Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

রিশালে দুটি টেলিফোন এক্সচেঞ্জে গোলযোগ

বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা

নাছিম উল আলম : | প্রকাশের সময় : ৮ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

সরকারি দুটি টেলিফোন এক্সচেঞ্জের লাগাতর গোলযোগের কারনে বরিশাল মহানগরীতে যেকোন সময়ই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে। এমন আশংকায় মহানগরীর সচেতন নাগরিক সমাজে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বাড়লেও খুব একটা হেলদোল নেই বিটিসিএল-এর দায়িত্বশীল মহলে। গতকালও দুপুরের পর থেকে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার সংযোগ ক্ষমতার চীনা সাংহাই বেল কোম্পানীর ঐ টেলিফোন এক্সচেঞ্জটি বন্ধ ছিল। সন্ধা ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এক্সচেঞ্জটি সচল করার কোন উদ্যোগ ছিলনা বিটিসিএল-এর দায়িত্বশীল কর্তাদের।

নগরীর দমকল স্টেশন, কোতয়ালী থানা, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগ ছাড়াও পুলিশ-প্রশাসনসহ বেশীরভাগ জনগুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন নম্বরগুলোই ঐ এক্সচেঞ্জের সাথে সংযূক্ত। ফলে যেকোন ধরনের অগ্নিকান্ড সহ আইন-শৃংখলা জনিত কোন বিপর্যয় ঘটলে সময়মত কোন খবরও পৌছবে না ঐসব জরুরী সেবা প্রতিষ্ঠানে। ‘৬’ দিয়ে শুরু এক্সচেঞ্জের সাথে ঐসব জরুরী সেবা প্রতিষ্ঠানের টেলিফোনগুলো সংযূক্ত। গত এক বছর যাবতই এক্সচেঞ্জটিতে মারাত্মক গোলযোগ চলছে। অপরদিকে জাংশন ক্যাবল অকার্যকর হয়ে পড়ায় নগরীর বেশীরভাগ এলাকায় ‘৭’ দিয়ে শুরু এক্সচেঞ্জটির টেলিফোন সংযোগ বন্ধ গত প্রায় একবছর। জাংশন ক্যাবলটি মেরামত বা পূণর্বাসন করে গ্রাহকের সংযোগ চালু করার ন্যুনতম কোন উদ্যোগই নেই বিটিসিএল-এর দায়িত্বশীল মহলের। প্রায় দেড় হাজার সংযোগ ক্ষমতার অর্ধেক টেলিফোনই বিকল হয়ে আছে গত প্রায় এক বছর ধরে।

দীর্ঘ দিনের পুরনো চীনা ‘সাংহাই-বেল’ কোম্পানীর ‘৬’ দিয়ে শুরু টেলিফোন এক্সচেঞ্জটির ব্যাটারি অকার্যকর হয়ে পড়ায় যেকোন বৈদ্যুতিক গোলযোগের সাথে সাথেই তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ লাইন ট্রিপ করার দু মিনিটের মধ্যে স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর চালু হলেও এক্সচেঞ্জটি আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সচল হচ্ছে না। এক্ষেত্রে পুনরায় কম্পিউটারে কমান্ড দিলেও এক্সচেঞ্জটি চালু করতে প্রায় ৩০ মিনিট সময় লাগছে।
কিন্তু জনবল সংকট না থাকলেও বিটিসিএল বরিশাল এক্সচেঞ্জের সুইস রুমে বেশীর ভাগ সময়ই কোন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা থাকেন না। অফিস চলাকালে ৬ দিয়ে শুরু ৪ হাজার ২৫০ সংযোগ ক্ষমতার টেলিফোন এক্সচেঞ্জটি ঘন্টার পর ঘন্টা বন্ধ থাকছে। অফিস সময়ের পরে বন্ধ হলে টেলিফোন এক্সচেঞ্জটি সচল হওয়া অনিশ্চয়তায় পড়ছে। অথচ বরিশালে বিটিসিএল-এর সহকারি প্রকৌশলী থেকে বিভাগীয় প্রকৌশলীর কোন অভাব নেই।

যে ব্যাটারি সংকটে এক্সচেঞ্জটির এখন জবনিকা কম্পমান, তা সংগ্রহের প্রক্রিয়াও চলছে বিগত বছর ধরে। দুই ভোল্টের ২৪টি হেভী ডিউটি ব্যাটারী সংগ্রহে সম্প্রতি বিটিসিএল-এর সদর দপ্তরের অনুমতি মিললেও সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে কবে তা সংগ্রহ হবে সে বিষয়ে বলতে পারছেন না দায়িত্বশীল মহল। তবে যত দ্রুত সম্ভব এ লক্ষে পদক্ষেপ গ্রহনের কথা জানিয়েছেন বরিশাল অঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার।
বর্তমানে দিন-রাতের যেকোন সময়ই ‘৬’ দিয়ে শুরু টেলিফোন এক্সচেঞ্জটি বন্ধ হলেও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অবহেলার কারনেই তা সচল হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। জরুরী প্রয়োজনে অনেক সেবা প্রত্যাশী মহানগরীর একমাত্র দমকল স্টেশনসহ পুলিশ-প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন না। দমকল ও পুলিশ স্টেশনের টেলিফোন বিকল থাকায় এ নগরীতে যেকোন সময়ই বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে বলে শংকিত সচেতন মহল।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর