Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬, ১৪ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

রাউজানে হাতে লেখা দেড়শ’ বছরের পুরনো কুরআন মাজিদ

এম বেলাল উদ্দিন, রাউজান (চট্টগ্রাম) থেকে : | প্রকাশের সময় : ২৩ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:০৪ এএম

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় খড়ের তৈরি কাগজে বাঁশের তৈরি কলমে লেখা দেড়শ বছরের পুরানো হাতে লেখা পবিত্র কুরআন শরীফ সংগ্রহে রেখেছেন সৈয়দ নেছার উদ্দিন। এই পবিত্র কুরআন শরীফটি বর্তমানে অক্ষত অবস্থায় রয়েছে।
পবিত্র কুরআন শরীফটি বর্তমানে চট্টগ্রামের রাউজানে সৈয়দ নেছার উদ্দিন এর তত্ববধানে রয়েছে। আর সৈয়দ নেছার উদ্দিন পূর্ব গুজরা গ্রামের সৈয়দ বাড়ির সৈয়দ নুরুজ্জামানের ছেলে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তিনি জানান, তখনকার সময়ে কোন ছাফাখানা না থাকাতে আমার প্রপিতামহ সৈয়দ জমির উদ্দিন বিশেষ পদ্ধতিতে খড়ের তৈরি কাগজে শিমের পাতা ও শিমের বিজ আগুনে পুড়িয়ে কালি বানিয়ে বাঁশের কলম দিয়ে নিজ হাতে পবিত্র কুরআন শরীফের প্রতিটি হরফ লিখে তা এলাকার মানুষের মাঝে বিতরণ করে কুরআন শিক্ষা দিতেন। তার হাতের লেখা ছিল মুক্তার মতন সুন্দর। অবিকল ছাপাখানার কুরআন শরীফের মতন দেখতে সৈয়দ জমির উদ্দিনের হাতে লেখা কুরআন শরীফটি দেখে সকলে বিস্মিত হন।
কুরআন শরীফের লেখক সৈয়দ জমির উদ্দিনের শিক্ষা জীবন সম্পর্কে তিনি জানান, তার প্রপিতামহ রাউজান উপজেলার আধার মানিক গ্রামে ১৮৫৭ সালে সৈয়দ আশরাফ এর ঔরসে সৈয়দ আউলিয়ার বাড়িতে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর ত্রিশতম এবং বড়পীর হযরত আবদুল কাদের জিলানী (র:) এর ষোলতম বংশধর। প্রাথমিক শিক্ষা নিজ অঞ্চলে সমাপ্ত করে উচ্চ শিক্ষার জন্য তিনি ভারতে গমন করে কলকাতা আলীয়া মাদরাসা হতে কুরআন, হাদীস ও ফিকাহ শাস্ত্রে পান্ডিত্য অর্জন করে উচ্চ শিক্ষা সমাপ্ত করেন। ভারতের ইউপি রাজ্যের বেরিলি শরীফের ইমামে আলা হযরত মুজাদ্দেদে দ্বীনে মিল্লাত আল্লামা শাহ আহমদ রেজা খান ফাজেলে ব্রেলবি (রহ:) এর নিকট বায়াত হয়ে কঠিন রেয়াজতের মাধ্যমে তার নিকট হতে খেলাফত লাভ করার পর ভারতের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল, পাকিস্তান ও বার্মার বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করার পর স্বীয় পীরের নির্দেশে নিজ অঞ্চলে ফিরে এসে মানুষকে আধ্যাতিকতা শিক্ষা দেয়ার লক্ষে পূর্ব গুজরায় সৈয়দ বাড়ি জামে মসজিদ ও মসজিদ সংলগ্ন খানকাহ প্রতিষ্ঠা করে মানুষকে কুরআন, হাদীস, ফিকাহ ও আধ্যাত্মিকতা শিক্ষা দিতেন এবং নিজ হাতে পবিত্র কুরআন শরীফ লিখে তা মানুষের নিকট বিতরণ করতেন। এই আধ্যাত্মিক সাধক ১৭ জানুয়ারি ১৯৩০ সালে পূর্ব গুজরার সৈয়দ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ