Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

মাথা খারাপ হয়ে গেছে সরকারের -সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩০ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, আমাদের যারা মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছে তাদের বাধা দিচ্ছে সরকার দলীয়রা। বিএনপির নেতার পক্ষে স্লোগান দিলে তাদের আক্রমণ করছে, নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি হামলা করছে এবং আমাদের যারা সক্রিয় নেতাকর্মী তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে, গ্রেপ্তার করছে, অনেকে নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছেন। এই যে পরিস্থিতি- সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে একটা বড় অন্তরায় বলে মনে করেন তিনি। গতকাল (বৃহস্পতিবার) বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের পদে পদে সরকার বাধা সৃষ্টি করছে। কোনো গণতান্ত্রিক সরকার এই ধরনের আচরণ করতে পারে না। দুর্ভাগ্যক্রমে নির্বাচন কমিশন তাদের সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন, এই নির্বাচন কমিশন সরকারি দলের নেতারা যে কথা বলে কমিশনের কর্মকর্তারা সেই কথাই বলে। অথচ আমরা সাংবিধানিক স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে এই ধরনের যে অনাচার ঘটছে তার বিচার চাচ্ছিলাম। তিনি আরও বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশন বলেছেন, পুলিশ এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তাহলে এই যে আচরণ ও নির্যাতন হচ্ছে, এই যে মিথ্যা মামলা, অযথা হয়রানি, গ্রেপ্তার, নিখোঁজ করা সেগুলো কি কমিশনের ইচ্ছাতে ঘটছে? নাহলে আমরা দাবি করব, অবিলম্বে ওইসব অনাচারের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক, বিচার করা হোক, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাসের শাহজাহানপুরের বাসা ঘেরাও করে রেখে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও ভোলা-৩ আসনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিনের পক্ষে তার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনার নিন্দা জানান।
মিন্টু-আলাল-সোহলের বিষয়ে বিএনপির কৌশল: দলের প্রত্যয়ন পেয়েও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেলের মতো নেতাদের মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়াকে নির্বাচনের কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছেন নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, প্রত্যেকটা নির্বাচনে সব এলাকায় আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখার জন্য যেতেন। এখন উনি নাই। আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেবও দেশে নাই। এখন এই কাজ আমাদের অনেকজনকে করতে হবে। তিনি বলেন, আমি তো দরখাস্তই করি নাই, রিজভী (রুহুল কবির রিজভী) সাহেব দরখাস্তই করেন নাই। কাজেই আরো কাউকে কাউকে হয়ত। দলের পক্ষ থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছি যে, আমাদের এসব নেতারা তারা নিজেরা নির্বাচন করবেন না, কিন্তু তারা বাকীদের নির্বাচন করে দেবেন। কাজেই আপনারা যাদের কথা বলছেন, তারা যোগ্য মানুষ। এটাকে নির্বাচনী কৌশল বলতে পারেন। এরকম নির্বাচনী কৌশল হতেই পারে।
জামায়াতের বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, কোনো যুদ্ধাপরাধীকে আমরা ধানের শীষ প্রতীক দেবে না। কেউ যুদ্ধাপরাধ না করে থাকলে তাকে দিতে অসুবিধা কী? জামায়াতের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাও আছেন। এবারের নির্বাচনে বিএনপি তাদের জোটসঙ্গী জামায়াতকে কতগুলো আসন ছেড়ে দিচ্ছে জানতে চাইলে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান বলেন, একটাও ছাড়ি নাই, কিংবা একটাও ধরি নাই। কারণটা হচ্ছে, আমরা প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দিয়েছি। আমাদের ২০ দলের মধ্যে যারা নিবন্ধিত পার্টি, তাদের মনোনয়ন তারাই দিয়েছেন। যারা নিবন্ধিত না, তাদের ব্যাপারটায় আমরা চিঠি দিয়েছি। আমরা একই আসনে একাধিক প্রার্থী দিয়েছি। প্রত্যাহারের আগে আমরা প্রত্যেক আসনে একজন করে প্রার্থীকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ করব। যখন আমরা প্রতীক বরাদ্দ করব, তখন আপনাদেরকে বলব কোন দলকে কয়টা আসন ধরলাম বা ছাড়লাম। বিএনপির মোট কতজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সেই তথ্য জানতে চাইলে নজরুল বলেন, এটা হিসাব করে বলতে হবে। আমরা কয়েকদিন পরিশ্রম করে একটু ক্লান্ত আরকি। হিসাবটা করে জানাতে পারব। তবে একই আসনে একাধিক প্রার্থী বহু জায়গায় দিয়েছি।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, বেলাল আহমেদ, সাইফুল ইসলাম পটু, একেএম আবুল কালাম আজাদ প্রমূখ।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: জাতীয় সংসদ নির্বাচন

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন