Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

বাঁশখালীর অপার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে

জালাল উদ্দিন ওমর | প্রকাশের সময় : ৭ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১২:০৮ এএম

চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত বাঁশখালী উপজেলা প্রাকৃতিকভাবে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম থেকে মাত্র ২০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত; এর পূর্বে পাহাড় আর পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর দ্বারা পরিবেষ্টিত উত্তর-দক্ষিণ লম্বালম্বি আয়তাকার বাঁশখালীতে রয়েছে অফুরন্ত সম্ভাবনা। ধান, তরিতরকারি, লবণ, মৎস্য, চিংড়ি, চা, পোল্ট্রি, ডেইরি, পর্যটন, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং সর্বোপরি ব্যাপক শিল্পায়নের মাধ্যমে অল্প সময়ে বাঁশখালীকে একটি সমৃদ্ধ এলাকায় পরিণত করা সম্ভব, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা রাখবে। যথাযথ পরিকল্পনার আলোকে ব্যাপক শিল্পায়ন করলে বাঁশখালী উপজেলাটি দেশের বৃহত্তম শিল্পনগর হিসেবে গড়ে উঠবে। পুরো বাঁশখালীই হবে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক জোন। তাই দেশের উন্নয়নের স্বার্থেই বাঁশখালীর উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে। তার জন্য প্রয়োজন দলমত নির্বিশেষে বাঁশখালীর উন্নয়ন প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ ফ্লাটফরম এবং সম্মিলিত প্রয়াস।
বাঁশখালী হচ্ছে চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র এক ঘণ্টার পথ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভালো। আয়তন ৩৯২ বর্গকিলোমিটার, পৌরসভা ১টি, ইঊনিয়ন ১৪টি, সংসদীয় আসন-২৯৩ এবং চট্টগ্রাম-১৬। বাঁশখালীতে রয়েছে কৃষি উপযোগী বিস্তীর্ণ জমি, যা সারা বছরই ধান উৎপাদনের উপযোগী। জমিতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধান চাষ করলে, প্রতি বছরই ব্যাপক পরিমাণ ধান উৎপাদন সম্ভব; যা দেশের চালের চাহিদা মেটাতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। বাঁশখালীর পূর্বদিকে অবস্থিত পাহাড়ি এলাকায় বিভিন্ন ধরনের তরিতরকারী উৎপাদিত হয়। বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরে তরিতরকারির যে চাহিদা তার উল্লেখ্যযোগ্য অংশের যোগানদাতা বাঁশখালী। যথাযথ পরিকল্পনার আলোকে আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগালে বাঁশখালীতে উৎপাদিত তরকারি দেশের চাহিদার বিরাট অংশ পূরণ করতে পারে। বাঁশখালীর দক্ষিণাঞ্চলে রয়েছে লবণ চাষের উপযোগী বিস্তীর্ণ জমি, যেখানে দীর্ঘদিন থেকেই উন্নতমানের লবণ উৎপাদিত হয়ে আসছে। দেশে যারা আজ লবণ শিল্প স্থাপন করেছে তাদের অধিকাংশই কাঁচা লবণ বাঁশখালী থেকে সংগ্রহ করে। বাঁশখালীর এই লবণ শিল্পকে আরো বিকশিত করা হলে তা দিয়ে আভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করা সম্ভব। এই এলাকার গ্রাম এবং পাহাড়ে আম, কাঁঠাল, জামরুল, নারিকেল, পেয়ারা, আনারস, লিচুসহ বিভিন্ন সুস্বাদু ফল জন্মায়। বাঁশখালীর কালীপুর গ্রামের সুস্বাদু লিচু তো দেশজুড়ে বিখ্যাত। লিচুর মৌসুমে কালীপুর গ্রাম নতুন সাজে সজ্জিত হয়। দিগন্ত জুড়ে থোকা থোকা লিচু আর লিচু যেন প্রকৃতির আরেকটি রূপ। চা বাংলাদেশের অন্যতম সেরা রফতানি পণ্য। এখানকার পুকুরিয়ায় একটি বড় চা বাগান রয়েছে, যেখানে দীর্ঘদিন থেকেই অত্যন্ত উন্নত মানের চা উৎপন্ন হয় এবং তা বিদেশেও রফতানি হয়। সুতরাং বাঁশখালীর বিশাল পাহাড়ি অঞ্চলকে, যা চা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী, যদি পরিকল্পিতভাবে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে চা চাষ করা হয় তাহলে তা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আহরণে বিরাট ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়াও এখানে উৎপাদিত হয় অত্যন্ত সুস্বাদু পান, যা ভোজন রসিকদেরকে দেয় বাড়তি আনন্দ।
চিংড়ি এদেশের গুরুত্বপূর্ণ রফতানি খাত। খুলনা, সাতক্ষীরা, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা চিংড়ি খামারসমূহে সরবরাহ করা চিংড়ি পোনার উল্লেখ্যযোগ্য অংশ কিন্তু বাঁশখালী থেকেই যায়। অধিকন্তু বাঁশখালীতেও ব্যাপক ভিত্তিতে চিংড়ি খামার গড়ে তোলার বিরাট সুযোগ রয়েছে, যেখানে উৎপাদিত চিংড়ি বিদেশে রফতানি করে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব। বাঁশখালীর পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত, যেটি বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছের অভয়ারণ্য এবং এখান থেকে সারা বছরই মানুষের আহারযোগ্য বিভিন্ন ধরনের বিপুল পরিমাণে মাছ ধরা হয়। বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরে সরবরাহকৃত সামুদ্রিক মাছের একটি বিরাট অংশ বাঁশখালীর জেলেরাই সরবরাহ করে থাকে। সাগরের তীরে বসবাসকারী বাঁশখালীর বিরাট সংখ্যক মানুষ মৎস্য আহরণে নিয়োজিত। তারা উৎপাদন করে বিভিন্ন মাছের সুস্বাদু শুটকি। এসব মৎস্য আহরণকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিলে তারা প্রচুর পরিমাণে সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ করতে পারবে, যার মাধ্যমে দেশের বিরাজমান মৎস্য চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব হবে। এছাড়াও পুরো বাঁশখালী এলাকায় রয়েছে অসংখ্য পুকুর এবং জলাশয়, যেখানে আধুনিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন প্রজাতির মিঠা পানির মৎস্য চাষ করে দেশের মৎস্য চাহিদা যেমন পূরণ করা সম্ভব, ঠিক তেমনি বেকারত্ব লাঘবও সম্ভব।
পর্যটন বর্তমান বিশ্বে অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর। বাঁশখালী প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে প্রাণকেন্দ্র। এখানে রয়েছে একটি ইকোপার্ক, যা বাঁশখালী ইকোপার্ক নামে পরিচিত। চট্টগ্রাম শহর হতে মাত্র ৩৫ মাইল দূরে অবস্থিত শীলকুপ গ্রামে আঠারশ হেক্টর বনভূমিতে গড়ে ওঠা এই ইকোপার্কটি বামের ছড়া ও ডানের ছড়া নামে দুটি অংশে বিভক্ত, যার নয়নাভিরাম দৃশ্য মানুষকে বিমোহিত করবে। এখানে আছে দেশের দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতু, যা প্রায় ৪০০ মিটার দীর্ঘ। পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে ওঠে সহজেই দেখা যায় হরিণ, চিতা বাঘসহ বিভিন্ন পশুপাখি এবং বহু দূরের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য। স্পিড বোটে লেকে ভ্রমণ এবং বড়শী দিয়ে লেক থেকে মাছ ধরার সুযোগ পর্যটকদের দেয় বাড়তি আনন্দ। প্রকৃতির হাতে গড়া এই ইকোপার্ককে আধুনিকায়ন করলে এটি হবে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র, যা থেকে প্রচুর পরিমাণে রাজস্ব আয় সম্ভব। তাছাড়া এখানে কাপ্তাইয়ের মতো পানিবিদ্যুৎ উৎপাদনেরও সুযোগ রয়েছে, যার ফলে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুত চাহিদার কিছুটা হলেও যোগান দেয়া সম্ভব। অধিকন্তু বাঁশখালীর পশ্চিমাঞ্চলে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে যে বিস্তির্ণ সমুদ্র সৈকত রয়েছে তাকে আধুনিকায়ন করলে এটিও দেশের সেরা পর্যটন এলাকা হয়ে উঠতে পারে।
এসবের পাশাপাশি বাঁশখালীতে শিল্প স্থাপনের বিরাট সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে বাঁশখালীর গন্ডামারায় দেশের এস আলম গ্রæপ ১৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুত উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, যা আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা রাখবে। শিল্পউদ্যোক্তারা তাদের গার্মেন্টস, টেক্সটাইলসহ পোশাক শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ কারখানা সহজেই বাঁশখালীতে প্রতিষ্ঠা করতে পারে। বৃহৎ আকারের শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি এখানে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্প কারখানা এবং ব্যাপক পরিমাণে পোল্ট্রি এবং ডেইরি ফার্ম গড়ে তোলারও সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরে মুরগি এবং ডিমের যে চাহিদা তার শতকরা প্রায় ষাট ভাগেরই যোগান আসে বাইরের জেলাসমূহ বিশেষ করে পাবনা, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর ও টংগী থেকে। অথচ চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র ২০ মাইল দূরে অবস্থিত বাঁশখালীতে ব্যাপকহারে পোল্ট্রি খামার গড়ে তুললে সহজেই এই চাহিদা পূরণ হতে পারে। একইভাবে ডেইরি শিল্প গড়ে তুলে মাংস এবং দুধের যে ঘাটতি রয়েছে তা বহুলাংশে লাঘব করা যেতে পারে। চট্টগ্রাম শহরে দুধের যে চাহিদা তার সিংহভাগই ঢাকা থেকে আসে। আড়ং, মিল্টাভিটা, প্রাণ, ফার্মফ্রেশ, রংপুর ডেইরি, আফতাব ডেইরি, বিসমিল্লাহ ডেইরি, প্রাইম ডেইরি এবং ইগলু কোম্পানিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন ঢাকা থেকে পাস্তুরিত তরল দুধ চট্টগ্রাম শহরে যোগান দেয়। আর এসব দুধ সিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া এবং উত্তর বঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা হয়। অথচ চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে বাঁশখালীতে ব্যাপক আকারে ডেইরি ফার্ম করে সহজেই চট্টগ্রাম শহরে ফ্রেশ তরল দুধ সরবরাহ করা যায় এবং দুধের চাহিদা মেটানো যায়। এতে ব্যাপক কর্মসংস্থানও হবে যা বেকারত্ব দূরীকরণে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।
বাঁশখালীর পাহাড়ি অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। জলদীর পূর্বে অবস্থিত পাহাড়সমূহের বেশ কয়েক জায়গায় দীর্ঘদিন থেকেই অনবরত গ্যাস বের হচ্ছে, যার সচিত্র খবর ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে। এখানে মটির নিচে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। পাশাপাশি তেলের বিশাল মজুদসহ এখানে আরো অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বর্তমান বিশ্বে প্রাকৃতিক গ্যাস এবং তেল হচ্ছে উন্নয়নের অগ্রদূত। এ দু’টির অভাবে একটি দেশের উন্নয়ন যেমন মুখ থুবড়ে পড়ে, ঠিক তেমনি এ দু’টির উপস্থিতি দেশের উন্নয়নকে গতিশীল করে। তাছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশে গ্যাস সংকটও চলছে। এ অবস্থায় বাঁশখালীর গ্যাস উত্তোলনের মাধ্যমে দেশের বিদ্যমান গ্যাস সংকট নিরসন করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব। এ জন্য সরকারকে এখনই এগিয়ে আসতে হবে। গ্যাসের পাশাপাশি তেলসহ অন্যান্য খনিজ সম্পদ উত্তোলনে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাংকগুলোর ভূমিকা অপরিসীম। পূবালী ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, স্টান্ডার্ড ব্যাংক, এবি ব্যাংক, স্যোশাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক ইতোমধ্যেই বাঁশখালীতে তাদের শাখা খুলেছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা খুলেছে এবং আগামীতে আরো অনেক বেসরকারি ব্যাংক তাদের শাখা খুলবে। এভাবে বেসরকারি ব্যাংকগুলো এগিয়ে এলে এবং উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে বিনিয়োগ সুবিধা দিলে বাঁশখালী অতি দ্রত একটি উন্নত এবং সমৃদ্ধ এলাকায় পরিণত হবে। অধিকন্তু ভবিষ্যতে বাঁশখালী হবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। বাঁশখালী ওপর দিয়েই চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের বাসগুলো চলাচল করবে। এতে যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রায় একঘণ্টা সময় কমে যাবে। ফলে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও সময় সাশ্রয় হবে, যা জাতীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধ এবং মানব জীবনকে সহজ করে তুলবে। সাতকানিয়া ও চকরিয়ার পশ্চিমাঞ্চল এবং পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার অনেক মানুষই এখন বাঁশখালী হয়ে চট্টগ্রাম শহরে যাতায়াত করে থাকে। চট্টগ্রাম-বাঁশখালী-কক্সবাজার এই মহাসড়ক চালু হলে বাঁশখালী হয়ে উঠবে একটি আঞ্চলিক উপশহর ও অন্যতম বাণিজ্যের কেন্দ্র।
বাঁশখালীর দক্ষিণে অবস্থিত মহেশখালী উপজেলায় বর্তমান সরকার ব্যাপক অর্থনৈতিক কর্মকান্ড হাতে নিয়েছে। মহেশখালী জুড়েই চলছে বিরাট এক অর্থনৈতিক কর্মকান্ড। ইতোমধ্যেই মহেশখালীর তীরে স্থাপিত হয়েছে এলএনজি টার্মিনাল। বিদেশ থেকে আমদানি করা এলএনজি এই টার্মিনাল হতে পাইপ লাইনের মাধ্যমে বাঁশখালী হয়ে চট্টগ্রাম শহরে জাতীয় লাইনে সরবরাহ করা হচ্ছে। মহেশখালীতে স্থাপিত হচ্ছে তিনটি পাওয়ার প্লান্ট, যেখানে উৎপাদিত হবে ১৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। প্রতিষ্ঠা হচ্ছে ২টি এলএনজি টার্মিনাল, সমুদ্র বন্দর এবং ৬টি ইকোনমিক জোনসহ অসংখ্য উন্নয়ন কর্মকাÐ। ফলে অতিদ্রæতই মহেশখালী একটি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হবে। যেহেতু চট্টগাম শহর থেকে বাঁশখালী হয়েই মহেশখালীতে যেতে হয় এবং মহেশখালীতে উৎপাদিত পণ্য বাঁশখালী হয়েই চট্টগ্রাম শহরে আসে, সেহেতু মহেশখালীতে চলমান অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞের প্রভাব সরাসরি বাঁশখালীতে পড়বে এবং বাঁশখালীও অতিদ্রæত উন্নত হবে। কর্ণফূলি টানেলের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে, আনোয়ারা এবং চট্টগ্রাম শহরের মাঝে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। আনোয়ারায় স্থাপিত হতে যাচ্ছে চায়না ইকোনোমিক জোন, যাতে স্থাপিত হবে অনেক শিল্প কারখানা। ইতোমধ্যেই আনোয়ারায় স্থাপিত হয়েছে কোরিয়ান ইপিজেড। আনোয়ারা বাঁশখালীর সমুদ্রসংলগ্ন তীর দিয়ে মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের যে মহাপরিকল্পনা সরকার হাতে নিয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে সেই মেরিন ড্রাইভ দিয়েই মানুষ কক্সবাজার যাতায়াত করবে। তখন সাগর তীরবর্তী বাঁশখালীর পুরো পশ্চিমাঞ্চলই হয়ে উঠবে একটি অতি উন্নত পর্যটন এলাকা। এখানে গড়ে উঠবে কক্সবাজারের মতই বড় বড় আবাসিক হোটেল এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকের পদচারণায় এ অঞ্চল হবে মুখরিত, যা দেশের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। আনোয়ারা এবং মহেশখালীর মাঝখানে অবস্থিত বাঁশখালী হবে অর্থনৈতিব উন্নয়নের প্রাণকেন্দ্র।
এ অবস্থায় বাঁশখালীর উন্নয়নে আজ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে বাঁশখালীর উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে। বাঁশখালী একটি উপজেলা হওয়া সত্তে¡ও, এখানে যে পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ এবং উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও সমৃদ্ধির সুযোগ আর সম্ভাবনা রয়েছে, তা দেশের অনেক জেলা এবং বড় বড় শহরগুলোতে নেই। বাঁশখালীর এই অফুরন্ত সম্ভাবনাকে কাজে লাগালে দেশও উন্নত হবে। সুতরাং বাঁশখালীতে যে প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে, তাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হবে। একই সাথে উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির যে সম্ভাবনা রয়েছে, তাকে যথাযথ কাজে লাগাতে হবে। আর এসবের জন্য সুষ্ঠু পরিকল্পনা, সম্মিলিত উদ্যোগ এবং সরকারি সহযোগিতা একান্তই প্রয়োজন।
লেখক: প্রকৌশলী, আজীবন সদস্য, বাঁশখালী ফাউন্ডেশন, চট্টগ্রাম।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর