Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৬ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

ভোটযুদ্ধের প্রস্তুতি : ক্ষুব্ধ শরিকরা দ্রুত ফায়সালা চায়

ইয়াছিন রানা | প্রকাশের সময় : ১৭ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:১৯ এএম

আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বাংলাদেশ নিয়ে বিতর্ক শেষে ভোটাভুটির মাধ্যমে খসড়া প্রস্তাবে বলেছে, এই নির্বাচনই শেষ সুযোগ। ভারতের আত্মোপলব্ধি হওয়ায় এবার দিল্লির প্রত্যাশা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। চীনও চায় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা। জাতিসংঘ-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একই প্রত্যাশায় প্রহর গুনছে। বিশ্বের যখন এই অবস্থা, তখন বাংলাদেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রায় সব রাজনৈতিক দল। নির্বাচন নয়, চলছে যেন ভোটযুদ্ধে নামার মহাসমারোহ। দলীয় মনোনয়ন বিক্রির পর আজ আওয়ামী লীগের আসন ভাগাভাগি নিয়ে শরিকদের সঙ্গে সংলাপে বসার কথা। অন্যদিকে হামলা-মামলায় জর্জরিত বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছে নমিনেশন বিক্রিতে গড়েছে রেকর্ড। দলীয় প্রার্থীদের সাক্ষাতকার পর্ব শুরু করবে তারা রোববার

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেয়ার আর বাকী মাত্র ১২ দিন। বার বার তাগাদা দেয়ার পরও এ বিষয়ে কোন ফায়সালা না হওয়ায় প্রচন্ড ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগের শরিকরা। তবে শরীকদের কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না; ভরসা রাখাছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর। কিন্তু শেষ সময়ে অতি দ্রুত আসন বণ্টন নিয়ে ফায়সালা চায় দলগুলো। আজ ১৪ দলের সভায় এ নিয়ে শরিক দলগুলোর নেতারা এ জোর দাবি জানাবেন বলে জানা গেছে। তবে উইনেবল প্রার্থী না হলে জোটের মনোনয়ন দেয়া হবে না আওয়ামী লীগের এমন অবস্থানে বেশ টেনশনে রয়েছে দলগুলো। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এই বার্তা ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন।
সুত্র জানায়, আওয়ামী লীগের সঙ্গে শুধু ১৪ দলীয় জোটের শরীকই নয়; এর বাইরেও এইচ এম এরশাদের জাতীয় পার্টি, অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর যুক্তফ্রন্ট, ইসলামীক ডেমোক্রেটিক এল্যায়েন্স, নাজমুল হুদার বিএনএ, জাকের পার্টি, ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামী ঐক্যজোটসহ আরো কয়েকটি দল রয়েছে যাদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করতে হবে। কিন্তু ১৪ দলীয় জোটের শরীকরা চায় দ্রুত তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানানো হোক।
তবে শরিক নেতাদের বক্তব্য, বিভিন্ন আসনে জাতীয় পার্টির এমপি ও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের অবস্থানও নড়বড়ে। শুধু ১৪ দলের শরিকরা নয়, জোট ছাড়া জাতীয় পার্টির নেতারাও নির্বাচন করলে রংপুরের কিছু আসন বাদে কেউ জয়লাভ করবে না। দলের অনেক এমপিকে চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদও ভাল করে চিনেন না। এরপরও তারা যদি বেশি আসন পেতে পারে তাহলে ১৪ দল পাবে না কেনো। উইনেবল ক্যান্ডিডেটের কথা বলে আসন কম দেয়া হলে এর বিপক্ষে কড়া যুক্তি দেবেন তারা।
সূত্র জানায়, রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এ্যভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সকাল সাড়ে এগারোটার এ বৈঠক অন্যান্য দিনের মতোই নিয়মিত বৈঠক। আসন বণ্টন নিয়ে কোন কথা বলা বা নীতি-নির্ধারণী কোন বৈঠক নয়। কারণ বৈঠকে জোটের মুখপাত্র আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম উপস্থিত থাকলেও দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের কেউ থাকছেন না। তাই এ বিষয়ে শরিকদের কথা শুনে এবং তাদের প্রত্যাশার কথা জেনে কোন নির্দেশনামূলক বার্তা দেবার সুযোগ নেই। এছাড়া আজকের বৈঠকের বিষয়ে গতকাল রাত আটটা পর্যন্ত শরিক নেতারা জানতেন না বলেও জানা যায়।
তবে এরপরও শরিক দলগুলোর নেতারা নির্বাচনকে সামনে রেখে আসন বণ্টন নিয়েই কথা বলবেন। শেষ সময়েও আওয়ামী লীগ শরিকদের ঝুলিয়ে রাখায় প্রচন্ড বিরক্ত। বৈঠকের পর বৈঠক হলেও তাদের কথার কোন ফলাফল দৃশ্যমান হচ্ছে না। গত দশ বছরে মাত্র দুই-তিনটি দল জোটের সুবিধা পেয়েছে এবং এর মধ্যে গুটি কয়েক নেতারা সুবিধা পেয়েছেন। এবারও বেশিরভাগ নেতা হতাশ।
তবে আওয়ামী লীগের বক্তব্য অনুযায়ী উইনেবল ক্যান্ডিডেট ছাড়া কাউকে মনোনয়ন দেয়া হবে না এমন বিষয়ে টেনশনে শরিক দলগুলো। কারণ গত দশ বছরে তাদের নির্বাচিত আসন এবং ছাড়ের জন্য দাবিকৃত আসনে তাদের অবস্থান শূন্যের কোটায়। মাত্র হাতে গোনা দুই-তিনটি আসনে তাদের উইনেবল ক্যান্ডিডেট রয়েছে যারা যে কোন অবস্থায় জয়লাভ করবে এবং তাদের অবস্থান আওয়ামী লীগের প্রার্থীর চেয়ে ভাল।
তবে এ বিষয়ে জোটের এক নেতার বক্তব্য, অবস্থান যাই হোক না কেনো জোট করা হয় বৃহত্তর স্বার্থে। এক দল আরেক দলকে সহযোগিতা করার মানসিকতায়। যদি সব আসনে জয়লাভের যোগ্যতা থাকতোই তাহলে তো জোটবদ্ধ হতাম না।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন গতকাল সন্ধ্যায় ইনকিলাবকে বলেন, বৈঠক সম্পর্কে আমি এখন পর্যন্ত জানি না। হয়তো রাতে জানানো হবে। এ বৈঠক তো নিয়মিত বৈঠক। এখানে জোটের আসন নিয়ে কোন ফায়সালা হবার কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি তালিকা আমরা জমা দিয়েছি কিন্তু এখন পর্যন্ত এসব বিষয়ে কোন কথা হয়নি। কবে আসন নিয়ে ফায়সালা হবে তা-ও জানি না। পুরো বিষয়টি নিয়ে ধোয়াশার মধ্যে আছি। দল থেকে ১৫টি আসনের তালিকা জমা দেয়া হয়েছে, বিষয়টি সঠিক কিনা এই প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে তিনি ‘হ্যা’ সূচক জবাব দেন। এ বিষয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার ইনকিলাবকে বলেন, এ বৈঠক আসন বণ্টনের বৈঠক নয় তবে এ বিষয়ে কথা বলবেন তারা। আসন নিয়ে দ্রুত ফায়সার দাবি জানাবেন। তিনি বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি জটিল। শুধু প্রার্থী দিলেই তো হবে না, উইনেবল হতে হবে। তাই হয়তো দেরী হচ্ছে। বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া ইনকিলাবকে বলেন, এখন বৈঠকের আলোচনা একটি বিষয়েই। তা হল নির্বাচনী টিকিট। এ বিষয়ে ফায়সালার বিষয়ে কথা বলবো।
শরিকদের সঙ্গে আসন বন্টনের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চূড়ান্ত এবং এক সপ্তাহের মধ্যে শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করা হবে।



 

Show all comments
  • জিয়া সামস ১৭ নভেম্বর, ২০১৮, ১:৩১ এএম says : 0
    সমর্থকের কোনো থকর নেই, নেতা হয়ে বসে আছে!
    Total Reply(0) Reply
  • আমিরুল ইসলাম ১৭ নভেম্বর, ২০১৮, ১:৩২ এএম says : 0
    চেয়ারম্যান হওয়ার যাদের যোগ্যতা নেই তারা আবার এমপি হতে চাই?
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammed Khan ১৭ নভেম্বর, ২০১৮, ১:৩২ এএম says : 0
    আমি মনে করি আওয়ামীলীগের জন্য এটা বড় চ্যালেঞ্জ!
    Total Reply(0) Reply
  • Shah Alam ১৭ নভেম্বর, ২০১৮, ১:৩৩ এএম says : 0
    বিজয়ের সম্ভাবনা দেখেই যেন প্রার্থী বাছাই করা হয়।
    Total Reply(0) Reply
  • Monirul Islam ১৭ নভেম্বর, ২০১৮, ১:৩৪ এএম says : 0
    ক্ষুব্ধ হওয়ার এখনও কিছুই হয়নি। সামনে দেখবেন খেলা।
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammed Kowaj Ali khan ১৭ নভেম্বর, ২০১৮, ১:২৫ পিএম says : 0
    সুস্ট নিরবাচন হইলে ওরা পাইবে ডিম হেফাজত হত্যা, হত্যা, খোন, গুম, সব কিচু জনগণ জানেন। ওরা আছে বিরাট সংকটে। লগি আর বৈটা ওদের সরবনাশের মূল। নৌকা চালাইবে কি ভাবে? যেখানে লগি বৈটা কোলংকিত।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ