Inqilab Logo

ঢাকা, রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০২ পৌষ ১৪২৫, ৮ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

মনোনয়ন পেতে দিনাজপুরের ৬ টি আসনে ঐক্যজোট ও মহাজোট প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ

এবার হবে প্রকৃত ভোটের লড়াই, জনগণের মূল্যায়ন নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ

মাহফুজুল হক আনার | প্রকাশের সময় : ১৭ নভেম্বর, ২০১৮, ৭:০৯ পিএম | আপডেট : ৭:১১ পিএম, ১৭ নভেম্বর, ২০১৮

আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যজোট ও আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট প্রার্থীদের মধ্যে দৌড় ঝাপ শুরু হয়ে গেছে। মাঠ পর্যায়ে জেলা ও উপজেলা কার্যালয়ে পুলিশের সতর্ক অবস্থানের কারনে বিএনপি নেতা-কর্মীদের পদচারনা না থাকলেও নির্বাচনে অংশগ্রহনের প্রস্তুতি চলছে বলে ঐক্যজোট নেতারা জানিয়েছে। প্রকাশ্যে মিটিং মিছিল দেখা না গেলেও পাড়া মহল্লায় অফিস-আাদালত চত্বরসহ চা-দোকান সব জায়গাতেই নির্বাচনী আলোচনা। মহাজোট প্রার্থীরা সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে। দিনাজপুরের ৬ টি আসনের মধ্যে ৪ টি আসনে আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পাটি’র একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশি থাকলেও বিএনপি বা ঐক্যজোট ভুগছে প্রার্থী সংকটে।
বীরগঞ্জ-কাহারোল উপজেলা নিয়ে গঠিত দিনাজপুর-১ আসন থেকে আওয়ামীলীগসহ মহাজোটের পক্ষে মনোনয়ন ক্রয় করে জমা দিয়েছেন বর্তমান এমপি আওয়ামীলীগের মনোরঞ্জন শীল গোপাল এর পাশাপাশি বীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকারিয়া জাকা, ছাত্রলীগ নেতা আবু হোসাইন বিপু, এড, হামিদুল হক ও গোপেল চন্দ্র রায়। এছাড়া আরো কয়েকজন মনোনয়ন ক্রয় করলেও জমা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সাবেক জাগপা নেতা বর্তমান এমপি মনোরঞ্জন শীল গোপালের বিরুদ্ধে জোড়ালো আন্দোলনের কারনে কেন্দ্রীয় থেকে শো-কোজের মুখোমুখি হলেও মাঠ পর্যায়ের চিত্র পাল্টায়নি।
অপরদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন ক্রয় করেছেন, বীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সভাপতি শিল্পপতি মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, কাহারোল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মামুনুর রশিদ চৌধুরী, যুবদল নেতা মেহেদী হাসান সুমন ও রেজওয়ানুল ইসলাম। জামায়াতের শক্ত অবস্থান হিসাবে পরিচিত এই আসনে বিএনপি’র সম্মতি সাপেক্ষে বর্তমান বীরগঞ্জ পৌর মেয়র মোঃ হানিফ স্বতন্ত্র হিসাবে মনোনয়ন কিনেছেন বলে একটি সুত্র দাবী করেছে। এই আসনটিতে বতমান এমপি’র বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতা কর্র্মীদের জোড়ালো অবস্থানকে কেন্দ্র কেন্দ্র করে বিরোধী শিবির কৌশল অবলম্বন করতে পারে।

বিরল-বোচাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে দিনাজপুর-২ আসনে আওয়ামীলীগের বর্তমান এমপি ও কেন্দ্রীয় সাংগাঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর পাশাপাশি সাবেক এমপি সতিষ চন্দ্র রায়ের পুত্র আওয়ামী লীগ নেতা ডাঃ মানবেন্দ্র রায় মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। পিতার জনপ্রিয়তার পাশাপাশি মানবেন্দ্র রায়ের শো-ডাউন ভোটারদের ভাবিয়ে তুলেছে। আছে জাতীয় পাটির প্রার্থী জুলফিকার হোসেন।
অপরদিকে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য লেঃ জেনাঃ(অব) মাহবুবুর রহমানের পৈত্রিক আবাসস্থল এই আসনে তিনি নির্বাচনী দৌড়ে আসেননি। তার জায়গায় সাবেক ছাত্র নেতা এম এ জলিল, বিরল উপজেলা চেয়ারম্যান আ ন ম বজলুর রশিদ, সাদের রিয়াজ চৌধুরী পিনাক ও অধ্যাপক মঞ্জুরুল ইসলাম মনোনয়ন নিয়েছেন।
প্রেষ্টিটিয়াজ আসন সদর উপজেলাকে নিয়ে দিনাজপুর-৩ আসনে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহোচর, সংবিধান প্রণেতা কমিটির অন্যতম সদস্য আওয়ামীলীগের বর্তমান এমপি জাতীয় সংসদের হুইপ এম ইকবালুর রহিম এর পাশাপাশি আরো যারা মনোনয়ন দৌড়ে অংশ নিয়েছেন তারা হলেন,জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুল ইমাম চৌধুরী, সহ-সভাপতি বাম নেতা হিসাবে পরিচিত আবুল কালাম আজাদ, আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা আশফাক হোসেন, ফারুজ্জামান চৌধুরী মাইকেল ও মোমেনা আক্তার লিপি। যদিও নির্বাচনী মাঠে প্রকাশ্যে ইকবালুর রহিম ছাড়া কাউকেই দেখা যাচ্ছে না। আওয়ামীলীগের নাম প্রকাশে একটি সুত্র বলেছে, মনোনয়ন জমা দিলেও সদরে তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামীলীগের সকল নেতা কর্মী ইকবালুর রহিমের নেতৃত্বেই নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এগিয়ে যাচ্ছে। মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন জেলা জাতীয় পাটির সাধারন সম্পাদক আহমেদ শফী রুবেল।
অপরদিকে বিএনপি থেকে যারা মনোনয়ন নিয়েছেন তারা হলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বড় বোন সাবেক এমপি মরহুমা খুরশিদ জাহান হক এর পুত্র শাহারিয়ার আক্তার ডন, বিএনপি নেতা এড. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, শিল্পপতি হাফিজুর রহমান (দিনাজপুর -৪ আসনেও মনোনয়ন প্রত্যাশি) লুতফর রহমান মিন্টু (দিনাজপুর-৬ আসনেও মনোনয়ন প্রত্যাশি))। মায়ের স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গিকার নিয়ে গণ সংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন শাহারিয়ার আক্তার ডন। একইভাবে মোফাজ্জল হোসেন দুলালও কৌশলী প্রচারনায় ব্যস্ত রয়েছেন। পাশাপাশি শিল্পপতি হাফিজুর রহমান খানসামা চিরিরবন্দর আসনে উৎসাহি হলেও সদর আসনে নির্বাচন করার লক্ষ্যে নেতা-কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

খানসামা-চিরিরবন্দর উপজেলা নিয়ে দিনাজপুর-৪ আসনে বর্তমান এমপি পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ এম মাহমুদ আলী’র পাশাপাশি যারা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তারা হলেন প্রখ্যাত চিকিৎসক এবং চিরিরবন্দর উপজেলার কৃতি সন্তান ও শিক্ষানুরাগী আমেনা বাকি বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এম আমজাদ হোসেন, সাবেক হুইপ মিজানুর রহমান মানু, এডঃ সাইফুল ইসলাম ও তরিকুল ইসলাম।
অপরদিকে এই আসনে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা হিসাবে পরিচিত সাবেক এমপি আখতারুজ্জামান মিঞা এবং শিল্পপতি হাফিজুর রহমান সরকার। জামায়াতের ঘাটি হিসাবে বিবেচিত খানসামা চিরিরবন্দর আসনটিতে জোটের কাছে জামায়াতের দাবী থাকলেও থাকতে পারে।

ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত দিনাজপুর-৫ আসনে বর্তমান এমপি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এডঃ মোস্তাফিজুর রহমান এর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জাকারিয়া জাকির, এডঃ শান্তুনু সফেদ আকতার তুহিন, মাহদুননবী নাবী ডাঃ তোফাজ্জল হোসেন। নির্বাচনী মাঠে বর্তমান এমপি’র পাশাপাশি ব্যাপক জন সমর্থন নিয়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নিজের জন্য প্রচারনা ও শো-ডাউন করে চলেছেন তরুন নেতা জাকারিয়া জাকির। এই আসনে জাতীয় পাটি প্রার্থী সোলায়মান সামিতো মনোনয়ন দাখিলের অনেক আগে থেকেই মাঠ কাঁপিয়ে চলেছেন।
মহাজোটের অন্যতম প্রার্থী হচ্ছেন জেলা বিএনপি’র আহবায়ক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী পরীক্ষিত বিএনপি নেতা এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপি সভাপতি খুরশীদ আলম মতি ও হাসানুজ্জামান উজ্জল। এই আসনে বর্তমান আওয়ামী এমপি’র বিরুদ্ধে গোত্রীয় দ্বন্ধই ঐক্যজোট প্রার্থীদের উজ্জীবিত করে রেখেছে।

নবাবগঞ্জ-হাকিমপুর-বিরামপুর, ঘোড়াঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত দিনাজপুর-৬ আসনে আওয়ামীলীগের বর্তমান এমপি সিবলি সাদিকের পাশাপাশি প্রচারনা ও মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তারা হলেন, সাবেক এমপি আজিজুল হক চৌধুরী, আলতাফুজ্জামান মিতা, আতাউর রহমান, মিজানুর রহমান মন্ডল, আক্কাস আলী, পারভেজ কবীর, খায়রুল আলম রাজু, লিয়াকত আলী সরকার টুটুল, সামসুল আলম, শাহনাজ পারভীন আমির হোসেন, ডাঃ মোঃ মোশাররফ হোসেন, আয়নাল হক চৌধুরী, এড. আবদুল হাকিম, জামিল হোসেন চলন্ত, এমদাদুল হক চৌধুরী, আবদুর রহমান লিটন, রাফে খন্দকার শাহ, মাকসুদুর রহমান লাভু চৌধুরী ও সুলতানা আকতার বর্ষ। মনোনয়ন প্রত্যাশি রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচ এম এরশাদের আশির্বাদপুষ্ট জাপার কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি বিনোদন কেন্দ্র স্বপ্নপূরীর মালিক দেলওয়ার হোসেন। বর্তমান এমপি ও দেলওয়ার হোসেন একই বংশধ্বর হওয়ায় আসনটিকে মামা ভাগিনার আসন বলেই মহাজোটে পরিচিতি লাভ করেছে।
এই আসনে বিএনপি তথা ঐক্যজোট থেকে মনোনয়ন কিনেছেন তারা হলেন লুৎফর রহমান মিন্টু ও ড্যাব নেতা ডাঃ জাহিদ হোসেন। তবে এই আসনটি দাবী করেছে জামায়াত। ২০০৮ এর নির্বাচনে এই আসনে অল্প ভোটে হেরে যাওয়া আসনটি থেকে জেলা জামায়াতের আমীর এড আনোয়ারুল হক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়ে গণ সংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ