Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার , ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৬ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

পাশ্চাত্যের প্রাচ্যবিদদের দৃৃষ্টিতে হজরত মুহাম্মদ (সা.)

অধ্যক্ষ হাসান আবদুল কাইয়ূম | প্রকাশের সময় : ২১ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ মুস্তফা আহমদ মুজতবা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোটা মানব জাতির কল্যাণের জন্য এই পৃথিবীতে তাশরিফ আনেন। সকল উত্তম আদর্শের সমারোহ ঘটেছে তাঁর মুবারক সত্তায়। তিনি আল্লাহর হাবিব। আল্লাহ জাল্লা শানুহু ইরশাদ করেন : ‘হে রাসূল, আমি আপনার মহিমা বুলন্দ করেছি (সূরা ইনত্মিহ : আয়াত ৪)।
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণ-মাধুর্য পৃথিবীর মানুষের অন্তরকে আলোড়িত করে। তাঁর সিরাত মোবারক চর্চায় প্রাচ্যের মনীষীদের মতো পাশ্চাত্যের মনীষীরাও নিয়োজিত করেছেন নিজেদের। কেউ কেউ তাঁর সমালোচনা করতে গিয়ে সামনে অগ্রসর হতে ব্যর্থ হয়েছেন তাঁর মহান ও অনুপম চরিত্র-বিভায় বিম্বিত হয়ে।
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাব ঘটে আইয়ামে জাহিলিয়াতে। সেই জাহিলিয়াতের হাত থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য সমগ্র বিশ্ব অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল। ঐতিহাসিক ফিলিপ কে. হিট্টির ভাষায় বলা যায় :The stage was set the moment was psychical for the rise of great Religious and national leder. একজন ধর্মীয় ও জাতীয় নেতার আগমনের জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিল এবং সময়ও মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল ( The history of Arabs, পৃ.১০৮)। জেএইচ ডেনিস ‘ইমোশন এ্যাজ দ্যা বেসিস অব সিভিলাইজেশন’ গ্রন্থে লিখেছেন-
পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতাব্দীতে সভ্যজগত উপনীত হয়েছে নৈরাজ্যের তুঙ্গে, তখন একটা প্রতীয়মান হচ্ছিল, চার হাজার বছর ধরে গড়ে ওঠা বিশাল সভ্যতা বিখÐিত হওয়ার চরাম পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং মানবজাতি বর্বরতার চরম অবস্থায় যেন ফিরে গেছে, যেখানে প্রতিটা জাতি ও গোত্র পরস্পরের বিরোধী ছিল, আইন-শৃঙ্খলা বলতে কোথাও কিছু ছিল না। ...খৃষ্টধর্মের দ্বারা সৃষ্ট নিত্যনতুন নিয়ম, ঐক্য এবং শৃঙ্খলার বদলে বিভেদ এবং ধ্বংসের কাজ করছিল। ...এই জনগোষ্ঠীর (আরবদের) মধ্যে সেই পুরুষপ্রবর জন্মগ্রহণ করলেন, যিনি পূর্ব ও দক্ষিণের সমগ্র জানা দুনিয়াকে ঐক্য সূত্রে আবদ্ধ করার জন্য আবির্ভূত হন, যখন সমগ্র পৃথিবী অন্ধকারের অতল সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছিল। ধর্মের নামে সর্বত্র বিরাজ করছিল শিরক, কুফর আর ধর্মহীনতা। নারী সমাজ পণ্যসামগ্রীতে পরিণত হয়েছিল। তাদের ব্যবহার করা হতো আসবাবপত্রের মতো। কোনো মর্যাদা মানবিক মূলবোধ বলতে কোথাও কিছু ছিল না। অরজকতাপূর্ণ এক অস্থির পৃথিবীতে প্রয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশরিফ আনলেন ‘সিরাজাম মুনিরা ’ রূপে। তিনি এলেন ‘রাহমাতুল্লিল আলামিন রূপে। আল্লাহ জাল্লা শানুহু ঘোষণা করলেন : ‘হে নবী, আপনাকে পাঠানো হয়েছে সাক্ষ্যদাতা রূপে, সুসংবাদদাতা রূপে, সতর্ককারী রূপে, আল্লাহর নির্দেশে তাঁরই দিকে আহবানকারী রূপে এবং সিরাজাম মুনিরা রূপে।’ ‘সিরাজাম মুনিরা’ অর্থ প্রদীপ্ত চেরাগ। তিনি এলেন, আলোকধারা প্রবাহিত হলো। পাশ্চাত্যের অনেক মনীষীই তাঁর সম্পর্কে মন্তাব্য করতে গিয়ে সত্য ভাষণ রেখেছেন।
জেমস এ মিসেনার ‘ইসলাম দ্য মিসআন্ডারস্টুড রিলিজিয়ন’ গ্রন্থে বলেছেনÑ হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনচরিত আলোচনা করতে গিয়ে পাশ্চাত্যের প্রায় সব বিস্ময়ে অভিভ‚ত হয়ে পড়েন। স্যার টমাস কারলাইল লিখেছেন : সে এক মহা পরির্বতন! কি এক দারুণ পরিবর্তন ও প্রগতি সূচিত হলো মানবকুলের বিশ্বজনীন অবস্থায় এবং চিন্তায়। ...আজকের যুগে আল্লাহর বৃহত্তর সংখ্যক মাখলুক অন্য কোনো বাণীর চেয়ে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণী বেশি বিশ্বাস করে। আত্মত্যাগ ও আত্মবিনয়ের মধ্যেই ইসলামের অর্থ নিহিত রয়েছে। আমাদের এই পৃথিবীতে নাজিলকৃত আসমানি গভীর জ্ঞানের মধ্যে এখন পর্যন্ত এটাই সর্বশ্রেষ্ঠ। আরব জাতির জন্য এটা ছিল অন্ধকার থেকে আলোয় উত্তরণ। আরব এরই পরশে প্রথমবারের মতো জিন্দা হয়ে উঠল।
টমাস কারলাইল হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনে বিশ্ব চরাচরে যে আলোময় পরিবেশের উদ্ভব ঘটাল, এক অনন্য আলোক- সৌরভে পৃথিবী জেগে উঠল, একটি গতিশীল জাতিসত্তা বিকাশিত হলো, তার বিবরণ তুলে ধরেছেন এভাবে :
একটি জাতি, নাম তার আরব জাতি। একটি মানুষ, নাম তাঁর হজরত মুহাম্মদ (সা.)। আর সেই একটি শতাব্দী; এটা কি তাই নয় যেন একটি স্ফুলিঙ্গ, শুধু একটি স্ফুলিঙ্গ পতিত হলো এমন এক পৃথিবীর উপর, যা দেখে মনে হচ্ছিল তমসাচ্ছন্ন অজ্ঞাত বালুকণা। কিন্তু দেখো, সেই বালুকণা বিস্ফোরিত হলো বারুদের মতো আকাশ সমান আলো করে, আর সেই আলোয় আলোকিত হয়ে গেল দিল্লি থেকে গ্রানাডা পর্যন্ত।
ল্যা মারটিন লিখেছেন : উদ্দেশ্যের মহত্ত, উপায়ের ক্ষুদ্রতা এবং বিস্ময়কর ফলাফল এই তিনটি যদি হয় মানব প্রতিভার মানদন্ড, তা হলে আধুনিক ইতিহাসে কার এমন ধৃষ্টতা আছে যে, কোনো মহৎ ব্যক্তিকে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সঙ্গে তুলনা করতে পারে? অধিকাংশ মশহুর ব্যক্তি শুধু সৈন্যবাহিনী গঠন করেছেন, আইন সৃষ্টি করেছেন এবং সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। তাঁরা যদি কিছু প্রতিষ্ঠা করেই থাকেন, তা পার্থিব ক্ষমতার নামান্তর মাত্র, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাঁদের চোখের সামনেই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। এই পুরুষপ্রবর (হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল সৈন্যবাহিনী পরিচালনা করেননি, আইনই প্রদান করেননি, রাজত্ব প্রতিষ্ঠাই করেননি, জনগণকে সংগঠিতই করেননি এবং কেবল সালাতানাত সংস্থাপন করেননি। বরং সেই সঙ্গে সেই সময়কার পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশ কিম্বা তারও বেশি জনঅধ্যুষিত এলাকার লাখ লাখ মানুষের পরিবর্তন সাধন করেছেন, বহু দেবতার হাত থেকে তাদেরকে উদ্ধার করেছেন, ধর্মীয় ধ্যান-ধারণা, চিন্তা-ভাবনা ও বিশ্বাসে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনয়ন করেছেন এবং আত্মার বিকাশ ঘটিয়েছেন। একটি কিতাবের ভিত্তিতে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি রূহানি জাতীয়তা যা প্রতিটি ভাষা-ভাষী ও গোত্রের মানুষ এক ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে- সেই কিতাবের প্রতিটি হরফ আইনে পরিণত হয়েছে। দার্শনিক, বক্তা, রাসূল, আইনদাতা, যোদ্ধা, ভাবসমূহ বিজয়ী, যুক্তিসিদ্ধ ধর্মমত উদ্ধারকারী, নিরাকারে ইবাদত আনয়নকারী, কুড়িটি পার্থিব সাম্রাজ্যের এবং একটি রূহানি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাকারী হচ্ছেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। মানুষের মহত্ত¡র কোনো মানুষ কি কোথাও আছেন?
মরিস গডফ্রেয় বলেছেন : আমরা জানি, হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয় করেছেন ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দের ২১ রমাদান। মক্কার লোক তাঁর উপর অকথ্য অত্যাচার করেছে, তিনি মক্কা ত্যাগ করে সাহাবায়ে কেরামসহ মদিনায় হিজরত করেছেন। মদিনায় হিজরত করে আসার পর মক্কার কাফির-মুশরিকদের সাথে অনেকগুলো যুদ্ধ হয়েছে, অতপর মক্কা বিজয় হয়েছে। তিনি মক্কাবাসীকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তাঁর সেই মক্কা বিজয়ের দিনের সাধারণ ক্ষমার অনন্য ইতিহাস তুলে ধরেছে পাশ্চাত্যের প্রাচ্যবিদদের অনেকই। স্টেনলি লেইনপোল‘ দ্য স্পিচিস অ্যান্ড টেবল-টক অব দ্য প্রোফেট মুহাম্মদ’ গ্রন্থে লিখেছেন :
হজরত মুহাম্মদ (সা.) দুশমনদের উপর চূড়ান্ত বিজয়ের দিন নিজের উপরও মহিমান্বিত বিজয় সাধন করেন। মক্কার গোটা জনগোষ্ঠীর প্রতি কুরাইশরা যেসব অপরাধ করেছিল, তিনি সানন্দে তা ক্ষমা করে দিলেন। মুজাহিদ বাহিনী তাঁর আদর্শ অনুসরণ করল এবং তাঁরা নীরবে ও শান্তভাবে প্রবেশ করল। কোনো বাড়ি লুুণ্ঠিত হয়নি, কোনো নারী অপমানিত হয়নি। শুধু একটা জিনিস বিনাশ করা হয়। কা’বায় গিয়ে হজরত মুহাম্মদ (সা.) ৩৬০টি মূর্তির প্রতিটির সামনে দাঁড়ান এবং তাঁর সাহাবায়ে কেরামদের সাথে নিয়ে প্রতিটি মূর্তির দিকে লাঠি তুলে ধরে ঘোষণা করেন : সত্য সমাগত এবং মিথ্যা দূরীভ‚ত। এই বাণী উচ্চারণ করতে করতে তাঁর সাহাবায় কেরামগণ সেগুলোকে চ‚র্ণ-বিচ‚র্ণ করলেন। মক্কা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকারা মূর্তি ও গৃহদেবতা বিনাশ করা হলো। এমনিভাবে হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর জন্ম নগরীতে আবার প্রবেশ করলেন। তাবত বিজয়ের ইতিহাসে কোনো বিজয়কালীন প্রবেশের এমনতর নজির দ্বিতীয়টি নেই। আর্থার গিলম্যান ‘দ্যা সারাসিনস’ গ্রন্থে বলেন : এটা দারুণভাবে প্রশংসনীয় যে, সেই বিজয়ের দিন (মক্কা বিজয়ের দিন) অতীতে তাঁর প্রতি যেসব নির্দয় ব্যবহার করা হয়েছিল, সে সবের জন্য তিনি ক্ষোভের বশবর্তী হননি। প্রতিশোধ গ্রহণের কোনো স্পৃহাও তাঁর মধে জাগ্রত হয়নি। বরং তিনি তাঁর বাহিনীকে সকল প্রকার রক্তপাত করা থেকে নিবৃত্ত করলেন, প্রদর্শন করলেন উদারতার তাবত নিদর্শন এবং আল্লাহর রহমতের জন্য শোকরিয়া জ্ঞাপন করলেন। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর এ বিজয় ছিল সত্যিকার অর্থে দ্বীনের বিজয়। এটা কোনো রাজনৈতিক বিজয় ছিল না। তিনি বাতিল করে দিলেন ব্যক্তিপূজার তাবত নিদর্শন এবং প্রত্যাখ্যান করলেন তাবত রাজোচিত কর্তৃত্ব।
মক্কা বিজয় প্রসঙ্গ এনে ঐতিহাসিক গিবন লিখেছেন :
হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর কদম মুবারকের তলায় শত্রুদের পেয়েও একে একে সব শত্রæকে ক্ষমা করে দিয়ে যে নজির স্থাপন করলেন, পৃথিবীর সুদীর্ঘ ইতিহাসে সেই ঔদার্য ও ক্ষমাশীলতার কোনো নজির আর দেখা যায় না।
মক্কার আত্মসমর্পণ তাকে যথেষ্ট সুযোগ প্রদান করে প্রতিশোধ গ্রহণের। যে সমস্ত উদ্ধত কুরাইশ প্রধান তাঁর দ্বীন ধ্বংস করতে উঠেপড়ে লেগেছিল, যারা তাঁর অনুরক্ত সাহাবিদের হয়রানি করেছে, যন্ত্রণায় তাদের জর্জরিত করেছে এবং তাদের সাথে নির্দয় ব্যবহার করেছে, যারা তাঁকে কতল করতে উদ্যত হয়েছে, সেই তারা আজ সম্পূর্ণভাবে তাঁর কব্জায়!
তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন : তোমরা আমার কাছ থেকে কী আশা করো? তারা কাতর কণ্ঠে বলে উঠল- হে মহান ভাই, হে মহান ভাতিজা, দয়া চাই, দয়া চাই। তাদের এই কথা শুনে প্রিয় নবী (সা.) -এর দুই চোখে পানি এসে গেল। তিনি বলতে লাগলেন- ‘আমি তোমাদেরকে তাই বলব, যা হজরত ইউসুফ (আ.) তার ভাইদের বলেছিলেন। আজ আমি তোমাদেরকে ভর্ৎসনা করব না, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। কেননা তিনি পরম করুণাময় দয়ালু দাতা। যাও, তোমরা মুক্ত।
ইসলাম হার মরল এ্যান্ড স্পিরিচুয়্যাল, ভ্যালু’ গ্রন্থে মেজর আর্থার গøায়ন লিউনার্ড বলেছেন : একজন নবী হিসেবেই তিনি কেবল শ্রেষ্ঠ নন, বরং একজন দেশপ্রেমিক হিসেবে, রাষ্ট্র পরিচালনায় সুযোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তি হিসেবে, জাগতিক ও আধ্যাত্মিক নির্মাতা হিসেবে তিনি শ্রেষ্ঠ। তিনি সংস্থাপন করেছেন একটি জাতি ও সাম্রাজ্য। এই তিন মাহাত্ম ছাড়াও তার সংস্থাপিত বিশ্বাস আজও শ্রেষ্ঠতর। তা ছাড়া তিনি যে সত্য কায়েম করেন, তা যথার্থ ছিল, কারণ তিনি নিজের নিকট সত্য ছিলেন, তাঁর জনগণের নিকট বিশ্বস্ত ছিলেন, সর্বোপরি তার রবের অনুগত ছিলেন।
‘এনসাইক্লোপেডিয়া অব ব্রিটানিকায়’ বলা হয়েছে : জগতের তাবত ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের মধ্যেই হজরত মুহাম্মদ (সা.)-ই সবচাইতে বেশি সফল হয়েছেন।
জন উইলিয়াম ড্রাপার এ হিস্ট্রি অব দ্য ইনটেলেকচুয়াল ডেভেলপমেন্ট অব ইউরোপ গ্রন্থে লিখেছেন : সেই সে পুরুষ প্রবর যিনি সমগ্র মানব জাতির উপর সর্বাধিক প্রভাব বিস্তার করেছেন।
বসওয়ার্থ স্মিথ মুহম্মদ অ্যান্ড মুহাম্মদিজম গ্রন্থে লিখেছেন : কোনো স্থায়ী বাহিনী ছাড়া, দেহরক্ষী ছাড়া, শাহী মহল ছাড়া, নির্ধারিত রাজস্ব ছাড়া কেবল আসমানি অধিকার বলে শাসন করেছেন এমন দাবি কেবল করতে পারেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। কেন না তিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হয়েও তাঁর ছিল না ক্ষমতার যন্ত্র এবং অবলম্বন।
মাইকেল হার্ট ‘দ্য হানড্রেড’-এ র‌্যাঙ্কিং অব দ্য মোস্ট ইনফ্লুয়েনশিয়াল পার্সন্স ইন হিস্ট্রি গ্রন্থে বিশ্বের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা প্রভাবশালী একশ’ জন ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্বের ক্রমানুযায়ী বিন্যাস করেছেন। তালিকার প্রথমেই প্রিয়নবী (সা.)-এর জীবনের ইতিহাস এনে তিনি লিখিছেন : পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রভাবশালীদের তালিকায় আমি সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে হজরত মুহাম্মদ (সা.)কে বেছে নিয়েছি। আমরা এই পছন্দ কোনো কোনো পাঠককে বিস্মিত করতে পারে, আবার অনেকেই মনে নানা প্রশ্নও জাগাতে পারে। কিন্তু ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ব্যক্তিত্ব যিনি ধর্মীয় ও বৈষয়িক উভয় ক্ষত্রেই সর্বাঙ্গীন সাফল্য লাভ করেছেন।
পাশ্চাত্যের প্রাচ্যবিদদের চিন্তা-চেতনায় প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণ-মাধুর্য-সুরভী ছড়িয়েছে স্বাভাবিকভাবেই। তাঁদের অনুভবে অনুরণিত হয়েছে সত্য ভাষণের প্রবল স্পৃহা। যেদিন প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সমানভাবে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনাদর্শ ঈমানে-আকিদায়, আমলে-আখলাকে, সিরাতে-সুরতে গ্রহণ করবে, সে দিনই পৃথিবীর মানুষ প্রকৃত সুখ ও শান্তি লাভ করবে।
লেখক : পীর সাহেব, দ্বারিয়াপুর শরিফ, উপদেষ্টা ইনস্টিটিউট অব মুহম্মদ (সা.), সাবেক পরিচালক ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মুহানবী (সা.)

২১ নভেম্বর, ২০১৮
আরও পড়ুন