Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

প্রশ্ন : হারাম উপার্জনে জীবন যাপন করে নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত কবুল হবে কি না?

আক্তার আহমেদ
ইমেইল থেকে

প্রকাশের সময় : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১২:২৬ এএম

উত্তর : কোরআন ও হাদীস অনুযায়ী হারাম খাদ্যের দ্বারা গঠিত শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না। হারাম উপার্জনে অর্জিত শক্তি সামর্থের দ্বারা কৃত কোনো ইবাদতই কবুল হবে না। তবে, ইবাদতের আদেশটুকু পালিত হবে। কবুল হবে না মানে সওয়াব বা প্রতিদান না পাওয়া। এরদ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত না পাওয়া। কিন্তু হারাম উপার্জনওয়ালা ব্যক্তির নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত মাফ নয়। বিধান হিসাবে পালন করতেই হবে। দায়মুক্তি হতে পারে। তবে, কবুল হবে না। এসব আমলের পাশাপাশি তাকে অবিলম্বে হারাম ত্যাগ করতে হবে। হালাল পথ ধরতে হবে। কবুল হবে না বলে ইবাদত ছেড়ে দেওয়া মানুষকে কুফুরীর পথে ঠেলে দেয়। কেননা, এতে সংশোধন না হয়ে বরং আল্লাহর হুকুমের সাথে বিদ্রোহের মনোভাব অথবা নৈরাশ্যের আলামত দেখা যায়।

সূত্র : জামেউল ফাতাওয়া, ইসলামী ফিক্হ ও ফাতাওয়া বিশ্বকোষ।
উত্তর দিয়েছেন : আল্লামা মুফতি উবায়দুর রহমান খান নদভী

ইসলামিক প্রশ্নোত্তর বিভাগে প্রশ্ন পাঠানোর ঠিকানা
inqilabqna@gmail.com



 

Show all comments
  • Ameen Munshi ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৩:৩৭ এএম says : 0
    পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মানবজাতি! পৃথিবীতে যা কিছু বৈধ ও পবিত্র খাদ্যবস্তু রয়েছে, তা থেকে তোমরা আহার করো।’ -সূরা বাকারা : ১৬৮ অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! আমি তোমাদের যেসব পবিত্র বস্তুসামগ্রী রুজি হিসেবে দান করেছি, তা থেকে ভক্ষণ করো এবং আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা আদায় করো।’ -সূরা বাকারা : ১৭২
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammed Shah Alam Khan ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৩:৩৮ এএম says : 0
    আসুন, মাহে রমজানে ইহকালীন ও পারলৌকিক জীবনের ভয়ভীতি, শঙ্কা মাথায় রেখে সব ধরনের হারাম উপার্জন, সুদ-ঘুষসহ অবৈধ লেনদেন, লোভ-লালসা, অন্যায়-অপকর্ম ও যাবতীয় কৃপ্রবৃত্তি থেকে নিজেদের হেফাজত করি এবং নিজেদের জীবন সর্বতোভাবে সুখ-শান্তিময় করার আপ্রাণ চেষ্টা করি।
    Total Reply(0) Reply
  • Saiful Islam ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৩:৩৮ এএম says : 0
    ইসলাম ধর্মমতে সব ধরনের ইবাদত-বন্দেগি কবুল হওয়ার জন্য রিজিক হালাল হওয়া জরুরি। হালাল রিজিকের প্রভাব শুধু নিজের দুনিয়া ও আখেরাতের সৌভাগ্যের জন্যই যে জরুরি তা নয়, নিজের সন্তানের ওপরও এর প্রভাব থাকে। রুজি-রোজগারে খুব সামান্য...
    Total Reply(0) Reply
  • গাজী ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৩:৩৯ এএম says : 0
    ইসলাম ধর্মমতে সব ধরনের ইবাদত-বন্দেগি কবুল হওয়ার জন্য রিজিক হালাল হওয়া জরুরি। হালাল রিজিকের প্রভাব শুধু নিজের দুনিয়া ও আখেরাতের সৌভাগ্যের জন্যই যে জরুরি তা নয়, নিজের সন্তানের ওপরও এর প্রভাব থাকে। রুজি-রোজগারে খুব সামান্য, এমনকি বিন্দু পরিমাণ হারামের প্রভাব সন্তানের মাঝে প্রকাশ পায়।
    Total Reply(0) Reply
  • আরিয়ান রাসেল চৌধূরী ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৩:৪০ এএম says : 0
    আমাদের সন্তানরা ভালো থাকুক, এটা সবারই কাম্য। কিন্তু তাদের ভালো রাখতে যেয়ে, শান্তি নিশ্চিত করতে তাদের মুখে হারাম খাবার, গায়ে হারাম পোষাক দেওয়া ঠিক হবে না। এটা তাদের ভবিষ্যতকে ধ্বংস করারই নামান্তর।
    Total Reply(0) Reply
  • আমিন গাজী ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৩:৪১ এএম says : 0
    হালাল রুটি-রুজি ইবাদত কবুলের পূর্বশত। হালাল রুটি ও রুজি শুধু নিজের জন্য তা নয়, বরং পরিবারের সবার জন্য প্রযোজ্য। কারণ প্রতিটি খারাপ কর্মের প্রভাব শুধু নিজের ওপরই পড়ে না। তার প্রতিক্রিয়া পরিবার তথা সন্তান-সন্তুতির ওপরও পড়ে। সুতরাং নিজের হালাল উপার্জন দিয়ে জীবিকা অবলম্বন করার পাশাপাশি পরিবারকেও বিন্দু পরিমাণ হারাম ভক্ষণ থেকে হেফাজত করা কালেমায় বিশ্বাসী মুসলমানের ওপর ফরজ। আল্লাহ আমাদের হালাল রুজি করার তৌফিক দান কর।
    Total Reply(0) Reply
  • মোকাম্মল হোসেন ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৩:৪১ এএম says : 0
    হালাল রুটি ও রুজি ইবাদত কবুলের পূর্বশর্তই নয়। হালাল রুজি নিজের ও পরিবারের জন্য ফরজ। আল্লাহ তাআলা হালাল জীবিকা অন্বেষণের তাওফিক দান করুন। হালাল আয়-ইনকাম করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
    Total Reply(0) Reply
  • রিপন ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১০:১৭ এএম says : 0
    শুধু নামাজই ইসলাম নয়, এবং কেবল নামাজই ইসলামের একমাত্র ফরজ নয়, ইসলামে আরও অনেক ফরজ রয়েছে, ইসলাম কেবল নামাজসর্বস্ব জীবনবিধান নয় যে, কেবল নামাজ নিয়েই মাথা ঘামাতে হবে অন্য সব ফরজকে বাদ দিয়ে। ইহুদীবাদীদের প্রবর্তিত ডাকতভিত্তিক সুদী অর্থনীতিকে হটিয়ে দিয়ে সে জায়গায় প্রিয়নবীর (সা.) প্রবর্তিত জাকাত ভিত্তিক মানবতাবাদী ইসলামী অর্থনীতিকে প্রতিস্থাপিত করতে হবে। সময়ের সেইটিই সবচে' বড় ফরজ হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন, যদি আমরা আমাদের ইবাদত-মুনাজাতকে কবুল দেখতে আশা করে থাকি। নামাজ মুসলিমের একটি বৈশিষ্ট্য, সেসাথে মুসলিমের অপর বৈশিষ্ট্য হলো আমর বিন মারুফ নেহী আনিল মুনকার - সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ জারীকরণ এবং প্রয়োজনে সংঘবদ্ধভাবে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহতকরণ জারি রাখা। সম্মানিত পবিত্র বাণীতে প্রায়ই দেখা যায় নামাজকে এককভাবে উল্লেখ না করে জাকাতের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে। আর আজ আমরা সেটি ভুলতেই বসে গেছি, যেখানে নামাজের কথা বলে বলে মুখে ফেনা গেঁজিয়ে ফেলছি, অথচ জাকাতের কথা সযতনে এড়িয়ে চলি, ভুলেও আলোচনা করতে চাই না জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি কী উপায়ে কায়েম করা যায়। যেদিন নামাজের সাথে সাথে জাকাতও সমভাবে উচ্চারিত হবে মুসলিমদের মাঝে, সমাজে কায়েম হয়ে যাবে ও দু'টির উভয়টি, সেদিন ইসলামের শাশ্বত অনুপম সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে পারবে নির্বিশেষে মুসলিম-অমুসলিম সবাই। জীবদ্দশায় যেন ওরকম একটি ইবাদত কবুল হওয়া সমাজব্যবস্থা দেখে যেতে পারি, ছোট্ট এই চাওয়াটুকুনই আমার, আল্লাহর কাছে।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ