Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৫ পৌষ ১৪২৫, ১১ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

ব্যক্তির চেয়ে দল বড়

বিএনপির সাক্ষাতকার প্রার্থীদের অঙ্গীকার

ফারুক হোসাইন | প্রকাশের সময় : ২০ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:৩৭ এএম

সংসদীয় আসন তিনশটি। এসব আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন চার হাজার ৫৮০ জন বিএনপি নেতা। আগ্রহীদের মধ্য থেকে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে সাক্ষাতকার গ্রহণ করছেন মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা। তাদের সাথে স্কাইপির মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হচ্ছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ভিডিওর মাধ্যমেই মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কথা শুনছেন, দিচ্ছেন দিকনির্দেশনা। আগ্রহ এবং একাধিক প্রার্থীর যোগ্যতা থাকলেও প্রতিটি আসনেই যে একক প্রার্থী দেয়া হবে সে বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হচ্ছে সাক্ষাতকার অনুষ্ঠানে। একাদশ জাতীয় নির্বাচন যে শুধু নির্বাচন নয়, বরং একটি আন্দোলন হিসেবে বিএনপি দেখছে তাও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে সবাইকে। এজন্য ছোটখাটো মতভেদ, মনোমালিন্য যাই থাকুক না কেন সব ভুলে নিজেদের স্বার্থে, দলের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে দলের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিচ্ছেন মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও অঙ্গীকার করছেন তাদের কাছে ব্যক্তি নয়, দলই সবয়েচে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ। দল ছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কোন মূল্য নেই। এজন্য দল যাকে মনোনীত করবে তার সাথেই সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোটযুদ্ধে সকল নেতাকর্মী ঝাঁপিড়ে পড়বেন বলে অঙ্গীকার করেছেন। 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের প্রার্থিতা নিয়ে কোনো কোন্দল নেই। আমাদের প্রার্থীরা এখন ঐক্যবদ্ধ। যিনি মনোনয়ন পাবেন তার পক্ষেই সবাই কাজ করবেন। কারণ এই নির্বাচনটাকে আমরা চূড়ান্ত আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিয়েছি। এই নির্বাচনের বিজয়ের ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দলের প্রতি আনুগত্যতা ও গণতন্ত্রের প্রতি আনুগত্যতা কে মানদন্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে জানান বিএনপি মহাসচিব।
গতকাল (সোমবার) পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের সাক্ষাতকার গ্রহণ শেষ হয়েছে। আজ সাক্ষাতকার নেয়া হবে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও সিলেট বিভাগের প্রার্থীদের। ইতোমধ্যে সাক্ষাতকার দেয়া প্রার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাক্ষাতকারের সময় তাদের কাছে বিগত দিনে দল ও নেতাকর্মীদের জন্য অবদান, নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান, ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ইত্যাদি বিষয় জানতে চাওয়া হয়। প্রার্থীদের উত্তরগুলো ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শোনেন। সাক্ষাৎকারের শুরুতেই বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা মনোনয়নপ্রত্যাশীদের জানিয়েছেন, কোন নেতার কী অবদান, বিগত ১২ বছর কে কী করছেন, সে খবর দলের কাছে আছে। এরপরই প্রার্থীর কাছে প্রশ্ন করা হচ্ছে, এই ১২ বছর প্রার্থী সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারি দলের দ্বারা কী ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন? তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের পাশে কীভাবে ছিলেন? এবং নিজে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন? এরপর সাক্ষাৎকারের জানতে চাওয়া হয় এলাকায় প্রার্থীর অবস্থান কতটা শক্তিশালী। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে ভোটের লড়াইয়ে থাকতে পারবে কি না? যেসব প্রার্থীর কর্মকান্ড, নিজ নিজ আসনে অবস্থা ভালো এবং মনোনয়ন পাওয়ার সব যোগ্যতা আছে, তখন ওই প্রার্থীর কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে, ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারবেন তো?
বিএনপির সূত্রে জানা যায়, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কাছে, বিশেষ করে নতুনদের কাছে তাঁদের রাজনৈতিক ইতিহাস, রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, দলের জন্য অবদান, এলাকায় কী করছেন, মামলা ইত্যাদি বিষয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে। গতকাল পটুয়াখালী-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী সাক্ষাতকার দিয়ে বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্যমে মনোনয়ন বোর্ডে যুক্ত হয়েছেন। একেক এলাকায় একাধিক ব্যক্তি আছেন যারা নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন চেয়েছেন। সবাইকে তো দেয়া যাবে না। একটি আসনে একজনকে দিতে হবে। সুতরাং আমরা আমাদের নেতার কাছে হাত তুলে প্রতিজ্ঞা করেছি যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে তার পক্ষে সকলে মিলে কাজ করবো।
তিনি বলেন, বিএনপি বাংলাদেশের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচনমুখী দল। আমরা এখন অত্যন্ত দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। কারণ, আমাদের নেত্রী জেলে। আমাদের নেতা তারেক রহমান বিদেশে অবস্থান করছেন। হাজার হাজার নেতাকর্মী বন্দী। তার থেকেও বেশি কর্মী পলাতক আছে গায়েবি মামলার জন্য। তারপরও আমরা নির্বাচন করবো। আমরা আন্দোলনও করবো এবং নির্বাচনও করবো। তার জন্য যদি রাস্তায় নামার প্রয়োজন হয় আমরা তাও করবো।
পটুয়াখালী-২ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির সহ-দপ্তর মুহাম্মদ মুনির হোসেন বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলো বিএনপির আন্দোলনের অংশ। এটিকে আন্দোলন মনে করেই মাঠে থাকতে হবে। সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে। ঝিনাইদহ-৪ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। সাক্ষাতকার দিয়ে জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের কাছে সার্বিক অবস্থা শুনেছেন। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন নিজেদের মধ্যে যেন কোন ভেদাভেদ না থাকে। সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষকে বিজয়ী করার জন্য কাজ করতে বলেছেন। আমরাও কথা দিয়েছি দল যাকে প্রার্থী দেবে আমরা ব্যক্তি নয়, দলের জন্য সর্বাত্মকভাবে ঝাপিয়ে পড়বো ধানের শীষকে বিজয়ী করতে।
বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাসান মামুন পটুয়াখালী-৩ আসনের প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়ন বোর্ডে সাক্ষাতকার দিয়েছেন। তিনি জানান, আমরা অনেকেই প্রার্থী হতে চাইলেই দল যাকে প্রার্থী করবে আমরা তার পেছনেই দাঁড়িয়ে যাবো। এখানে আমাদের ব্যক্তিগত চাওয়া পাওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দলীয় স্বার্থ।
দিনাজপুর-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী মামুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, সাক্ষাৎকারে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলেন। এরপর দলের সিনিয়র নেতারা প্রত্যেকে একে একে প্রশ্ন করেন। জানতে চান কেন আপনাকে নমিনেশন দেয়া হবে? নমিনেশন পেলে কী করবেন? জয়ী হতে পারবেন কি না? দল থেকে যাকে নমিনেশন দেয়া হবে তার পক্ষে কাজ করবেন কি না? জবাবে তিনি জানিয়েছেন দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার জন্য প্রস্তুত আছি।
পঞ্চগড়-২ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, আমরা ৪ জন দলীয় লোক মনোনয়ন তুলেছি। সাক্ষাৎকার দিয়েছি। দলের বাইরে যাতে প্রার্থী দেয়া না হয়, সেজন্য আমরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অনুরোধ করেছি।
দিনাজপুর-৪ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম বলেন, এই আসনে আমরা ৪ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি। আমার কাছে তারেক রহমান জানতে চেয়েছেন কেন দল আমাকে মনোনয়ন দেবে? মনোনয়ন দিলে আমার জয়ের সম্ভাবনা কতটুকু? এ সময় দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করারও পরামর্শ দিয়েছেন তারেক রহমান।#



 

Show all comments
  • Jalal Priti ২০ নভেম্বর, ২০১৮, ১:৫৯ এএম says : 0
    চোর ডাকাত সবাইকে ভোট দিন
    Total Reply(0) Reply
  • মোঃ মোসলেহ উদ্দিন ২০ নভেম্বর, ২০১৮, ১:৫৯ এএম says : 0
    Good
    Total Reply(0) Reply
  • Monir ২০ নভেম্বর, ২০১৮, ২:৫২ এএম says : 0
    অবশ্যই ব্যক্তির চেয়ে দল বড় হতে হবে। নতুবা দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে।
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammad Mosharraf ২০ নভেম্বর, ২০১৮, ২:৫৩ এএম says : 0
    ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন দিতে হবে। যারা দলকে বড় করে দেখে। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে ঝাপিয়ে পড়বে। ভোট আদায় করে ছাড়বে।
    Total Reply(0) Reply
  • GOKAM AZAM ২০ নভেম্বর, ২০১৮, ১১:২৫ এএম says : 0
    দেশে একটি সুস্ঠ নির্বাচন অত্যান্ত জরুরী||
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammed Kowaj Ali khan ২০ নভেম্বর, ২০১৮, ৬:৩৪ এএম says : 0
    আমার মনে বীশ্বাস এবার খোনীরা ধংস হইবে। হেফাজত খোনী লগি বৈঠা দিয়ে খোনীরা যাইবে জাহান্নামে। জাতীয় বেঈমান ভারতের দাল্লালদের অবস্থা হইবে নমরুদ নমুনায়, ওরা বিতারিত হইবে। ইনশা আল্লাহ। ********* এই পাপিস্টদেরকে কোনো ভালো মানুষ ভূট দিবেননা।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ