Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৫ পৌষ ১৪২৫, ১১ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

নির্বাচন তিন সপ্তাহ পেছানোর দাবি বিএনপির

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৭ নভেম্বর, ২০১৮, ৬:০৪ পিএম | আপডেট : ৬:২২ পিএম, ১৭ নভেম্বর, ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তিন সপ্তাহ পেছানোর দাবি জানিয়েছে বিএনপি। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট এমনকি আওয়ামী জোট ছাড়া অন্যান্য সব রাজনৈতিক দল নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার দাবি করছে। কারণ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের যাবতীয় কার্যক্রম এখনও বাকী রয়েছে, তফশীল ঘোষণার সপ্তাহ পরে চলছে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ। অন্যান্য নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগই দেয়া হয়নি। নির্বাচনী গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দলবাজ কর্মকর্তারা বহাল আছেন, তাদের সরিয়ে দিয়ে নিরপেক্ষভাবে প্রশাসন সাজানো হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে সাজানো হয়নি। সুষ্ঠু নির্বাচনের ন্যূনতম কোন পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি কমিশন, মানুষের মন থেকে ভীতি দুর করতে পারেনি। ভোট দেয়া দুরে থাক, মানুষ নির্ভয়ে মুখ খুলে কথা বলবে এমন পরিস্থিতিও দেশে নেই। বর্তমান মন্ত্রী পরিষদ ভেঙ্গে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের। বিরোধী দলগুলোর দাবি অনুযায়ী নির্বাচন তিন সপ্তাহ পেছানোরও দাবি জানান তিনি। শনিবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বর্তমান সরকার এখনো বহাল আছে। একবার বলা হয় নির্বাচনকালীন সরকার ছোট করা হবে, আবার বলা হয় এ সরকারই নির্বাচনকালীন সরকার, অথচ নির্বাচনকালীন সরকার বলতে সংবিধানে কিছুই নেই। সংসদ ভেঙ্গে দেয়া হয়নি। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করার পরও আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, উপদেষ্টা, এমপিরা উন্নয়ন কার্যক্রম উদ্বোধনসহ নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, স্কুল, কলেজসহ বিভিন্ন লাভজনক পদে তারা এখনও দায়িত্ব পালন করছেন। মন্ত্রী-এমপিদের দায়িত্ব পালন সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের কোন আচরণবিধি এখনও তৈরি হয়নি। রিটার্নিং কর্মকর্তারা যারা ডিসি পদ মর্যাদার লোক তারা কিভাবে মন্ত্রী-এমপিদের নিয়ন্ত্রণে রাখবে এ প্রশ্ন মানুষের মুখে মুখে। তারা সর্বদা মন্ত্রী-এমপিদের ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে আছেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে সক্ষম হবে তা মোটেও সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগের নিজেদের মধ্যে হানাহানি ও সহিংসতায় তফসিল ঘোষনার পর ৬ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও অর্ধশত। কই দেখলাম না তো নির্বাচন কমিশনকে কোন ব্যবস্থা নিতে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচনের বিন্দু পরিমাণ কোন পরিবেশ নেই। এতসব ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন পিছিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করা অত্যাবশ্যক। রিজভী অভিযোগ করে বলেন, একজন কমিশনারের মেয়ের বিয়ে, তাই ৩ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কমিশন একমত হলে উক্ত কমিশনার বাধ সাধেন। এছাড়া জানুয়ারির মাঝামাঝিতে বিশ্ব ইজতেমা তাই নির্বাচন পেছানো যাবে না বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত করা হয়েছে। তাই বিরোধী দলগুলোর দাবি অনুযায়ী নির্বাচন তিন সপ্তাহ পেছানোর দাবি জানাচ্ছি। এসময় তিনি সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের চিত্র তুলে ধরেন এবং অবিলম্বে তাদের মুক্তি দাবি করেন। 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ