবেক প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এ কে এম বদরুদ্দোজার নেতৃত্বাধীন জোট যুক্তফ্রন্টও নির্বাচন এক সপ্তাহ পেছানোর আবেদন করে ইসিতে। রোববার জোটগুলোর এ সংক্রান্ত চিঠি নির্বাচন কমিশনে পৌছালে এবিষয়ে সোমবার সিদ্ধান্ত জানানোর কথা জানিয়েছিলেন সিইসি।
পুন:তফসিল ঘোষণাকালে কেএম নূরুল হুদা বলেন, ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন পেছানোর দাবিতে কমিশনে যে চিঠি দিয়েছিল, সে বিষয়ে সোমবার সকালে বৈঠক করে নির্বাচনের দিনক্ষণ পেছানোর সিদ্ধান্ত নেন তারা। তারা নির্বাচনে অংশ নেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সেটি নিয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনারদের সাথে আলোচনা করেছি, তারপর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি নির্বাচন কমিশনের জন্য স্বস্তির বিষয় যে বিএনপি, ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এ অনুষ্ঠানে ভোটের নতুন তারিখ ও মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ ঘোষণা করলেও মনোনয়নপত্র বাছাই ও প্রত্যাহারের তারিখ পরে ঠিক করা হবে বলে জানান সিইসি।
ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের কারণ ব্যাখ্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, রাজনৈতিক দলের প্রতি আহবান করি আপনারা আসুন, আপনাদের মধ্যে যদি কোনো প্রযুক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি থাকে নিয়ে আসুন। পরীক্ষা করুন। আমাদের যদি কোনো ভুল ভ্রান্তি থাকে তা শুধরে দিন। তবে এটা থেকে পিছিয়ে যাওয়ার আমাদের আর সুযোগ নেই। এটাকে নিয়ে আমাদের সামনে এগুতে হবে। এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করি এবং আপনাদের সহযোগিতা কামনা করি।
সিইসি বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের প্রত্যেকটা জায়গায় চলে গেছে। শুধুমাত্র নির্বাচনেই এখনো পর্যন্ত আমরা প্রযুক্তির মাপকাঠিতে পৌঁছুতে পারিনি। এটাকে আমাদের অবশ্যই এড্রেস করতে হবে এবং এখান থেকে আমাদের অবশ্যই বেরিয়ে আসতে হবে। এক সময় না একসময় শুরুটা করতে হবে। ভুল হলে আমাদের প্রশ্ন থাকবে, সেই প্রশ্নের উত্তর দেয়া হবে। আবার এগিয়ে যেতে হবে। আবার ভুল হবে, আবার সামনে যাবো।
নির্বাচন নিয়ে প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবিরে মতানৈক্যের মধ্যেই গত ৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি নূরুল হুদা। সেখানে ২৩ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ ধরে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল, ২২ নভেম্বর বাছাই এবং ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ রাখা হয়। তফসিলের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলো মনোনয়নের প্রস্তুতি শুরু করলেও সাত দফা দাবি জানিয়ে আসা বিএনপি ও তাদের জোট শরিকরা স্পষ্ট ঘোষণা না দেয়ায় দশম সংসদের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা জাগছিল অনেকের মনে। তবে রোববার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেন ও মুখপাত্র বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জোটের এক সংবাদ সম্মেলন থেকে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিলে সেই সংশয় কাটে। পরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলও ভোটে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত জানায়।
তবে ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচন এক মাস পিছিয়ে দেয়ার দাবি জানানো হয়। বিকল্পধারার নেতা বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টও নির্বাচন সাত দিন পেছানোর দাবি তোলে। তাদের এই দাবির বিষয়ে নমনীয় আচরণ করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগও। রাজনৈতিক জোটগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভোটের তারিখ পিছিয়ে দিলে তাতে তাদের আপত্তি থাকবে না বলে জানানো হয় দলটির পক্ষ থেকে। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন তফসিল পুনঃনির্ধারণ করে নির্বাচনের জন্য নতুন যে তারিখ ঘোষণা করল, তাতে বি. চৌধুরীর যুক্তফ্রন্টের দাবিই টিকলো।
ইসিতে দেয়া যুক্তফ্রন্টের ওই চিঠিতে বলা হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলকে আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী স্বল্প সময়ে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ, যাচাই-বাছাই ও স্বাক্ষাৎকার গ্রহণ ইত্যাদি ব্যবস্থা গগ্রণ কঠিন হবে। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সৎ ও সুশীল প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়ার প্রয়োজনে আমরা মনে করি মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার তারিখ এক সপ্তাহ পিছিয়ে ১৯ নভেম্বরের পরিবর্তে ২৬ নভেম্বর করা হোক। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২২ নভেম্বরের পরিবর্তে ২৯ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ২৯ নভেম্বরের পরিবর্তে ৫ ডিসেম্বর করা হোক। অনুরূপাবে ভোটগ্রহণের তারিখ ২৩ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ৩০ ডিসেম্বর করার প্রস্তাব করছি।
নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ সাইদুল ইসলাম, ইসির অতিরিক্ত সচিব মুখলেসুর রহমান, যুগ্ন-সচিব মোঃ আসাদুজ্জামানসহ নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



 

Show all comments
  • Abir Khan ১৩ নভেম্বর, ২০১৮, ১:২৬ এএম says : 0
    এটা কে কী পেছানো বলে? শুধুই কমেডি...
    Total Reply(0) Reply
  • গনি শেখ ১৩ নভেম্বর, ২০১৮, ১:২৯ এএম says : 0
    ৩০ তারিখে নির্বাচনের পরিকল্পনার কথা ইসি আগেই জানিয়েছিল। এটা কে দাবি পূরণ বলে না। আইওয়াশ
    Total Reply(0) Reply
  • এইচ এম মুশফিক ১৩ নভেম্বর, ২০১৮, ১:৩১ এএম says : 0
    এটা অবশ্য ইতিবাচক। বিরোধীদের সময় দেয়ায় নির্বাচন জমবে।
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammad Mosharra ১৩ নভেম্বর, ২০১৮, ১:৩৩ এএম says : 0
    অনেকেই মনে করেন ৩০ ডিসেম্বর সুপরিকল্পিত একটি ডেট। ২৫ তারিখ বড় দিন, তারপর থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপন নিয়ে অধিকাংশ কূটনীতিক ছুটিতে থাকবেন আর এই সুযোগে আজ্ঞাবহ নির্বাচন হইবে, আর কি!
    Total Reply(0) Reply
  • মো : সোহেল হোসেন ১৩ নভেম্বর, ২০১৮, ১:৩৪ এএম says : 0
    ভালো!
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ