Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ০৪ ভাদ্র ১৪২৬, ১৭ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

আপনাদের জিজ্ঞাসার জবাব

প্রকাশের সময় : ৫ মে, ২০১৬, ১২:০০ এএম

১। মোহাম্মদ আবদুল্লাহ সাফওয়ান
তালুকদার, শাহপুর, কুমিল্লা।
জিজ্ঞাসা : রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা মোবারকের পাশে হাজির হয়ে তাঁর উছিলা দিয়ে দোয়া করা জায়েজ কিনা, জানতে চাই?
জবাব : রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কবরের পাশে হাজির হয়ে তাঁর উছিলা দিয়ে দোয়া করা, শাফাআতের আবেদন করা, এরূপ বলা, “হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে মাফ করে দেয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করুন। ইত্যাদি বৈধ বরং মুস্তাহাব।” নি¤েœ তার প্রমাণাদি পেশ করা হলো :
(ক) আল্লাহতায়ালা বলেনÑ যদি তারা নিজেদের ওপর জুলুম করার পর আপনার কাছে আসে তা অনন্তর তারা আল্লাহর দরবারে ক্ষমা কামনা করে এবং রাসূল তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। তবে অবশ্যই তারা আল্লাহকে তওবা কবুলকারী, দয়ালু পাবে। (আন নিসা-৬৪) (খ) হযরত মালিকআদদার (রা.) বলেন : হযরত উমার বিন খাত্তাবের খেলাফতকালে একবার দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। জনৈক ব্যক্তি রাসূল (সা.)-এর কবরের পাশে এসে বলল : হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আপনি উম্মাতের জন্য আল্লাহর দরবারে বৃষ্টির আবেদন করুন, কেননা তারা অনাবৃষ্টির ধ্বংস হয়ে গেল। রাসূল (সা.) স্বপ্নে লোকটিকে দেখা দিয়ে নির্দেশ দিলেন, “তুমি খলিফা উমারের নিকট যাও, তাকে সালাম জানিয়ে খবর দাও যে, তার ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হবে।”
তাকে আরো বল, “তুমি বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজ কর, তুমি বুদ্ধিমত্তা ধারণ কর।” লোকটি উমার (রা.)-এর নিকট হাজির হয়ে বিষয়টি অবহিত করলেন। হযরত উমার (রা.) খুব কাঁদলেন। অতঃপর বললেন : হে আমার রব!... ফতুহু গ্রন্থে সাইফ রেওয়ায়েত করেন উপরোক্ত স্বপ্নটি যিনি দেখেন তিনি হলেন রাসূলের জনৈক সাহাবি হযরত বিলাল বিন হারিস মুযানী। আমাদের আলোচনার বিষয় হলোÑ রাসূলের নিকট কামনা করা যে তিনি যেন আল্লাহর নিকট বৃষ্টির আবেদন করেন। অথচ তিনি তখন বারযাখের জগতে ছিলেন। এ অবস্থায় আল্লাহর নিকট দোয়া করা সম্ভব ছিল। আরেকটি বিষয় হলো তিনি সুয়ালকারীর সম্পর্কে অবহিত হয়েছিলেন। সুতরাং বৃষ্টির জন্য বা অন্য কিছুর জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করতে নিবেদন করার কোনো প্রতিবন্ধক নেই। যেরকম দুনিয়াতে থাকতেও ছিল না। (ওয়াফাউল ওয়াফা-২/৪২১) (গ) অতঃপর রাসূলের নিকট শাফাআতের নিবেদন করবে। বলবে, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার নিকট সুপারিশ করার মিনতি করছি। হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার নিকট সুপারিশ করার আবেদন করছি।
তারপর জিয়ারতকারী রওজা শরিফে ও সালাতের পর বেশি বেশি দোয়া করে অশ্রু বিসর্জনের চেষ্টা করবে। কেননা চোখ হতে অশ্রু নির্গত হওয়া দোয়া কবুলের নিদর্শন। (ফাতহুল কাদীর-২/২৩৬-২৩৯) (ঘ) অনুরূপ রেওয়ায়েতে বর্ণিত আছে যে, জনৈক ব্যক্তি নবী করিম (সা.)-এর কবরের পাশে এসে দুর্ভিক্ষের বছর অনাবৃষ্টি ও অনাবাদির অভিযোগ করলেন। তারপর লোকটি রাসূলকে স্বপ্নে দেখলেন যে, তাকে উমার (রা.)-এর নিকট গিয়া লোকদেরসহ ময়দানে বের হয়ে বৃষ্টির আবেদন করতে নির্দেশ দিচ্ছেন। (ইকতিযাউস সিরাতিল মুস্তাকিম-৩৭৩)
জবাবটি চয়ন করেছেন : শেখ মোহাম্মদ মোহাইমিনুল ইসলাম।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আপনাদের জিজ্ঞাসার জবাব
আরও পড়ুন