Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৫ পৌষ ১৪২৫, ১১ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

চলছে প্রস্তুতি : কাল ১৫০ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন

স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনে নজর রাখছে ইউএনএইচসিআর

কূটনৈতিক সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ১৫ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:০৪ এএম

আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া রোহিঙ্গাদের প্রথম পর্যায়ের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সহযোগিতায় সকল ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। তবে প্রত্যাবাসনের চূড়ান্ত সাফল্য নির্ভর করছে রোহিঙ্গাদের ‘স্বেচ্ছায়’ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তের ওপর। এদিকে, ইউএনএইচসিআর রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করবে যাতে কেউ বাধ্য হয়ে শিবির ছেড়ে না যায়।
গতকাল মঙ্গলবার এসব তথ্য জানান রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করা এক সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তার দেয়া তথ্যমতে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রত্যাবাসন শুরু করার উদ্দেশে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। কাল ১৫ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রত্যেক দিন ১৫০ জন রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফিরিয়ে দেয়ার কাজ চলবে। কর্মকর্তারা জানান, ১৫-৩০ নভেম্বর প্রথম ব্যাচের প্রত্যাবাসনে যাচাইকৃত রোহিঙ্গাদের গ্রামভিত্তিক তালিকা দিয়েছে মিয়ানমার।
এর আগে ১৫ নভেম্বর থেকে প্রথম পর্যায়ে ৪৫০ জন হিন্দুসহ ৪৮৫ পরিবারের মোট ২,২৬০ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত নেয়ার বিষয়ে সম্মত হয় বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, মোট ৪৫০ জন হিন্দু স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে চায় এবং তাদের মধ্যে ৬৬ জনের বৈধ দলিল রয়েছে।
দু’দেশের মধ্যে সবশেষ জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে ২২ হাজার ৪৩২ জন রোহিঙ্গার নতুন তালিকা মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ। এক কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত ২২ হাজার ৪৩২ জন রোহিঙ্গার নাম-পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হয়নি। মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সেক্রেটারি মিয়ান্ট থু জানান, তারা প্রায় পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে যাচাই-বাছাই করেছেন।
গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী দ্বারা অত্যাচার নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়ে দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়।
শুরুতে মানবিক কারণে আশ্রয় দেয়া হলেও রোহিঙ্গাদের জন্য অর্থনীতি ও পরিবেশের পাশাপাশি বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয় বাংলাদেশ। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা তথা আন্তর্জাতিক সপ্রদায় বাংলাদেশ এবং রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং মিয়ানমারের কঠোর সমালোচনা করে আসছে।
বস্তুত আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়ের এই চাপের মুখেই মিয়ানমার তাদের নাগরিক রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। তবে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কবে নাগাদ শেষ হতে পারে সে ব্যাপারে কোনো দেশের কাছে সুস্পষ্ট কিছু জানা না গেলেও এটি যে দীর্ঘ সময় লাগবে সে ব্যাপারে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ