Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

নিঃসঙ্গতার ধারাপাত

বিন্দু গল্প

খোদেজা মাহবুব আরা | প্রকাশের সময় : ৭ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১২:০৮ এএম

 শুধু বাড়তে থাকে ক্লান্তি, শরীরের এ মাথা থেকে ও মাথা। এভাবে সর্বশরীরে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত অক্ষমতার বিষবৃক্ষ,অন্তরে হাহাকার, অনুভবের সিড়ি বেয়ে নামতে থাকে হতাশা আর আত্বগ্লানি।জুয়েল আর ভাবতে চায়না স্মৃতি কাটার আবরনে ঢাকা বর্নিল দিনগুলোর কথা। কত আয়োজনের অন্তরালে কত ঘৃন্য মনোবৃত্তির পরিস্ফুরন ঘটানোর কৌশল। 

বাবা ও মা গ্রামে থাকার সুবাদে শহরে চাচার বাসায় পড়া শুনার জন্য স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা হয় বিনা পরিশ্রমেই। অথচ অল্প আয়ের চাকুরীজীবি চাচা তবু বড় ভাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধায় নুয়ে থাকে। ভাইয়ের আদেশ শিরোধার্য্য করেই জুয়েলকে অনেক অসুবিধা সত্তে¡ও ভাড়া বাসায় নিজের কাছে নিয়ে আসে। বাধ্য হয়ে চাচীও সব মেনে নিয়ে ভাসুরের ছেলেকে কাছে রাখে নিজেদের তিন সন্তান থাকা সত্বেও। স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়ে প্রচন্ড সহিষ্ণু আর ধৈর্য্যশীল এই মহিলা মিনারা খাতুন ভাসুরের ছেলেকেই বেশী যতœ করে পাছে স্বামী কষ্ট পায়। নিজের সন্তানদের না দিয়ে অনেক সময় জুয়েলকেই ভালো খাবার খাইয়ে দেন মিনারা খাতুন। কিন্তু জুয়েলের কোন কৃতজ্ঞতা বোধ তো নেই। বরঞ্চ পারলে সবার টা কেড়ে খেতে চায়। পড়াশোনাতেও কোন রকমে টেনেটুনে ক্লাস গুলো টপকে যায়। এভাবেই একদিন এইচএসসি পাশ করে কোন ভাবে।
এরমধ্যে বাজে অভ্যাস রপ্ত হয়ে যায়। সিগারেট, মদ মেয়ে মানুষ নিয়ে রাত কাটানো। পড়াশোনা শিকেয় উঠে। উপায়ন্তর না দেখে চাচা জুয়েলের সব কথা বড় ভাইকে খুলে বলে। জুয়েলের বাবা তড়িঘড়ি করে জুয়েলের বিয়ের ব্যবস্থা করে।বউ চাকুরীজীবি বিএ পাশ আর জুয়েল বেকার।
বিয়ের পর ও জুয়েলের নষ্টামি দূর হয়না। যত ঘৃন্য কৌশল আছে প্রয়োগ করে মেয়েদের বশে আনার জন্য দিনের পর দিন। চলতে থাকে তার অসভ্য কাজকর্ম। জুয়েলের বাবা সব জানতে পেড়ে হুশিয়ার করে আর যদি কোন বাজে কথা কানে যায় তবে সব সম্পদ থেকে বঞ্চিত করা হবে এবং ত্যাজ্যপুত্র করা হবে। এতে জুয়েল ভীত হয়ে পড়ে।কিন্তু সব ক্ষোভ বউটাকে পিটিয়ে মিটায়। এর মধ্য একটা মেয়ে জন্ম নিলেও তাকে ও সহ্য করতে পারেনা। বউটা বাচ্চার দিকে চেয়ে সব সহ্য করে।মেয়েটা বড় হয় বিয়ে হয়।
আর দুজনের দূরত্ব তখন আকাশ পাতাল। শরীরের শক্তি ক্ষীণ হয়ে আসে জুয়েলের নানান অনিয়ম এর কারনে। তিন বার স্ট্রোক করে।কিন্তু বউয়ের সেবা ভাগ্যে জুটেনা। একা ঘরে নিশব্দ যন্ত্রণায় প্রতিটি মুহূর্ত এক কঠিন পাথর সময়ে চূর্নবিচূর্ন সব জাগতিক প্রয়োজন। শুন্য গৃহে একা শুধু অপেক্ষা করে শেষ যাত্রার।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর