Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৬ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু আজ

সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন : বন্ধের আহ্বানন জাতিসংঘের

কূটনৈতিক সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৫ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রথমদিন ৩০ পরিবারের ১৫০ জন রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তবে ইউএনএইচসিআর’র (জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা) রিপোর্ট পেলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে বলে জানিয়েছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম। গতকাল বুধবার বিকেলে কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এদিকে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান। গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান মিশেল ব্যাচেলেট বলেন, রোহিঙ্গারা ফেরত যাওয়া নিয়ে আতঙ্কিত। জেনেভায় দেওয়া এক বিবৃতিতে ব্যাচেলেট বলেন, আমরা কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ভয় প্রত্যক্ষ করছি। তারা নিজ ইচ্ছার বিরুদ্ধে মিয়ানমারে ফেরত যেতে বাধ্য হওয়ার ঝুঁকিতে আছে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম সাংবাদিকদের বলেন, প্রথমে টেকনাফের কেরুনতলী ঘাট দিয়ে নাফনদী পার হয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরুর কথা ছিলো। পরবর্তীতে মিয়ানমারের সঙ্গে আলাপ করে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরের দিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুনধুম পয়েন্টে স্থলপথ দিয়েই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করা হবে। আবুল কালাম আরো বলেন, মিয়ানমার আমাদের জানিয়েছে, তারা যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এমনকি প্রত্যাবাসনের সময় সে দেশের কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীও উপস্থিত থাকতে পারেন।
আনুষ্ঠানিকতা কি হতে পারে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটিই আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা এদিক থেকে পাঠাবো, তারা ওদিকে থেকে গ্রহণ করবে। এছাড়া ভেরিফিকেশনের কিছু বিষয় আছে। চিরাচরিত আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম করা হবে। তবে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র সম্মতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে তারা এখনো কিছু জানায়নি। আমরা সেই রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি। তাদের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত সিদ্বান্ত জানা যাবে।
অন্যদিকে, রাহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান মিশেল ব্যাচেলেট। গত মঙ্গলবার মিশেল ব্যাচেলেট বলেন, রোহিঙ্গারা ফেরত যাওয়া নিয়ে আতঙ্কিত। কিন্তু বাংলাদেশী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহেই মিয়ানমারে ২ হাজার ২০০’র বেশি রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন শুরু হবে।
জেনেভায় দেওয়া এক বিবৃতিতে ব্যাচেলেট বলেন, শরণার্থীদের বা আশ্রিতদের জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে ‘নন-রিফাউলমেন্ট’ নীতির পরিষ্কার লঙ্ঘন। এই নীতি অনুসারে, শরণার্থী বা আশ্রিতদের এমন কোন জায়গায় যেতে বাধ্য করা যাবে না যেখানে তারা নিপীড়নের শিকার হতে পারে বা যেখানে তাদের জীবন গুরুত্বর ঝুঁকিতে থাকবে।
এদিকে, মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সরকার নিশ্চিত করেছে যে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ রোহিঙ্গাদের নিজ ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে। কাউকেই তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে রাখাইনে ফেরত যেতে বাধ্য করা হবে না।
আজ বৃস্পতিবার থেকে একটানা ১৫ দিন প্রথম ব্যাচের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চলবে। প্রথম ব্যাচে ৪৮৫ পরিবারের ২ হাজার ২৬১ জন রোহিঙ্গা কক্সবাজারের শিবির থেকে তাদের নিজেদের বসত ভিটা মিয়ানমারে ফিরে যাবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ লুইন ও গত সোমবার সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ