Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৪ পৌষ ১৪২৫, ১০ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

দক্ষিণাঞ্চলে আয়কর প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করছে

বরিশাল ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ২০ নভেম্বর, ২০১৮, ৬:৫৮ পিএম

দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আয়কর আদায় প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। বরিশাল কর অঞ্চল গত অর্থ বছরে সর্বকালের সর্বাধিক প্রায় সাড়ে ৪শ’ কোটি টাকা আয়কর আদায়ে সক্ষম হয়েছে। এমনকি বিগত কয়েকটি বছরের মত চলতি বছরও বরিশাল বিভাগীয় সদর সহ দক্ষিণাঞ্চলের ১১টি জেলা এবং ৫টি উপজেলায় আয়কর মেলায় ব্যাপক সারা ফেলে সব শ্রেণী পেশার মানুষের মধ্যে। আয়কর নিয়ে জনমনে ভীতি ক্রমে দূরীভূত হচ্ছে বলে মনে করছেন কর কর্তৃপক্ষ। ফলে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে কর বিবরণী জমা দেয়ার প্রবণতাও ক্রমে বাড়ছে বলে জানা গেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে চলতি বছর বরিশাল কর অঞ্চলে কর মেলাগুলোতে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ নানা ধরনের সেবা গ্রহণ করেছেন। যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ৩৩ হাজার বেশী। এবার প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ কর মেলাগুলোতে তাদের আয় ও সম্পদ বিবরণী জমা দেন। গত বছর যে সংখ্যা ছিল ১১ হাজারের মত। এবার মেলাগুলো থেকে কর আদায় হয়েছে ৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকার মত। যা গত বছর ছিল ৬ কোটি ৭০ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। এবারের কর মেলাগুলো থেকে ১ হাজার ১৬৬ জন নানা শ্রেণি পেশার মানুষ নতুন ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর-টিআইএন গ্রহণ করেছেন।
অপরদিকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে কর আদায় হার প্রতি বছরই আশাতীত ভাবেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত অর্থ বছরে ৪৩৫ কোটি টাকা কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে বরিশাল কর অঞ্চল। চলতি অর্থ বছরে এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫১১ কোটি টাকা। সে লক্ষ্যে বরিশাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কাজ করছে বলে জানা গেছে।
২০০১-০২ অর্থ বছরে বরিশাল কর অঞ্চলের যাত্রা শুরু হয় মাত্র ২৩ কোটি টাকা আয়কর আদায়ের মাধ্যমে। বিগত ১৫ বছরে এ অঞ্চলের ৬টি জেলায় আয়কর আদায় ২৫৫ গুনেরও বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময়কালে প্রতিটি বছরই আয়কর আদায় বাড়ছে। লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রমও করছে বরিশাল কর অঞ্চল।
২০১৫-১৬ অর্থ বছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে ২০৭ কোটি টাকার আয়কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বরিশাল কর অঞ্চলে প্রকৃত কর আদায় হয় ২১১ কোটি। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে লক্ষ্যমাত্রা আগের বছরের চেয়ে ৯৩ কোটি টাকা বৃদ্ধি করে ৩শ’ কোটিতে নির্ধারণ করা হলেও তা অতিক্রম করে বরিশাল কর অঞ্চল। চলতি অর্থ বছরেও বরিশাল কর অঞ্চলের ২৩টি সার্কেলের কর্মকর্তা-কর্মচারিগন আয়কর আদায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নিরবিচ্ছন্নভাবে কাজ করছে বলে এনবিআআর-এর দায়িত্বশীল সূত্রে বলা হয়েছে।
তবে বরিশাল কর অঞ্চল এখনো মঞ্জুরীকৃত জনবলের অর্ধেক সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে যথেষ্ট বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছে। এখানের ২৩টি সার্কেল ও ৪টি রেঞ্জে মঞ্জুরীকৃত কর্মকর্তার অর্ধেক পদই শূন্য থাকছে বছরের পর বছর। ফলে কর আদায় সহ সার্বিক কার্যক্রমই ব্যাহত হচ্ছে।
এমনকি বরিশাল কর অঞ্চলের নিজস্ব ভবন নির্মাণের বিষয়টিও গত কয়েক বছর যাবত নানা জটিলতায় ঘুরপাক খাচ্ছে। ভাড়া বাড়িতেই বরিশাল কর অঞ্চলের বেশীরভাগ সার্কেল অফিস কাজ করছে। শুধুমাত্র বরিশাল মহানগরীতেই কর বিভাগের বাড়ী ভাড়া গুনতে হচ্ছে প্রতিমাসে প্রায় সোয়া ২ লাখ টাকা। বরিশাল কর অঞ্চলের একটি বহুতল ভবন নির্মাণের প্রকল্প-প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের পরে এখন গণপূর্ত অধিদপ্তরের স্থাপত্য পরিদপ্তরে নকশা প্রনয়নের লক্ষ্যে পড়ে আছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দীর্ঘদিন ধরেই বরিশালে একটি বহুমুখী কর কমপ্লেক্স নির্মানের চেষ্টা করলেও প্রকল্পটি এখনো আলোর মুখ দেখেনি। এ লক্ষ্যে প্রায় ৫৫ কোটি টাকার একটি ‘উন্নয়ন প্রকল্প-প্রস্তাবনা’ডিপিপি’ অনুমোদন হলেও কবে তার বাস্তবায়ন শুরু হবে তা সবার কাছেই অজ্ঞাত।
অপরদিকে করদাতাদের সামাজিক নিরাপত্তা সহ তাদের যেকোন ধরনের হয়রানী থেকে রক্ষায় সরকারি যথাযথ ভূমিকারও দাবী জানান হয়েছে। সরকারি প্রশাসন সহ বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনেক সময়ই করদাতাদের নানা ধরনের হয়রানীর অভিযোগ রয়েছে। এসব অনভিপ্রেত কর্মকান্ড বন্ধ সহ তাদেরকে সম্মানহানীকর পরিস্থিতি থেকে রক্ষায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ রয়েছে করদাতাদের পক্ষ থেকে।
তবে এনবিআর থেকে আয়কর দাতাদের ট্যাক্স কার্ড প্রদানের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন বলে জানান হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ