Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৪ পৌষ ১৪২৫, ১০ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

আফগানিস্তানের ব্যর্থতা মূল্যায়নে ট্রাম্পকে পরামর্শ ইমরান খানের

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৯ নভেম্বর, ২০১৮, ৯:২৬ পিএম

আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে ব্যর্থতার দায় পাকিস্তানের ঘাড়ে না চাপিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিজেদের দক্ষতা মূল্যায়ন করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পাকিস্তানের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের করা মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সোমবার দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
ইমরান খান ট্রাম্পের প্রতি পরামর্শ দেন, ‘তাদের ব্যর্থতার জন্য পাকিস্তানের ঘাড়ে দোষ চাপানোর পরিবর্তে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করা উচিত, আফগানিস্তানে যুদ্ধে এক লক্ষ চল্লিশ হাজার ন্যাটো সেনা, দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার আফগান সেনা এবং এক ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করার পরেও, কেন তালিবানরা আজ আগের থেকেও বেশী শক্তিশালী হয়েছে।
এর আগে রোববার ফক্স নিউজে দেয়া এক সাক্ষাতকারে মার্কিন রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে প্রতিবছর একশ’ তিরিশ কোটি ডলার দিত। কিন্তু আর দেবে না। আমি এই সাহায্য দেয়া বন্ধ করেছি কারণ, তারা (পাকিস্তান) আমাদের জন্য কিছুই করেনি।’ সাক্ষাতকারে, ২০১১ সালে পাকিস্তানে ‘ওসামা বিন লাদেন’কে পাওয়ার বিষয় দিয়ে তিনি এ বছরের শুরুতে পাকিস্তানে ‘সামরিক সাহায্য’ প্রত্যাহারের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন।
২০১১ সালে বিন লাদেনকে অ্যাবটাবাদে পাওয়া যাওয়া বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিন লাদেন পাকিস্তানের মিলিটারি একাডেমির পাশে বসবাস করছিলেন, সেদেশের সবাই জানে যে তিনি সেখানে ছিলেন।’ তবে, ট্রাম্পর এই মন্তব্য সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কথার সম্পূর্ণ বিপরীত। গত বছর তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা খতিয়ে দেখেছি, কিন্তু পাকিস্তান তার উপস্থিতি সম্পর্কে সচেতন ছিল এমন কোন প্রমান আমরা পাইনি।’
ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৯/১১ হামলায় কোন পাকিস্তানী জড়িত না থাকলেও, ইসলামাবাদ ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধে অংশগ্রহণের’ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধে পাকিস্তানের ৭৫ হাজার নাগরিক নিহত হয়েছে এবং ১২ হাজার তিনশ’ কোটি ডলারেরও বেশি ক্ষতি হয়েছে।’ এ পর্যন্ত দেয়া দুই হাজার কোটি ডলার মার্কিন সাহায্য ক্ষতিপূরণের সামান্য একটি অংশ, যোগ করেন তিনি।
অর্থনৈতিক ক্ষতি ছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানের উপজাতীয় এলাকায় মার্কিন যুদ্ধের প্রভাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের উপজাতীয় এলাকাগুলি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের বাড়ি থেকে উৎখাত হয়েছে। এই যুদ্ধ সাধারণ পাকিস্তানিদের জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলেছ। পাকিস্তান তাদেরকে স্থল ও আকাশ মাধ্যমে যোগাযোগের ব্যবস্থা (জিএলওসিএস / এএলওসিএস) বিনামূল্যে সরবরাহ করেছে।’ তিনি জিজ্ঞাসা করেন, ‘মি: ট্রাম্প কি অন্য কোনও বন্ধুর নাম বলতে পারে যারা এই ধরনের ত্যাগ স্বীকার করেছে?’
এর আগে মানবাধিকার মন্ত্রী শিরিন মাজারিও পাকিস্তান সম্পর্কে ট্রাম্পের মন্তব্যের বিষয়ে বলেছিলেন, ‘চিরদিনই ডোনাল্ড ট্রাম্প ঐতিহাসিক স্মৃতিচারণায় ভোগা রোগে আক্রান্ত।’
উল্লেখ্য, ২০১১ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কে দুরত্ব বাড়তে শুরু করে এবং চলতি বছর জানুয়ারিতে ফাতায় আফগান জঙ্গি গোষ্ঠীর কথিত উপস্থিতির অভিযোগে ট্রাম্প ইসলামাবাদে মার্কিন নিরাপত্তা সহায়তা স্থগিত করলে তা একেবারে তলানীতে এসে পৌঁছায়। সরকারের পাশাপাশি পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীও ভুল হিসাবে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিল। সূত্র: ডন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ