Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

ভোট দেয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে সুজনের সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৭ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১২:০৫ এএম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের ভোট দেয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। জনগনের আস্থা ফেরাতে কমিশনের দায়িত্ব ও স্বচ্ছতা দৃশ্যমান হতে হবে। নির্বাচনে অংশ নেয়া রাজনৈতিক দলগুলেকেও দল ও দেশ পরিচালনায় তাদের ভূমিকা কী হবে তা নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করতে হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে নির্বাচনী ইশতেহার: নাগরিক ভাবনা শীর্ষক সুজন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্যে নির্বাচনী ইশতেহার বিষয়ে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ইশতেহারে এমন বিষয় থাকতে হবে যা সত্যিকার অর্থে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। ভোটের অধিকার নিশ্চিত হয়। এমন নির্বাচনী রূপরেখা থাকতে হবে যাতে আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়। নির্বাচন কমিশনে নিয়োগের বিষয়ে আইন তৈরি সুজন সম্পাদক বলেন, ইসি কর্মকর্তা নিয়োগে একটি আইন তৈরি করতে হবে যাতে সংস্থাটিতে সৎ, যোগ্য, নিরপেক্ষ ও স্বাধীনচেতা লোক নিয়োগ পায়। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে আর্থিক, শিক্ষা খাতে বৈষম্য দূর করার প্রতিশ্রæতি থাকতে হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করার বিষয়ে তিনি আরো বলেন, সংসদকে প্রভাবমুক্ত করতে হবে। যাতে সংসদ সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারে।
সুজনের সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, যেসব আইন-কানুন রয়েছে তা যদি বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে আশা করা যায় সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত, তারা যে ইশতেহার ঘোষণা করবে ক্ষমতায় যাওয়ার পর তা যেন বাস্তবায়ন করা হয়। ক্ষমতায় যাওয়ার পর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা তাদের অঙ্গীকার অধিকাংশই বাস্তবায়ন করে না। সুজনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সরকার ও দেশ পরিচালনায় জনগণের মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিহাস ও দল পরিচালনায় তাদের কার কী ভূমিকা তা তুলে ধরতে হবে। জনগণের অধিকার আদায়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অর্জন তুলে ধরতে হবে। প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সংস্কারের রূপরেখা দিতে হবে, নির্বাচনে প্রার্থীর যোগ্যতা-অযোগ্যতা, হলফনামার সংস্কার, হলফনামা যাচাই-বাছাই, নির্বাচনী ব্যয়ে স্বচ্ছতা এবং না ভোটের বিধান থাকাও উচিত। শাসন ব্যবস্থার একচ্ছত্র প্রাধান্যের অবসান করতে হবে। সাংবিধানিক সংস্কার, মেয়াদের সীমা নির্ধারণ, দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ, গণভোট, রিকল ব্যবস্থা, ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও ধর্মনিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় সুজন নির্বাহী সদস্য, কলামিস্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, সরকারি দলের লোকজন যেভাবে নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা করছেন তাতে মনে হচ্ছে সরকারি দলের লোকজন নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগে নেমেছেন। এ অবস্থায় জনগণের আস্থা ফেরাতে হলে তাদেরই প্রমাণ করতে হবে তারা দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম, স্বচ্ছ নির্বাচন করতে পারবে। নির্বাচন কমিশনকে তাদের স্বচ্ছতা ও দায়িত্ব দৃশ্যমান করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, তত্ত¡াবধায়ক সরকারেরর সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান, বিশিষ্ট গবেষক, কলামিস্ট ও সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ,বেলার সভাপতি সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার প্রমুখ।



 

Show all comments
  • হতদরিদ্র দীনমজুর ৭ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৪:৩৫ এএম says : 0
    গ্রাম অজপাড়াগায়েঁর খবর তো আপনাদের না থাকার কথা|| ৫ই জানুয়ারির মতই তারা চায়|| জনগনের ভোটের তোয়াক্কা করেনা তারা ||
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর