Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৫ পৌষ ১৪২৫, ১১ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

নাগরিকত্ব বিল বাতিল না করলে সশস্ত্র বিপ্লবের হুমকি উলফার

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৫ নভেম্বর, ২০১৮, ৮:৪৬ পিএম

ভারতের নিষিদ্ধ ঘোষিত ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব অসম (ইনডিপেনডেন্ট) নয়া দিল্লিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, কেন্দ্রিয় সরকার যদি নাগরিকত্ব (সংশোধন) বিল নিয়ে এগিয়ে যায় তাহলে সশস্ত্র বিপ্লব শুরু করা হবে। খবর পিটিআই।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অনুপ চেটিয়া হুশিয়ার করে দিয়ে বলেন, আমরা আগেই সরকারকে স্পষ্ট করে বলেছি যে তারা নাগরিকত্ব বিলের সমর্থকদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করতে পারে না। বিলটি যদি পাস হলে শত শত তরুণ সশস্ত্র বিপ্লবে যোগ দেবে। তিনি বলেন, এই বিলের কারণে আসামবাসী তাদের ঐতিহ্য হারানোর আশংকা করছে।
গত ১ নভেম্বর তিনসুকিয়া জেলায় পাঁচ বাংলাভাষী হিন্দুকে হত্যার সঙ্গে এই জঙ্গি গ্রুপটি জড়িত বলে ধারণা করা হয়। যদিও এতে জড়িত থাকার কথা উলফা অস্বীকার করেছে। ওই হামলায় এক জন আহত হয়।
ভারতের ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে লোকসভায় এই বিল আনা হয়। এই বিল পাস হলে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে পারি জমানো মুসলমান ছাড়া অন্যান্য সংখ্যালঘু ধর্মীয় গোষ্ঠী: হিন্দু, খৃষ্টান, বৌদ্ধ, শিখ, জৌন ও পার্সিরা কোন বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই নাগরিকত্ব লাভের অধিকারী হবে। এসব গোষ্ঠীর সদস্যদের নাগরিত্ব পাওয়াও সহজ হবে বিলটি পাসের পর।
চেটিয়াকে উদ্ধৃত করে নর্থ ইন্ট নাউ লিখে, আরো তরুণ যদি উলফায় যোগ দেয় তার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার দায়ি হবে। সরকার যদি বিলটি প্রত্যাহার না করে তাহলে উলফায় আরো আসামিয় তরুণ যোগ দেবে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। পুরো বিষয়টি রাজ্যের তরুণ ও জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদের নতুন চেতনা সৃষ্টি করেছে।
আসাম পুলিশের বিশেষ শাখার এসপি পল্লব ভট্টাচার্য গত রোববার বলেন যে বিলটির বিরুদ্ধে গণরোষ তৈরি হওয়ায় নিষিদ্ধ সংগঠনটি নতুন জীবন লাভ করছে। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ তরুণ এই গ্রুপটিতে যোগ দিয়েছে। আরো কয়েক তরুণকে আটক করা হয়েছে গ্রুপটির সঙ্গে যোগদানের চেষ্টা করায়।
উলফার সিনিয়র সদস্য রাজু বড়ুয়া বলেন, শান্তি চাইলে সরকারকে নাগরিকত্ব বিল পরিহার করতে হবে। তাদেরকে বিষয়টি বুঝতে হবে। তবে আসাম বিজেপি’র সভাপতি রনজিৎ দাস বলেন, বিলটি নিয়ে জনগণের মধ্যে মিথ্যা ভয় কাজ করছে। তিনি বলেন, শুধু আসামিয় জনগণের সমর্থন নিয়ে রাজ্য সরকার গঠিত হয়। বাঙ্গালি ও অন্যান্য উপজাতীয় গোষ্ঠীর সমর্থনও এই সরকারের প্রতি রয়েছে। জনসমর্থনহীন কিছু গোষ্ঠী জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন রাজ্য বিজেপি’র সভাপতি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ