Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৩ পৌষ ১৪২৫, ৯ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

মালয়েশিয়া

প্রতারণার ফাঁদে মালয়েশিয়া : গমনেচ্ছু কর্মীরা

বরিশাল ব্যুরো : | প্রকাশের সময় : ১৪ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

 প্রতারণার ফাঁদে পড়ে মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু কর্মীরা দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। মালয়েশিয়া থেকে ১৫ জন কর্মী নিয়োগের কাগজপত্র এনে ভিসা করেও এসব কর্মীদের মালয়েশিয়া পাঠাতে পারেনি অভিযুক্ত লাবিব ইন্টারন্যাশনাল (আরএল-১১৫০) কর্র্তৃপক্ষ। লাবিব ইন্টারন্যাশনালের মালিক হাবিবুর রহমান (রতন তালুকদার) এসব কর্মীকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে প্রায় ২০ লাখ টাকা নেন বিগত ১৮ মাস আগে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। লাবিব ইন্টারন্যাশনালের মালিক রতন তালুকদার ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ১৫ জনের ভিসা করে দিয়েছি। তাদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর দায়িত্ব আমার না। প্রবাসী মন্ত্রণালয়ে অভিযোগদাতা রাকিব হোসেনের কাছে ১২ লাখ টাকা পাবেন বলেও রতন দাবী করেন। কেরাণীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বরস্থ মহাকাল মিডিয়া এন্ড ট্যুরিজম লিঃ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকিব হোসেনের মাধ্যমে এসব কর্মী লাবিব ইন্টারন্যাশনালের মালিককে উল্লেখিত টাকা পরিশোধ করে। গত ৮ অক্টোবর রাকিব হোসেন প্রতারণার শিকার এসব কর্মীর আত্মসাতকৃত টাকা উদ্ধার এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রবাসী মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির কাছে লিখিত অভিযোগ পেশ করে। প্রবাসী মন্ত্রী লাবিব ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রবাসীকে নিদের্শ দিয়েছেন। কিন্ত অদ্যবধি এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

বাগেরহাটের মোঃ নাজিম উদ্দিন, খুলনার মোঃ বাবুল সর্দার, সাভারের খোরশেদ আলম, আকতার হোসেন, নরসিংদীর মোঃ রুহুল আমিন, ঢাকার কদমতলী থানার মোক্তার হোসেন তালুকদার, সাভারের মোঃ কোরবান আলী, যশোরের মনিরুল ইসলাম, মৌলভীবাজারের জামাল মিয়াসহ ১৫ জনের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা নিয়ে ভিসা করা হয়। কিন্ত লাবিব ইন্টারন্যাশনাল ভিসাপ্রাপ্ত এসব কর্মীকে মালয়েশিয়া পাঠাতে ব্যর্থ হয়। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো বন্ধ হয়ে গেছে বলে প্রতারণার শিকার কর্মীদের পাসপোর্ট রাকিবের কাছে ফেরত দেয়া হয়। কিছু দিনের মধ্যে কর্মীদের টাকা ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রæতি দেয়া হয়। বিষয়টি এজেন্সীর সিইও ও তার স্ত্রীকে অবহিত করেও কোনো সুরাহ পাওয়া যায়নি। রাতে এজেন্সীর স্বত্বাধিকারী হাবিবুর রহমান রতন তালুকদার এক প্রশ্নের জবাবে ইনকিলাবকে বলেন, এসব কর্মীর ভিসা করে দিয়েছি। তাদের মালয়েশিয়া পাঠানোর দায়িত্ব আমার না। রাকিবের কাছে ১২ লাখ টাকা পাওয়ার দাবী করে তিনি বলেন, রাকিব আমাকে ৪০ হাজার টাকার চেক দিয়েছে। উল্লেখিত কর্মীদের সাথে কোনো প্রতারণা এবং অর্থ আত্মসাত করেননি বলেও রতন তালুকদার দাবী করেন।

রাকিব হোসেন বলেন, রতন তালুকদার মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু কর্মীদের সাথে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাত করেছে। তিনি এ ব্যাপারে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর