Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৩ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

সিবিএর দুই নেতার বাধার মুখে মংলা বন্দরে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

দুই সিবিএ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

মংলা উপজেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ১৮ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:০২ এএম


 মংলা বন্দর কর্মচারী সংঘের (সিবিএ) নেতাদের অবৈধ দাবি ও বাধারমুখে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৪০টি পদের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। সিবিএর দুই নেতার বাধার মুখে এ নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে বন্দরের চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য নিয়োগ বোর্ডের সদস্যরা। এ ঘটনায় বন্দর কর্মচারী সংঘের সাধারণ সম্পাদক ও কর্যকারী সভাপতিকে আসামি করে মামলা করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ড ও জনসংযোগ বিভাগের সচিব ওহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, শুক্রবার সকাল ১১ টায় নৌবাহিনী স্কুলে মংলা বন্দরের বিভিন্ন শাখার ৯টি ক্যাটাগরিতে ৪০টি নিয়োগ পদের লিখিত পরীক্ষা চলছিল। এসময় ৩টি ধাপের প্রথম ধাপের পরীক্ষায় ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এ ঘোষণায় মংলা বন্দর কর্মচারী সংঘের (সিবিএ) নেতারা অন্যায়ভাবে তাদের কিছু লোকজনের পরীক্ষায় কৃতকার্য করানোর দাবি তোলেন। কিন্ত নিয়োগ পরীক্ষায় তারা অকৃতকার্য হয়। পরে দ্বিতীয় পর্যায় নিয়োগ পরীক্ষায় পুনরায় কয়েকটি পদের জন্য তাদের লোক কৃতকার্য করার দাবি তোলে কর্মচারী সংঘের নেতারা। এই ঘটনা জানা জানি হলে বন্দর চেয়ারম্যান নিজে উপস্থিত থেকে পরীক্ষা নেন। যার ফলে তাদের পছন্দনীয় লোকজন পরীক্ষায় কৃতকার্য হবেনা ভেবে নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করতে নানা রকম কৌশল করতে থাকে। একপর্যায়ে শুকবার পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকে সিবিএ সাধারণ সম্পাদক কাজী খুরশিদ আলম পল্টু ও কার্যকরী সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী পরীক্ষা বন্ধ করে এবং সেখানে থাকা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর ফারুক হাসান, পরিচালক প্রাশাসন প্রনব কুমার রায়, নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (অর্থ) আফসানা ইয়াসমিন, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব নজরুল ইসলাম, বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওহিউদ্দিন চৌধুরী, যান্ত্রিক ও তড়িৎ বিভিাগের প্রধান প্রকৌশলী মিজানুর রহমান শাহ চৌধুরী ও প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা লে. কমান্ডার আব্দুল আলীমসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচারণ ও দুর্ব্যাবহার করে। এরপর তাদের গাড়ি বহরের পথরোধ করে। তিনি আরও বলেন, পরে ঘটনাস্থলে নৌবাহিনীর সদস্যদের খবর দিলে তাদের গাড়িতে করে ওইসব কর্মকর্তাদের নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ঘটনায় বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী ব্যবস্থাপক (কর্ম) সালাউদ্দিন কবির বাদী হয়ে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের সাধারণ সম্পাদক কাজী খুরশিদ আলম পল্টু ও কার্যকরী সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে আসামি করে খুলনার খালিশপুর থানায় মামলা করেন।

এঘটনায় অভিযুক্ত বন্দরের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক কাজী খুরশিদ আলম পল্টুর জানায়, নিয়োগ পরীক্ষায় বন্দরের ইতিহাসে লিখিত পরীক্ষায় কোনদিনও কঠিন প্রশ্ন করা হয়নি, এবারের যে প্রশ্ন করা হয়েছে তাতে অনেকেই উন্নীত হতে না পারায় আমি প্রতিবাদ করে পরীক্ষা পুনরায় নেয়ার জন্য বলেছি। আমরা কোন প্রার্থীর জন্য সুপারিশ করিনি এবং কোন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকাও নেওয়া হয়নি। তিনি আরো বলেন, মংলা বন্দরের নিয়োগ পরীক্ষা নেয়ার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের স্কুল বাদ দিয়ে নৌবাহিনী স্কুলে নেয়ার বিরোধীতা করেছি মাত্র। এসময় তিনি বলেন, কোন গাড়ী আটকানো হয়নি, তবে গাড়ী চালকদের অতিরিক্ত পরিশ্রমের বিষয়টি মাথায় নিয়ে নতুন ড্রাইভার নিয়োগ দেয়ার দেয়ার জন্য তাৎক্ষনিক দাবি করেছি। এতে করে কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানব মহোদয়সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের সিবিএ’র কার্যকরী পরিষদের দুই নেতার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেন। আমরা এঘটনার নিন্দা যানাচ্ছি।

বন্দর সূত্র জানায়, পাম্প ড্রাইভার পদে ৫ জন, গাড়ির ড্রাইভার পদে ৮ জন, গ্রিজার কাম পাম্প ড্রাইভার ২ জন, কার্য সহকারী পদে ২ জন, জাহাজের প্রথম শ্রেণির ড্রাইভার পদে ২ জন, দ্বিতীয় শ্রেণির ড্রাইভার পদে ৩ জন ও ফেরম্যান পদে ১ জনসহ মোট ৪০ টি পদের জন্য শুক্রবার নিয়োগ পরীক্ষা নেয়ার কথা ছিল। অনাকাংক্ষিত এ ঘটনায় অনিদিষ্ট কালের জন্য নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ।

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর