Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৫ পৌষ ১৪২৫, ১১ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

কৃত্রিম থেকে প্রাকৃতিক হচ্ছে কিলোগ্রাম মাণদন্ড

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৫ নভেম্বর, ২০১৮, ৬:৩৮ পিএম

ফ্রান্সের ভার্সেই শহরে বিজ্ঞানীদের ২৬তম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আগামীকাল শুক্রবার ভোটাভুটিতে বাতিল হবে আন্তর্জাতিক ওজন পরিমাপের ‘কিলোগ্রাম’ মাণদন্ড ‘ল্য গ্রঁদ কে’। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই সম্মেলনের শেষদিন এই কিলোগ্রাম বাটখারার বদলে বিজ্ঞানীরা আহ্বান জানাবেন নতুন এক কিলোগ্রামকে।

পৃথিবীর সব জায়গায় মাপজোকের সমতায় একটি মাণদন্ড ব্যবহার ফরাসি বিপ্লবের অবদান। রক্তক্ষয়ী ওই অভ্যুত্থানেই এসেছে মেট্রিক মাপজোক। প্লাটিনামের তৈরি একটা দণ্ড হল মিটার, আর একটা পিণ্ড হল কিলোগ্রাম। ৯০ বছর পরে আইফেল টাওয়ার তৈরির বছরে মাপজোক বিজ্ঞানীদের প্রথম সম্মেলনে প্লাটিনাম-ইরিডিয়ামের সিলিন্ডার ‘ল্য গ্রঁদ কে’ নতুন কিলোগ্রাম মাণদন্ড হিসেবে গ্রহণ করা হয়। তারপর থেকে প্যারিসের সেভার নামে এক জায়গায় মাটির নীচে ভল্টে কাচের গোলকে রাখা আছে সেটি।
কিন্তু এই ব্যবস্থায় বিজ্ঞানীরা মোটেই খুশি নন। ল্য গ্রঁদ কে-কে বাইরে এনে দেখা গিয়েছে, তার ওজন কমেছে এক মিলিগ্রামের হাজার ভাগের কয়েক ভাগ। মোছামুছিতে মানুষের আঙুলের ছোঁয়ায় খসছে ল্য গ্রঁদ কে-র কিছু পরমাণু। এমন সাবধানে তাকে নাড়াচাড়া করতে হয় যে, রক্ষণাবেক্ষণ যাঁরা করেন, এর সামনে তাঁদের হাঁচিকাশিও বারণ। এ-সব সত্ত্বেও তিলে তিলে ওজন কমছে ল্য গ্রঁদ কে-র। মূলের যদি এই হাল, তা হলে নকলদের কী হবে?
বিজ্ঞানীরা সমাধানের কথা ভেবেছেন দীর্ঘদিন ধরে। মানুষের তৈরি বস্তুর বদলে প্রকৃতির আশ্রয় নেওয়া যাক। প্রকৃতি নিখুঁত, তাই তার সাহায্যে মাপজোক হবে ত্রুটিহীন। মাপ তো শুধু ওজনের নয়, দৈর্ঘ্যের, সময়ের, আরও নানা বিষয়ের। সেকেন্ড কি মাপা হবে দিন-ঘণ্টা-মিনিটের ভগ্নাংশে? তার বদলে এসেছে বিশেষ পরমাণু থেকে জ্যোতি বেরোনোর হিসেব করে। তেমনই মিটার। জানা আছে, আলো শূন্য মাধ্যমে যায় এক সেকেন্ডে ২৯৯,৭৯২,৪৫৮ মিটার। তা হলে মিটারের মাপও হোক আলো এক সেকেন্ডের ২৯৯,৭৯২,৪৫৮ ভাগের এক ভাগে যতটা দুরত্ব অতিক্রম করে, ততটা।
এ ভাবেই কিলোগ্রামের নতুন মাপ ঠিক হচ্ছে প্রকৃতির সাহায্য নিয়ে। এ ব্যাপারে পথ দেখাচ্ছেন প্রয়াত নোবেলজয়ী জার্মান বিজ্ঞানী মাক্স প্লাঙ্ক। তাঁর নামাঙ্কিত একটা ধ্রুবক বিজ্ঞানে হিসেবনিকেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। যার নাম ‘প্লাঙ্ক’স কনস্ট্যান্ট’। প্লাঙ্ক ওই ধ্রুবকে পৌঁছেছিলেন আলোর এনার্জি আর কম্পাঙ্কের সম্পর্ক খুঁজতে গিয়ে। এই সম্পর্কে মানুষের কোনও হাত নেই। তা নেহাতই প্রকৃতির দান। এবং সেই সূত্রে অজর-অমর। ‘প্লাঙ্ক-স কনস্ট্যান্ট’-এর মান ০.০০০, ০০০, ০০০, ০০০, ০০০, ০০০, ০০০, ০০০, ০০০, ০০০, ০০০, ৬৬২, ৬০৭, ০১৫ কিলোগ্রাম বর্গমিটার/সেকেন্ড। যে-হেতু ওই মানের মধ্যে কিলোগ্রাম জিনিসটা আছে, তাই ‘প্লাঙ্ক-স কনস্ট্যান্ট’ থেকে কিলোগ্রামের নিখুঁত মাপ পাওয়া যায়।
শুধু কিলোগ্রাম নয়, অ্যাম্পিয়ার (বিদ্যুতের পরিমাণ), কেলভিন (তাপমাত্রা) এবং মোল (পদার্থের পরিমাণ) এই তিন এককেও বদল আসবে শুক্রবার ভার্সেইয়ের সম্মেলনে। তবে কিনা ও-সব আগেই সূক্ষ্মতর হয়েছে প্রকৃতির অবদানে। এ বার শুধু নিখুঁতের মান বাড়ানোর পালা। শুধু কিলোগ্রামই এত দিন পড়েছিল মানুষের অবদান হিসেবে। এ বার তার পালাবদল।
কিলোগ্রাম বদলানোর উদ্যোগ সম্পর্কে চমৎকার মন্তব্য করেছেন আমেরিকায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলোজির বিজ্ঞানী স্টিফেন স্খলামিঙ্গার। তাঁর মতে, ‘ভিন গ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণীর সঙ্গে আমাদের দেখা হলে ওরা আমাদের জিজ্ঞাসা করবে, আমরা জিনিসপত্র মাপি কী করে? যদি বলি, আমাদের হাতে তৈরি জিনিসের তুলনায় মাপামাপি করি, তা হলে ওরা আমাদের ভাববে বোকা। এত দিনে আমরা চালাক হচ্ছি।’ সূত্র: সিএনএন।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ