Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৬ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

পোকামাকড় দিয়ে হবে উন্নত প্রযুক্তির চাষ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৬ নভেম্বর, ২০১৮, ৯:০০ পিএম

ক্ষতিকর পোকা-মাকড় থেকে ফসল রক্ষা করতে ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার না করে বিকল্প উপায় নিয়ে অনেকদিন ধরেই গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। এবার পোকা-মাকড় দিয়েই পোকা-মাকড় ধ্বংস করে ফসল বাঁচানোর বিকল্প পদ্ধতি তুলে ধরেছেন জার্মান বিজ্ঞানীরা। খবর ডয়েশ্চ ভ্যালে।
বন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা একটি শহরের ক্ষেতে নিয়মিত কীটপতঙ্গ পর্যবেক্ষণ করেন৷ কীটপতঙ্গ দূর করার বদলে কৃষিকাজকেই তাদের সঙ্গে মানিয়ে চলতে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন তারা৷ তারা ক্ষেতের আলের দিকে সবার আগে নজর দেন৷ ঝোপঝাড় ও জংলি ফুল দিয়ে সাজানো সেই সীমানা প্রতিনিয়ত আকৃষ্ট করে অসংখ্য পোকা-মাকড়৷
বন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোফেসর টোমাস ড্যোরিং ও তার টিম এভাবে ক্ষেতে আরও কীটপতঙ্গ আকর্ষণ করতে চান৷ সেই ঝোপের মধ্যে ৫০টিরও বেশি প্রজাতির গুবরে পোকা শীতযাপন করে৷
প্রো. ড্যোরিং বলেন, ‘এটা এক ধরনের গুবরে পোকা, সেটি নানা রকম অনিষ্টকারী কীট খেয়ে ফেলে৷ তাদের বিশাল ঝাঁক ক্ষেতের উপর উড়ে বেড়িয়ে সেই সব কীট ধ্বংস করে৷ এই গুবুরে পোকা সতের সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে৷ মূলত এটির মুখের কাছে থাকা অস্বাভাবিক বড় চোয়ালের কারণে এটিকে এত লম্বা মনে হয়৷
কৃষি পরিবেশবিদরা ক্ষেতের ধারে এমন সব উপকারী পোকামাকড়ের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করেন, যারা ক্ষতিকারক কীট খেয়ে ফেলে৷ ফলে কীটনাশকের আর প্রয়োজন পড়বে না বলে তাদের আশা৷ প্রো. টোমাস ড্যোরিং বলেন, ‘এখানেই লেডিবাগ প্রজাতির শূককীট রয়েছে, যারা অ্যাফিড বা জাবপোকা খায়৷ সার্বিক একটা প্রণালী হিসেবে আমরা উপকারী পোকামাকড়ের মাধ্যমে ক্ষতিকারক কীটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে পারি৷ তবে তাদের একেবারে নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব হবে না৷ তা সত্ত্বেও আমরা গোটা কাঠামোকে স্থিতিশীল করে তুলতে পারি৷’
ক্ষেতের ধারে গবেষকরা ফুলের সারি সৃষ্টি করেছেন৷ ফুলগুলি একসঙ্গে ফোটে না, একের পর এক তাদের বিকাশ ঘটে৷ ফলে পোকামাকড়ের খাদ্যের অভাব হয় না৷ প্রো. ড্যোরিং বলেন, ‘এখানে যেমন দেখা যাচ্ছে, নানা ধরনের পোকা এই ফুল ব্যবহার করতে পারে৷ ক্ষেতের ফাঁক দিয়ে ট্রাকটর চলে৷ ফলে সেখানকার মাটি সাধারণত বেশ শক্ত হয়৷ সে কারণে অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এর তেমন উপযোগিতা নেই৷ মাটির এমন বৈশিষ্ট্যের ফলে সেখান থেকে আয়ের অঙ্ক কম৷ আয়ের চিন্তা না থাকায় সেই জায়গা পোকামাকড় আকর্ষণ করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে৷’
শুধু ধারে নয়, এই ক্ষেতের উপরের অংশও জার্মানির বেশিরভাগ ক্ষেতের থেকে ভিন্ন৷ গবেষকরা আগাছা ধ্বংস করতে কোনো রকম রাসায়নিক ব্যবহার করেন না৷ ফলে পোকারা ক্ষেতের মধ্যেও খাদ্য সংগ্রহ করতে পারে, যেমন বীজ, পরাগ, ক্যামোমিল ইত্যাদি৷
ক্ষেতের ধারে ফুলের মেলা, কোনো কীটনাশক নয়, সারের পরিমাণও কম এবং ফসল পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপ বেশ সফল হচ্ছে৷ প্রচলিত কৃষিক্ষেত্রের তুলনায় এখানে জীববৈচিত্র্য প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি৷ সেইসঙ্গে পরাগবহনকারী পোকাদের মাত্রা ৫০ শতাংশ বেশি৷



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ