Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৬ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

সরকার কৃষিবান্ধব, ব্যাংক বৈরী

| প্রকাশের সময় : ২০ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

গত ৭ সেপ্টেম্বর একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যায়, মামলার জালে আটকা দুই লাখ কৃষক। কৃষিঋণ আদায়ের জন্য এক লাখ ৬৫ হাজার কৃষককে আসামি করে ইতিপূর্বে মামলা করা হয়েছিল, যা আজও অমীমাংসিত। এ পরিমাণ অর্থ দেশের এক-দু›জন দুর্নীতিবাজ লোকের পকেটে কালো টাকা হিসেবে পাওয়া যাবে। কৃষকের বিরুদ্ধে মামলা করতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বেশি উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। অনেক ব্যাংকার মনে করেন, কৃষকের বাড়িতে পুলিশ নিয়ে গেলে টাকা আদায় হয় দ্রুত। কারণ কৃষক পুলিশের ভয়ে পাওনা পরিশোধ করে দেন। পুলিশের ভয়ে তারা বাড়িছাড়া হবে, পালিয়ে বেড়াবে। একসময় দুধের গাভী, ফসলি জমি বিক্রি করে দেনা পরিশোধ করে নিস্কৃতি পাবেন। অথচ বিপরীত চিত্র অন্য ঋণের ক্ষেত্রে। বড় ঋণের ক্ষেত্রে ঋণ পরিশোধ না করলেও তাদের কিছু হয় না। বড় বড় ঋণখেলাপি, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের দাপটে ব্যাংক খাত এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। আমাদের মনে রাখতে হবে, ব্যাপক দুর্নীতির কবলে নিপতিত কৃষকরা দুর্নীতিমুক্ত এক বিপুল জনগোষ্ঠী। একটি ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ঋণখেলাপি কৃষকের প্রতি সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার নানা পথ খোলা থাকে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকদের কাছে। কেবল প্রয়োজন অনুকূল মানসিকতা। সামান্য টাকা পরিশোধ করতে অসামর্থ্যরে কারণে পূর্বপর বিবেচনা না করে কৃষকের নামে মামলা দায়ের আমাদের জন্য কেবল লজ্জাই নয়, ব্যর্থতাও।
চৌধুরী আবদুল হান্নান
সাবেক ব্যাংকার।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর