Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ১৪ আষাঢ় ১৪২৯, ২৭ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

মামলা ও হয়রানি আতঙ্কে বিএনপি নেতাকর্মীরা

প্রকাশের সময় : ৫ মে, ২০১৬, ১২:০০ এএম

এম এস এমরান কাদেরী, বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) থেকে
আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে দলকে তৃণমূল পর্যায়ে চাঙ্গা করার কথা বললেও উপজেলা পর্যায়ে গ্রুপিংয়ের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী বিএনপি। কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত বোয়ালখালী বিএনপি এখন যেন নড়বড়ে অবস্থা। চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতেই বোয়ালখালী পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাজী আবুল কালাম আবু এবং অপর সহ-সভাপতি আহল্লা কড়লডেঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যানকে মামলার অজুহাতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একদিকে ওভার গ্রুপিং অপর দিকে মামলা ও হয়রানির আতঙ্ক বিরাজ করছে নেতা-কর্মীদের মধ্যে। এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে কৌশুলী ভূমিকায় রয়েছে এখানকার বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনগুলো। তবে সারা বছরের গ্রুপিংয়ের ছোঁয়া ইউপি নির্বাচনের প্রার্থী তালিকায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে তারা নিজ নিজ কর্মী সমর্থকদের নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে এগুচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলা থেকে দলীয় প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খানের মাধ্যমে কেন্দ্রে পাঠানোর পর তা চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। এ তালিকায় দলের মূল ধারার অনুসারীরাই একচেটিয়া প্রাধান্য পেয়েছেন বলে জানান এ গ্রুপের একাধিক নেতা। এ গ্রুপের মধ্যে রয়েছে ৪নং শাকপুরা ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শওকত আলী, ৫নং সারোয়াতলী ইউনিয়নে উপজেলার বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান এম. নূর মোহাম্মদ, ৬নং পোপাদিয়া ইউনিয়নে উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মেহেদী হাসান সুজন, ৭নং চরণদ্বীপ ইউনিয়নে উপজেলার বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক মজিবত উল্লাহ মজু, ৮নং শ্রীপুর-খরণদ্বীপে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী মোহাম্মদ ইকবাল, ৯নং আমুচিয়া ইউনিয়নে সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মুসলিম মিয়া, ১০নং আহ্ল্লা-কড়লডেঙ্গা ইউনিয়নে উপজেলার বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান হামিদুল হক মান্নান। এদের মধ্যে গত পাঁচ বছরে দলের পক্ষে কোনো ধরনের ভূমিকা না রেখে উল্টো আওয়ামী ঘরনার লোক তথা জেলা ও উপজেলা আ.লীগের সাথে বিভিন্নভাবে লেয়াজোঁ করে স্বার্থন্নেষী ভূমিকায় থেকে আখের গোছানোয় ব্যস্ত ছিল বলে জানান এখানকার বিএনপির অনেক নেতাকর্মী। এছাড়া আওয়ামী লীগের নেতাদের হাতে রেখে ধান্দাবাজীসহ এলাকার ও দলের কোনো উন্নয়নে ভূমিকা না রাখায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অন্য প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে জানান তারা। এছাড়া আমুচিয়া থেকে মনোনয়ন দেয়া মুসলিম উদ্দিন চৌধুরী গত ৫ বছরে এখানকার ভূমিদস্যু মাদক স¤্রাট ও কট্টর মুসলিম বিদ্বেষী চেয়ারম্যান কাজল দে’র সহচর হিসেবে কাজ করেছে বলে জানান এলাকার বিএনপি ও এ পরিবারের নেতাকর্মীরা। ফলে এবার এখানে প্রার্থী নির্বাচনে হ-জ-ব-র-ল সৃষ্টি হয়েছে। এবারের নির্বাচনে বোয়ালখালী বিএনপি থেকে প্রায় একডজনের বেশি প্রার্থী মনোনয়ন ফরম গ্রহণ করেছে। এদিকে চট্টগ্রাম-৮ আসনের ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী, বিএনপির মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা, শিল্পপতি আলহাজ এরশাদ উল্লাহ সমর্থিত গ্রুপ থেকেও প্রার্থী দেয়া হয়েছে বলে জানান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. শওকত আলম। এরা হচ্ছে- শাকপুরায় উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদকবিএনপি নেতা সরওয়ার আলমগীর, সারোয়াতলীতে বিএনপি নেতা সৈয়দ আবদুল গনি, পোপাদিয়ায় ইউনিয়ন বিএনপি›র সভাপতি তরুণ ব্যবসায়ী মো. জাকের, চরণদ্বীপে বিএনপি নেতা মো. রহমত আলী, খরণদ্বীপে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. নুরুল আমিন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত শেষ পর্যায়ে করাকে একটি কৌশল হিসেবে নিয়েছে বিএনপি। তড়িগড়ি না করে শাসকদলের প্রার্থীর দিকটি বিবেচনা করে দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে মনোযোগী হয়েছেন তারা। ইতোমধ্যে উপজেলার ৭ ইউনিয়নে যোগ্য এবং দুঃসময়ে রাজনৈতিক কা-ারিদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে এমনটিই জানিয়েছেন দু’গ্রুপের নেতারা। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপিসাধারণ সম্পাদক (মোরশেদ খান সমর্থিত) মোস্তাক আহমেদ খান বলেন, আমরা ৭ জনের নাম আমাদের নেতা এম মোরশেদ খানের মাধ্যমে এ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. শওকত আলম (এরশাদ উল্লাহ সমর্থিত) বলেন, দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সাথে আলোচনা করেই এ প্রার্থী তালিকা নিশ্চিত করা হয়েছে। ৫ম দফায় আগামী ২৮ মে বোয়ালখালী উপজেলা ৭ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মামলা ও হয়রানি আতঙ্কে বিএনপি নেতাকর্মীরা
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ