Inqilab Logo

রোববার, ২২ মে ২০২২, ০৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২০ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

আইএস সন্দেহে সিঙ্গাপুরে ৮ বাংলাদেশি আটক

প্রকাশের সময় : ৪ মে, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : সিঙ্গাপুরে জঙ্গি সন্দেহে আট বাংলাদেশীকে আটক করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত মাসে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আইনে (আইএসএ) তাদের আটক করা হয়। আটকরা হলেন- মিজানুর রহমান (৩১), লিয়াকত আলী মামুন (২৯), সোহাগ ইব্রাহিম (২৭), রুবেল মিয়া (২৬), দৌলতুজ্জামান (৩৪), শরিফুল ইসলাম (২৭), মো. জাবেদ কায়সার হাজি নুরুল ইসলাম সওদাগর (৩০) এবং ইসমাইল হাওলাদার সোহেল (২৯)।
সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে ফিরে সরকারকে ‘উৎখাত’ করে একটি ‘ইসলামি রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ষড়যন্ত্র করছিল আটকরা। সন্দেহভাজন এসব ব্যক্তির মূল পরিকল্পনা ছিল সিরিয়ায় গিয়ে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দেওয়া। তাদের কাছ থেকে বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং সরকারি ও সেনা কর্মকর্তাদের নামের তালিকা পাওয়া গেছে। এসব কর্মকর্তাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।
এর আগে সন্দেহভাজন ২৭ বাংলাদেশী জঙ্গিকে আটক করার তথ্য গত জানুয়ারিতে জানিয়েছিল সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ। এদিকে একই কারণে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরত পাঠানো পাঁচ বাংলাদেশীকে গতকাল রাজধানীর বনশ্রীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম বলেন, হত্যাসহ সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ২৯ এপ্রিল পাঁচ বাংলাদেশীকে দেশে ফেরত পাঠায় সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ। গতকাল অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমান, রানা, আলমগীর, তানজিমুল ইসলাম ও সন্তু খান নামের ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজন ২০০৭ সাল থেকে ২০১১ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুরে যান।
সেখানে গিয়ে তারা জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তারা আনসারুউল্লাহ বাংলা টিমের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তাদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে। রিমান্ডে নেওয়ার পর পুরো বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সরকার ‘উৎখাতের’ পরিকল্পনা:
সিঙ্গাপুরে আইএস সন্দেহে আটক ৮ বাংলাদেশীর পরিকল্পনা ছিলো বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে উৎখাত করা। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চলতি বছর মার্চে সিঙ্গাপুরে বসে ইসলামিক স্টেট বাংলাদেশ বা আইএসবি নামে গোপন সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে তারা। ইরাক ও সিরিয়ায় গিয়ে আইএসে যোগ দেয়ার নির্দেশ থাকলেও; বাংলাদেশে ফিরে সরকার উৎখাতের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে এই আইএসবি গঠন করে তারা। তাদের লক্ষ্য ছিলো, সরকারকে উৎখাত করে ইসলামি রাষ্ট্র কায়েমের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আইএসের স্বঘোষিত খিলাফতের অন্তর্ভুক্ত করা। সিঙ্গুপরের স্ট্রেইটস টাইমসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য সিঙ্গাপুর সরকারের কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশ করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরের পুলিশ বলছে, আইএসবি’র নেতা মিজানুর রহমান যিনি সিঙ্গাপুরে সিকিউরিটি পাসধারী ছিলেন। তার কাছ থেকে ‘আমাদের জন্য জিহাদ প্রয়োজন’ শিরোনামে নথি উদ্ধার করা হয়েছে। ওই নথিতে আইএসবি’র আক্রমণের টার্গেট হিসেবে, বাংলাদেশের কতিপয় সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তার নাম রয়েছে। তালিকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী ও এলিট ফোর্স র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‌্যাবকে টার্গেট করা হয়েছে। এছাড়া মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি ও নাস্তিকদের টার্গেট করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিকল্পনা ও টার্গেট বাস্তবায়নে অস্ত্র কেনার জন্য অর্থ যোগাড় করছিলো আইএসবি। এ অর্থ জব্দ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই গ্রুপের কাছে আইএস ও আল কায়েদার ব্যবহৃত সর্বাধুনিক অস্ত্র এবং বোমা তৈরির ফর্মুলা পাওয়া গেছে। এক্স-৫০ স্নাইপার রাইফেল কিভাবে ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ করতে হয় এ সম্পর্কে তাদের কাছ থেকে তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আইএস সন্দেহে সিঙ্গাপুরে ৮ বাংলাদেশি আটক
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ