Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৫ পৌষ ১৪২৫, ১১ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টে এমপিদের হাতাহাতি

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৫ নভেম্বর, ২০১৮, ৮:৪৭ পিএম

প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপালা সিরিসেনার নিয়োগ দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্য অনাস্থা জানানোর একদিন পরেই পার্লামেন্টে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছেন এমপিরা। বৃহস্পতিবার রাজাপাকসের সমর্থক এমপিরা সংঘর্ষে জড়ান রনিল বিক্রমসিংহের এমপিদের সঙ্গে। এদিকে, শ্রীলঙ্কায় এখন কোনো প্রধানমন্ত্রী কিংবা মন্ত্রিপরিষদ নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার কারু জয়সুরিয়া। খবর রয়টার্স।
জানা যায়, গত বুধবার অনাস্থা ভোটে হেরে যান মাহিন্দা রাজাপাকসে। পরদিন বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টের স্পিকার কারু জয়সুরিয়া ঘোষণা করেন, শ্রীলঙ্কার এখন কোনও প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রিসভা নেই। স্পিকার কণ্ঠভোট গ্রহণের সময় রাজাপাকসের সমর্থকরা চিৎকার ও স্লোগান দেন। এরপরই পার্লামেন্টে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
রাজাপাকসে পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে স্পিকারের এই পদক্ষেপকে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তাব সমর্থন করতে এমপিদের প্রতি আহ্বান জানান। এরপরই তার সমর্থক এমপিরা প্রতিদন্ধি দলের এমপিদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। অনেকে স্পিকারের দিকে পানির বোতল ছুড়ে মারেন।
উল্লেখ্য, গত মাসের শেষ দিকে রনিল বিক্রমসিংহকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে বরখাস্ত করে ওই পদে মাহিন্দা রাজাপাকসেকে বসিয়েছিলেন লঙ্কান প্রেসিডেন্ট। তার এ পদক্ষেপ পর্যাপ্ত সমর্থন পাবে না বুঝতে পেরে পরে এক ডিক্রিতে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচনের তারিখও ঘোষণা করেছিলেন ইউনাইটেড পিপলস ফ্রিডম অ্যালায়েন্সের (ইউপিএফএ) নেতা প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা।
ডিক্রির বিষয়ে বিরোধীরা আদালতে গেলে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টের ওই আদেশ স্থগিত করে দেয়। এরপর বুধবার পার্লামেন্ট অধিবেশন বসে। সেখানে ২২৫ সদস্যের মধ্যে ১২২ জনই রাজাপাকসে ও তার সরকারের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবে সমর্থন জানান।
পার্লামেন্ট এমন অবস্থান নিলেও তা মেনে নেননি সিরিসেনা। কারু জয়সুরিয়ার কাছে লেখা এক চিঠিতে তিনি বলেছেন, স্পিকার পার্লামেন্টের নিয়মনীতি, ঐতিহ্য ও সংবিধানকে অবজ্ঞা করেছেন বলে মনে হওয়ায় তিনি বুধবারের অনাস্থা ভোটের ফল গ্রহণ করতে পারছেন না।
শ্রীলঙ্কায় সরকার ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্টই সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাধর। এখানে প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টের নেতৃত্বে থাকলেও নির্বাহী ক্ষমতা থাকে প্রেসিডেন্টের হাতে। মন্ত্রিসভাও তার অধীনেই পরিচালিত হয়।
২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকা রাজপাকসের মন্ত্রিসভার একজন সদস্য ছিলেন সিরিসেনা। পরে রাজাপাকসের ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে তার বিরুদ্ধেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়ান এ ইউপিএফএ নেতা। সেসময় তাকে সমর্থন দেন বিক্রমসিংহ; দু’জনের জোট পরে সংসদেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দিল্লির সঙ্গে বিক্রমসিংহের ইউএনপির ঘনিষ্ঠতা এবং সিরিসেনাকে হত্যায় ‘ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থার জড়িত থাকার অভিযোগ’ নিয়ে দলটির সঙ্গে ইউপিএফএর মিত্রতায় ছেদ পড়ে। এরপরই এক সময়ের মিত্র রাজাপাকসের দিকে ঝুঁকে পড়েন সিরিসেনা।
ক্ষমতাকেন্দ্রীক রেষারেষির এক পর্যায়ে গত ২৬ অক্টোবর সিরিসেনার ইউপিএফএ ক্ষমতাসীন জোট সরকার ছেড়ে দিলে বিক্রমসিংহকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট। যা দেশটির রাজনৈতিক সঙ্কটকে তীব্রতর করে তোলে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসেকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ পড়ানো হলেও ক্ষমতা ছাড়তে রাজি হননি বিক্রমসিংহ। নিজেকে ‘বৈধ প্রধানমন্ত্রী’ দাবি করে সিরিসেনার পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।
সাংবিধানিক জটিলতা এড়াতে সিরিসেনা পরে শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগামী বছরের ৫ জানুয়ারি নতুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে ডিক্রি জারি করেছিলেন।
ইউএনপিসহ ১০টি বিরোধী দল ওই আদেশকে ‘অসাংবিধানিক’ অ্যাখ্যা দিয়ে আদালতে গেলে সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার পার্লামেন্ট ভাঙার আদেশ স্থগিত করে দেন। পার্লামেন্ট নতুন প্রধানমন্ত্রীকে স্বীকৃতি না দেওয়ায় রাজনৈতিক সঙ্কট আরও ঘনীভূত হয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ