Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৬ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

ফলোঅন না ‘অফ’ জানেন না তাইজুলও!

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৪ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

ফলোঅন এড়াতে জিম্বাবুয়ের করতে হতো ৩২৩ রান। ১৯ রানের আক্ষেপে পুড়েছে সফরকারীরা। জিম্বাবুয়েকে ফলোঅনে ফেলবে নাকি বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামবে? রাতভর দ্বিধায় রাখল বাংলাদেশ! তবে তাইজুল বীরত্বে ঢাকা টেস্টের নাটাই এখন বাংলাদেশের হাতে।

জিম্বাবুয়ের থেকে অনেক এগিয়ে স্বাগতিকরা। আনুষ্ঠানিকভাবে দল এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা দিনের নায়ক তাইজুল ইসলামও। বল হাতে আবারো পাঁচ উইকেট নেওয়া তাইজুলও জানেন না দলের সিদ্ধান্ত? তার ভাষ্য, ‘এটা নিয়ে কোন কথা হয় নি!’ সিদ্ধান্ত কি হতে পারে সেই সম্পর্কে কোনো ধারণাও নেই তার। তবে দলের সেরা তারকার বিশ্বাস টেস্টে ভালো ফল পাওয়া যাবে, ‘আমার কাছে মনে হয় আমরা ভালো অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছি। আমরা যাই করি না কেন (ফলোঅন) ভালো করলে ফলাফল ইতিবাচক হবে। আসলে উইকেটের অবস্থাটা এমন, যদি আমরা ডিসিপ্লিন বল করতে পারি তাহলে অসম্ভব কিছুই না। আমি আশাবাদী।’

তৃতয়ি দিনেও উইকেট থেকে ‘প্রত্যাশিত টার্ন’ পায়নি বাংলাদেশের স্পিনাররা। তবে আশা ছাড়ছেন না এ বাঁহাতি স্পিনার, ‘উইকেট কুইক হয়নি। গতকাল (গতপরশু) শার্প টার্ন করছিল, কিন্তু আজ (গতকাল) শার্প টার্ন ছিল না। ভাঙ্গায় পড়ে সচরাচর যেই শার্প টার্ন হয়, সেটা হয়নি। আমরা ওতটা আপসেট হইনি। তবে চতুর্থ ও পঞ্চম দিন তো আছেই। উইকেট যত সময় যাবে তত খারাপ হবে।’

তৃতীয় দিনটিও খারাপ যানি বাংলাদেশের। ব্রেন্ডন টেলরের সেঞ্চুরির পর বল হাতে ৫ উইকেট নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। ব্যাট-বলের লড়াইয়ে ঢাকা টেস্টের তৃতীয় দিনটা দারুণ কেটেছে। নির্বিষ দিনের শেষটা যে এতো সুন্দর হতে পারে তা হয়তো কল্পনাতেও আনেনি কেউ! দিনের দুই সেশনে জোড়ায় জোড়ায় উইকেট। শেষটায় ডাবল। দিনের আলোয় দিনটা সুন্দর করে রাঙাতে না পারলেও পড়ন্ত বিকেলে আঁকা হয়েছে রংধনুর সাত রং।

বিশেষ করে তাইজুলের জন্য তো দিনটা বেশ স্মরণীয়। ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ পাঁচ উইকেট শিকার, টানা তৃতীয়। এমন কীর্তি বাংলাদেশের আছে এনামুল ও সাকিবের। দুজনের পাশে নাম লিখিয়ে তো তাইজুল এখন উড়ছেন নীল আকাশে।

তবে তার আনন্দ ভিন্ন জায়গায়। জিম্বাবুয়েকে ফলোঅনে ফেলার আনন্দ তো কম নয়। বাংলাদেশের করা ৫২২ রানের পুঁজির বিপরীতে প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়ে করেছে ৩০৪ রান। ২১৮ রানের লিড বাংলাদেশের। সিলেট টেস্ট হারের পর ঢাকা টেস্টে ব্যাটসম্যানরা দিয়েছেন জয়ের ভিত। বোলাররাও দিলেন দারুণ সাড়া। বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল কীর্তির পাশাপাশি বল হাতে জ্বলেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ডানহাতি এ অফ-স্পিনার পেয়েছেন ৩ উইকেট। সিলেট টেস্টে অভিষিক্ত হওয়া আরিফুলের পকেটে গেছে ১ উইকেট। চাতারা চোট পাওয়ায় ছিটকে গেছেন টেস্ট থেকে।

দিনের মধ্যভাগে বাংলাদেশের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠেন ব্রেন্ডন টেলর ও পিটার মুর। ১৩১ রানে পঞ্চম উইকেট হারানোর পর জুটি গড়েন তারা। দুজনের ষষ্ঠ উইকেটে ১৩৯ রানের জুটিতে জিম্বাবুয়ে দারুণ জবাব দেয়। কিন্তু জুটি ভাঙার পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে যায় সফরকারীদের ব্যাটিং অর্ডার।

তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন টেলর। ভাগ্যের ছোঁয়াও ছিল তার বীরত্বপূর্ণ ইনিংসে। ৯৪ রানে মিরাজের বলে মুশফিক তার ক্যাচ ছাড়েন। বিচলিত না হয়ে বাড়তি আত্মবিশ্বাস প্রাণে সঞ্চার হয়। তাইজুলের বলে ইনসাইড আউট শটে কভারের ওপর দিয়ে বাউন্ডারি মেরে ৯৫ থেকে ৯৯ রানে পৌঁছান। এক ওভার পর তাইজুলের বলে দুই রান নিয়ে ক্যারিয়ারের পঞ্চম এবং দেশের বাইরে প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ পান টেলর।

টেলরের সেঞ্চুরির আগে অবশ্য বাংলাদেশ পেয়ে যায় ষষ্ঠ উইকেট। গলার কাঁটা হয়ে উঠা টেলর ও মুরের জুটি ভাঙেন আরিফুল। ৮৩ বলে এলডবিøউ হন। এরপর টেলর ১১০ রানে ফেরেন তাইজুলের দুর্দান্ত ক্যাচে। মিরাজের বল স্কয়ার লেগ ও মিড উইকেটের মাঝ দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ দেন টেলর। নিজের বিপরীত দিকে ঝাঁপিয়ে বল তালুবন্দি করেন তাইজুল। ১৯৪ বলে ১০ চারে ১১০ রানের ইনিংসটি সাজান তিনি। টেলর ফেরার এক বল পরই মাভুতাকে ¯িøপে তালুবন্দি করান মিরাজ। সফরকারী শিবিরে শেষ আঘাতটি করেন তাইজুল। বাঁহাতি স্পিনারের বলে শর্ট লেগে মুমিনুলের হাতে ক্যাচ দেন চাকাভা। প্রথম দিন বোলিং করার সময় ইনজুরিতে পড়া টেন্ডাই চাতারা আর ব্যাট হাতে নামতেই পারেন নি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।