Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৩ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

মৃত নারীর জরায়ু থেকে বিশ্বে প্রথম শিশুর জন্ম

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৫ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১১:১৫ পিএম

মৃত নারীর শরীর থেকে সংগ্রহ করা জরায়ু প্রতিস্থাপনের পর বিশ্বে প্রথমবারের মতো সফলভাবে একটি শিশুর জন্ম হয়েছে। এর আগে জীবিত নারীদের দান করা জরায়ু প্রতিস্থাপনের পর শিশুর জন্ম হলেও, মৃত নারীর জরায়ু ব্যবহার করে শিশু জন্মের ঘটনা এই প্রথম। এই সফলতা বন্ধ্যা নারীদের সন্তান জন্ম দেয়ার সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে বলে ধারণা করছেন চিকিৎসকরা। খবর বিবিসি।

এ পর্যন্ত জীবিত নারীদের শরীর থেকে ৩৯টি জরায়ু প্রতিস্থাপনের খবর পাওয়া গেছে। অনেক ক্ষেত্রে মা তাদের কন্যাকে জরায়ু দান করেছেন। এরকম প্রতিস্থাপনের পর ১১টি শিশুর জন্ম হয়েছে। তবে কোন মৃত নারীর শরীর থেকে নেয়া জরায়ুতে বাচ্চা জন্মের ঘটনা এবারই প্রথম। এর আগে যতবার চেষ্টা করা হয়েছে, সেটি ব্যর্থ অথবা গর্ভপাত হয়ে গেছে।
প্রতিস্থাপিত জরায়ুটি ছিল চল্লিশ বছর বয়স্ক এক নারীর, যিনি মস্তিষ্কে রক্তপাতে মারা যান। তার তিনটি সন্তান রয়েছে। জন্ম থেকেই জরায়ু না থাকা একজন নারীর শরীরে ব্রাজিলের সাও পাওলোতে টানা ১০ ঘণ্টার অপারেশনের পর ২০১৬ সালে মরণোত্তর দান করা ওই জরায়ুটি প্রতিস্থাপিত হয়। শারীরিক সমস্যার কারণে তার যৌনাঙ্গ এবং গর্ভাশয় কাজ করত না। তবে তার ডিম্বাশয় ঠিকঠাক ছিল। চিকিৎসকরা সেখান থেকে ডিম্বাণু নিয়ে সম্ভাব্য পিতার ভ্রূণের সঙ্গে নিষিক্ত করে এবং সেটি হিমায়িত করে রাখে। সেই নারীকে এমন ওষুধ দেয়া হয় যা তার শরীরের রোগ ক্ষমতাকে দুর্বল করে ফেলে, যাতে জরায়ু প্রতিস্থাপনে কোন বাধা তৈরি না হয়। এর দেড় মাস পর থেকে তার মাসিক হতে শুরু করে। প্রায় সাত মাস পর নিষিক্ত ডিম্বাণুটি তার জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। সবমিলিয়ে স্বাভাবিক গর্ভধারণের পর সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিনি আড়াই কেজি ওজনের একটি মেয়ে শিশুর মা হন।
এ প্রসঙ্গে ড. ডানি ইযেনবার্গ বলছেন, ‘জীবিত নারীদের শরীর থেকে জরায়ু প্রতিস্থাপন ছিল চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য একটি যুগান্তকারী ব্যাপার, যার ফলে অনেক নারী মা হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সমস্যা হলো, এরকম দাতা দুর্লভ।’ একারণে মৃত শরীর থেকে জরায়ু সংগ্রহ করে প্রতিস্থাপন করতে পারাটা অত্যন্ত চমৎকার একটা ব্যাপার বলে মন্তব্য করেন ড. ইয়েনবার্গ। তিনি বলেন, ‘এই সফলতা আরো অনেক বেশি দাতা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছে, খরচ কমাবে এবং জীবিত দাতাদের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি হ্রাস করবে।’



 

Show all comments
  • Md. Siddikur Rahman ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৯:৩৫ এএম says : 0
    tnx scientiest
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ