Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৩ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

কালো টাকার মালিকদের ভোট দেবেন না -আলোচনা সভায় দুদক চেয়ারম্যান

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৩ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:০৪ এএম | আপডেট : ১১:৫৬ পিএম, ২৩ নভেম্বর, ২০১৮

নির্বাচন কমিশনের নির্ধারণ করে দেওয়া সীমার চেয়ে নির্বাচনী খরচ বেশি হলে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার হচ্ছে কিনা, তার খোঁজখবর রাখা হবে। আপনারা নির্বাচনে দুর্নীতিবাজ ও কালো টাকার মালিকদের ভোট দেবেন না। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের ১৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এই আহবান জানান।
ইকবাল মাহমুদ বলেন, জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক প্রার্থীরা হলফনামায় সম্পদের যে তথ্য দেবে, তা খতিয়ে দেখা হবে। মিথ্যা তথ্য দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যে উদ্দেশ্য নিয়ে দুদক গঠিত হয়েছিল, তা শতভাগ সফল হয়নি মন্তব্য করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও দুর্নীতিতে জড়িয়েছে। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দুর্নীতি বন্ধে কঠার হতে হবে। এর সঙ্গে আপস করা যাবে না। দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে সরকারের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আমরা গোয়েন্দা ইউনিট গঠন করেছি। এই গোয়েন্দা ইউনিট যথেষ্ট কাজ করছে। আপনারা শুনে খুশি হবেন যে, আমরা ব্যাংকের অনেকের দুর্নীতির ফিরিস্তি ইতোমধ্যে সংগ্রহ করেছি। এটা আমরা সময়মত প্রকাশ করবো এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।
পেশী শক্তি ও কালো টাকার দৌরাত্মের কারণে দুদক জনগণের বিশ্বাস সেই মাত্রায় অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে ইকবাল মাহমুদ বলেন, কেন ব্যর্থ হয়েছি এর কারণটা ব্যাখ্যা করতে হবে। সত্যকে স্বীকার করতে হবে। সত্যটা হল সমাজের পেশী শক্তি ও কালো টাকার দৌরাত্মের কারণে আমরা পারিনি। আপনি প্রশ্ন করতে পারেন কোন পেশী শক্তি আপনাকে বাঁধা দিল? উত্তর আমি দেবো না, আপনাকে উত্তর বের করতে হবে। তিনি বলেন, কে সিদ্ধান্ত নেয়, কে ক্ষমতায় থাকে, তার উত্তর নিশ্চয়ই আপনাদের কাছে আছে। আমি এটুকুই পৃঃ ৫ কঃ ৩
বলব সমাজের পেশী শক্তি ও কালো টাকার দৌরাত্মের কারণে আমরা জনগণের বিশ্বাসের জায়গায় পৌঁছতে পারিনি। তার মানে এই নয় যে, আমরা পৌঁছাতে পারব না। আপনারা দেখেছেন আমরা প্রতিটি স্তরেই গিয়েছি, ধরেছি, আইনের আওতায় এনেছি। আমরা একটা বার্তা দিতে চেয়েছি, সেখানে কিছুটা সফল হয়েছি- বার্তা দিতে পেরেছি যে, আপনি দুর্নীতিবাজ, আপনি ধরাছোঁয়ার বাইরের নন, আপনাকে ধরা সম্ভব। এটাই আমাদের বড় সফলতা। তবে পূরিপূর্ণ সফল এই জন্য নই যে, এখনও সমাজে কালো টাকা ও পেশী শক্তির দৌরাত্ম আছে।
নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর গঠনতন্ত্রে দুর্নীতিবাজদের না রাখার বিষয়ে দুদক থেকে প্রস্তাব দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, নিবন্ধনকৃত সকল রাজনৈতিক দলের যে গঠনতন্ত্র, সেখানে যদি এই বিষয়টির উল্লেখ না থাকে তাহলে দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধের স্বার্থে সে বিষয়টি সেখানে অন্তর্ভূক্ত করার প্রচেষ্টা চালাব।
ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে দুর্নীতি বিরোধী কবিতা, প্রবন্ধ ও রচনা রাখার বিষয়ে সরকারের কাছে দুদক সুপারিশ করবে বলে জানান তিনি।
স¤প্রতি পাস হওয়া সরকারি কর্মচারি আইন দুদক পর্যালোচনা করবে জানিয়ে সংস্থাটির প্রধান বলেন, এই আইনে কর্মচারিদের ম্যানেজমেন্ট কি হবে, সেটা যদি না থাকে তাহলে পর্যালোচনা করে নিজেরা একটা আইন তৈরি করার উদ্যোগ নেবো। সেখানে সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিকে তাদের সম্পত্তির বার্ষিক হিসাব দেওয়ার বিধান রাখা হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: জাতীয় সংসদ নির্বাচন

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ