Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ০৮ কার্তিক ১৪২৬, ২৪ সফর ১৪৪১ হিজরী

তামিমের পর ৪ হাজারী মুশফিক

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

চট্টগ্রামেই ছিল হাতছানি। টেস্টে চার হাজার রানের মাইলফলকে ঢুকতে হাতছোঁয়া দূরত্বে দাঁড়িয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। তবে দূরত্ব বাড়লেও আপেক্ষা খুব একটা দীর্ঘ হয়নি এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানের। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ঢাকায় এসেই ছুঁয়ে ফেললেন কাক্সিক্ষত সীমানা। বাংলাদেশের মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে এই অর্জনের স্বাদ পেলেন মুশফিক। প্রথম ছিলেন তামিম ইকবাল। গত জুলাইয়ে এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে প্রথম টেস্টে এই মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন দেশসেরা এই ওপেনার।
আঙুলের চোটের শঙ্কা কাটিয়ে ৪ হাজার থেকে ৮ রান দূরে ঢাকা টেস্ট শুরু করেছিলেন মুশফিক। শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেটে গিয়েছিলেন চা বিরতির একটু আগে। চা বিরতির পর দ্বিতীয় ওভারে দেবেন্দ্র বিশুর বল পয়েন্টে ঠেলে আলতো দৌড়ে একটি রান নিয়ে চার হাজারী ক্লাবে ঢুকে যান বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের অন্যতম স্তম্ভ।
চার হাজার রানে অবশ্যই দুজনের মধ্যে দ্রুততম তামিমই। সব সংস্করণে এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান করা তামিম ১০৬তম ইনিংসে পৌঁছান চার হাজারে। মুশফিক চার হাজারে পৌঁছালেন ৬৬ টেস্টের ১২৩তম ইনিংসে। তবে তিন থেকে চার হাজারে দ্রুততম মুশফিকই। তিন থেকে চার হাজারে যেতে তামিমের লেগেছিল ৩০ ইনিংস। ২৮ ইনিংসেই শেষ হাজার রান ছুঁলেন মুশফিক।
২০০৫ সালে ১৭ বছর বয়সে লর্ডসে টেস্ট অভিষেক মুশফিকের। শুরুর দিকের উত্থান-পতন পেরিয়ে হাজার রানের দেখা পেতে লেগে যায় প্রায় ৫ বছর। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে ১ হাজার স্পর্শ করেন ৪০তম ইনিংসে। ২ হাজার রান করতে লেগেছিল ৬৭ ইনিংস, ৩ হাজার করতে ৯৫ ইনিংস।
তামিম অবশ্য ১ থেকে ৪ হাজার, প্রতিটি মাইলফলক ছুঁয়েছেন বাউন্ডারিতে। হাজারের আগের তিনটি মাইফলক বাউন্ডারিতে ছুঁয়েছিলেন মুশফিক। স্টুয়ার্ট ব্রডকে বাউন্ডারিতে করেছিলেন ১ হাজার, ইশ সোধিকে বাউন্ডারিতে ২ হাজার, ইশান্ত শর্মাকে বাউন্ডারিতে ৩ হাজার। ৪ হাজার হলো সিঙ্গেলে। মাইলফলকের ইনিংসটি অবশ্য স্মরণীয় করতে পারেননি মুশফিক। ১৪ রানেই বোল্ড হয়ে গেছেন শারমন লুইসের বলে।
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ধারাবাহিকতার অভাবে ভুগতে থাকা মুশফিক প্রথম সেঞ্চুরি পান নিজের ৩৩তম ইনিংসে। এরপর সেঞ্চুরি করেছেন আরও পাঁচটি। যার মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে করেছেন দুটি ডাবল সেঞ্চুরি। যার মধ্যে ক’দিন আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মুশফিকের অপরাজিত ২১৯ রান, টেস্টে বাংলাদেশের কোন ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। এই ইনিংসই টেস্ট ক্রিকেটে তাকে দিয়েছে একমাত্র উইকেটরক্ষ ব্যাটসম্যান হিসেবে দুটি ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তি। আরেকটি করেছিলেন শ্রীলঙ্কার বিক্ষে তাদেরই মাটিতে ২০১৩ সালে।
চোটের কারণে জিম্বাবুয়ে সিরিজ থেকেই দলের বাইরে থাকা তামিম ৫৬ টেস্টর ১০৮ ইনিংসে করেছেন ৪০৪৯ রান। এই টেস্টে তাই তামিমকে ছাড়িয়ে টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার দিকেও এগিয়ে গেলেন মুশফিক। ওয়ানডেতে মুশফিকের রান পেরিয়ে গেছে ৫ হাজার। তার চেয়ে বেশি ওয়ানডে রান আছে বাংলাদেশের কেবল তামিম ও সাকিব আল হাসানের।

টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ৫
ব্যাটসম্যান ম্যাচ/ইনি. রান সর্বোচ্চ গড় স্ট্রাইক ১০০/৫০
তামিম ইকবাল ৫৬/১০৮ ৪০৪৯ ২০৬ ৩৭.৮৪ ৫৫.৩২ ৮/২৫
মুশফিকুর রহিম ৬৬/১২৩ ৪০০৬ ২১৯* ৩৫.১৪ ৪৬.৯০ ৬/১৯
সাকিব আল হাসান ৫৫/১০৩ ৩৭৮২ ২১৭ ৩৯.৮১ ৬১.৭৫ ৫/২৪
হাবিবুল বাশার ৫০/৯৯ ৩০২৬ ১১৩ ৩০.৮৭ ৬০.২৭ ৩/২৪
মোহাম্মদ আশরাফুল ৬১/১১৯ ২৭৩৭ ১৯০ ২৪.০০ ৪৬.০৭ ৬/৮



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মুশফিক

৫ জুলাই, ২০১৯
১৬ জুন, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন