Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

আপিল শুনানিতে হট্টগোল ইসিতে

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৭ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১২:০৫ এএম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার যাচাই-বাছাইয়ে বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্রের ওপর শুনানির প্রথম দিনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) হট্টগোল হয়েছে। আপিলেও বিএনপি প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাসিরের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করার যুক্তি উপস্থাপন করা সময় হট্টগোলের এঘটনা ঘটে। গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনের অস্থায়ী এজলাসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে দিনব্যাপী এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এ আপিল শুনানি করেছেন। এজলাসে ইসি সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদও উপস্থিত ছিলেন। মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির প্রথম দিনে ১৬০টি আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আপিল শুনানি শেষে ৮১টি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ৭৯টি আপিলে ৭৭টি মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল আছে। দুইটি মনোনয়নপত্র বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রয়েছে।
ইসির ৬৫ নম্বর সিরিয়ালে থাকা চট্টগ্রাম-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাসিরের আপিল শুনানি শুরু হয় দুপুরে। শুরুতে আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন যুক্তি উপস্থাপন করেন। এরমধ্যে হঠাৎ আওয়ামীলীগের নেতা ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম এতে বাধ সাধেন। পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন তিনি। এ সময় কমিশনারদের পক্ষ থেকে বলা হয়, আপনি কি আপিলের বিপক্ষে কথা বলার জন্য আবেদন করেছেন? এতে সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। তখন কমিশনাররা তাকে কথা না বলে বসতে বলেন। পরে মাহবুব উদ্দিন খোকন ফের যুক্তি উপস্থাপন শুরু করলে আবারও ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম উঠে দাঁড়িয়ে কথা বলা শুরু করেন। তখন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন,আপনী কে (তানজীব উল আলম). আপনী এখানো কেন। এ সময় মাহবুব উদ্দিন খোকন আপিলের বিচারকদের উদ্দেশ্যে বলেন, স্যার উনার আচরণ দেখেছেন? একেবারে সরকারি দলের আচরণের মতো। মাঠেও আমরা এমন আচরণ পাই। এরপর আপিল বিভাগ আপিলের রায় পরে ঘোষণার জন্য স্থগিত করেন। দুপুরের বিরতির পর শুনানি শুরু হলে মীর নাছিরের প্রার্থীতা বাতিল বলে রায় দেয়া হয়। এ বিষয়ে মীর নাছির বলেন, এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতে আপিল করবো।
এর পরে নাটোর-২ (সদর ও নলডাঙ্গা) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং সিরাজগঞ্জ-২ আসনে সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর মনোনয়নপত্র আপিলেও বাতিল হয়েছে। ফৌজদারি মালমায় সাজাপ্রাপ্ত থাকায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পর এজলাস থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, সুপরিকল্পিতভাবে অমার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আমি ন্যায় বিচার পাইনি। ইসির এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা হবে।
এর আগে সকালে মির্জা আব্বাসের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আদালত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করতে ইসিকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী যাচাই-বাছাই শেষে মির্জা আব্বাসের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয় নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে থাকা ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাসের মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার মনোনয়নপত্র বাছাই সম্পন্ন করতে বলা হয়। গত ২৮ নভেম্বর ঢাকা-৯ আসন থেকে চেষ্টা করেও মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। ১ ডিসেম্বর এটি নির্বাচন কমিশন অফিসে জমা দেয়া হয়। এরপর নিয়ম অনুযায়ী ২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্রটি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানোর কথা থাকলেও তা করা হয়নি। ফলে ওই মনোনয়নপত্রের যাচাই-বাছাই সম্পন্নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টের রিট করা হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর