Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৬ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

মনোনয়নপত্র নেয়া-জমায় শোডাউন নয় : ইসি

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৪ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:২৮ এএম

তিন দিন আগেও সরকারি দলের নেতারা মিছিল ও শোডাউন করে দলী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও বিএনপি সেই সুযোগ পাচ্ছে না। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেয়ার সময় শোডাউন করা নির্বাচনী আচরণ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন উল্লেখ করে রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের সশস্ত্র বাহিনীকে সস্পৃক্ত করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য ইসি সশস্ত্র বাহিনীর ৬৪ জন কর্মকর্তা এবং ২১০ জন জেসিও ও অন্যান্য পদবির সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, প্রধান বিরোধী পক্ষ বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়নপত্র নেয়ার সময় নেতাকর্মীদের শোডাউন দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ইসি এই সতর্কতার আদেশ জারি করেছে। ইসির আদেশে বলা হয়েছে, তফসিল ঘোষণার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা জমা দেয়ার সময় মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনসহকারে মিছিল ও শোডাউন করা হচ্ছে, যা সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী আচরণ বিধিমালা ২০০৮-এর ৮ নম্বর বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আদেশে আরও বলা হয়, উল্লিখিত বিধান অনুসারে পরবর্তীতে রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং সহাকরী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন নির্দেশনা প্রদান করছে।
এই ধরনের চিঠি পুলিশ মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার এই চিঠি পাঠানো হয়। সংসদ নির্বাচনের পুনঃতফসিল অনুযায়ী ভোটের দিন ৩০ ডিসেম্বর ( রোববার) ভোট। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৮ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ২ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর।
ইভিএমের কেন্দ্রে থাকবে সেনাবাহিনী
ইসি সচিবালয় থেকে প্রশিক্ষণের জন্য জনবল চেয়ে গত ১২ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে সই করেছেন ইসি সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক আবদুল বাতেন। আবদুল বাতেন সাংবাদিকদের বলেন, মূলত ইসির জনবল ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পরিচালনা করবে। সে জন্যই জনবল চাওয়া হয়েছে। চিঠিতে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে জানানো হয়েছে, ইসি ইতিমধ্যে স্বল্প পরিসরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইভিএমে ভোট গ্রহণ করেছে। আসন্ন সংসদ নির্বাচনেও স্বল্প পরিসরে ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ইসি। এ জন্য ইসি উপজেলা ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তাদের ইভিএম পরিচালনার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ইভিএম পরিচালনার জন্য ইসির যে জনবল আছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এই জনবল দিয়ে সারা দেশে ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা অসম্ভব। এ জন্য সশস্ত্র বাহিনীর প্রত্যেক ঘাঁটি, অঞ্চল ও ডিভিশন থেকে কর্মকর্তা, জেসিও ও অন্যান্য পদবির সামরিক সদস্যদের ৩ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। চিঠিতে বলা হয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে স্ব স্ব ঘাঁটি, অঞ্চল ও ডিভিশনের প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবলকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য প্রশিক্ষণ দেবেন। পরবর্তী সময় সামরিক কর্মকর্তা ও সদস্যরা আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে জনসাধারণকে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ