Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৬, ১৭ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

সিলেট-৬ আসন দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন নাহিদ

মাঠে নেই সমসের আতংকে ফয়সল

এম.হাসানুল হক উজ্জ্বল, বিয়ানীবাজার (সিলেট) থেকে | প্রকাশের সময় : ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৩:১০ পিএম

ঢাক ঢোল পিঠিয়ে অনেকটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিকল্প ধারার প্রার্থী সমসের মবিন চৌধুরী নির্বাচনের মাঠে এলেও প্রতিক বরাদ্দের পর থেকে তাকে মিলছে না মাঠে। মহাজোট প্রার্থী শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ নির্বাচনী মাঠে দাঁপিয়ে বেড়ালেও ভোটারদের তেমন সাড়া পাচ্ছেন না। আর ঐক্যজোট প্রার্থী কর্মী সমর্থক নিয়ে প্রচারণা চালাতে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে হচ্ছে বাঁধার সম্মুখিন। তাই ঐক্যজোটের প্রচারণা চলছে নিরবে। সিলেট -৬ (গোলাপগঞ্জ- বিয়ানীবাজার) নির্বাচনী আসনের বাস্তব চিত্র এই।
সিলেট-৬ আসন সিলেটের অন্যান্য আসনের চেয়ে অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ। এই আসনে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী টানা ২ বার ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। সরকারের ২ বারের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে নিয়ে এবারের নির্বাচনের পূর্বে অনেক আলোচনা সমালোচনার জন্ম দেন নিন্দুকেরা। তারা এই আসনে তার পরিবর্তে প্রার্থী দেওয়ার দাবী জানিয়ে নানা ভাবে দলীয় প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষন করানোর চেষ্টা করেন। এ নিয়ে এই আসনের আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের অনেকের মধ্যে হতাশা দেখা দিলেও কোন্দলে জর্জরিত আওয়ামীলীগের বিশেষ একটি অংশ দারুন খুশি হন। শেষ পর্যন্ত সকল দিক বিবেচনা করে দলীয় প্রধান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে দলীয় মনোনয়ন দেন। শিক্ষামন্ত্রীর মনোনয়ন প্ওায়ার পর এই আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন বিকল্প ধারার প্রার্থী ড. সমসের মবিন চৌধুরী। আর ঘোষণা অনুযায়ী তিনি এই আসনে প্রার্থী হন। আওয়ামীলীগ প্রথমে সমসের মবিন চৌধুরীকে অনেকটা ভয় পেলেও মাঠে আসার আগেই সমর্থক শুন্য হয়ে পড়েন সমসের। তাই আওয়ামীলীগের মধ্যে এ নিয়ে তেমন কোন মাথা ব্যথা নেই। তবে দলীয় কোন্দল এখনো মহাজোট প্রার্থী নুরুল ইসলাম নাহিদকে অনেকটা বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে। নুরুল ইসলাম নাহিদ নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গিয়ে বিষয়টি আঁচ করতে পারলেও সমস্যা সমাধানের কোন উদ্যোগ এখনো নেন নি। তাই ত্যাগী দলীয় নেতারা অনেকটা হতাশ। এরপর দলীয় ত্যাগী নেতাদের দীর্ঘ দিনের অভিযোগ ছিল তিনি মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে একটি বলয়ের মধ্যে আবদ্ধ থেকে তার কর্মকান্ড চালিয়ে গেছেন। আর এই বলয়ের কয়েকজনের নিয়ন্ত্রন ছিল দুই উপজেলার সকল কর্মকান্ড। এ নিয়ে দলীয় ফোরাম থেকে তৎকালীন সময়ে মন্ত্রীকে বারবার অভিযোগ করা হলেও তিনি তা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন নি। এই অভিযোগ দুই উপজেলার আওয়ামীলীগ নেতাদের। তবে মন্ত্রী বলেছেন, তিনি বলয় টলয় বুঝেন না। দুই উপজেলার আওয়ামীলীগ সভাপতি সেক্রেটারীর সাথে পরামর্শ করে সকল কর্মকান্ড করেছেন।
সিলেট ৬ আসনে প্রায় ৪ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার কথা রয়েছে। এখানে সম্প্রদায়গত কিছু বিষয়াধি রয়েছে। তাই এখানে সকলকে ম্যানেজ করে যে সমর্থন আদায় করতে পারেন তিনি’ই হন এখানের এসপি। অতিতের ধারনা থেকে এ তথ্যই প্রদান করেছেন বিশ্লেষকরা। এবার এই আসনে মহাজোটের প্রার্থীর জন্য অনেকটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মৎস্যজীবি সম্প্রদায়। বিয়ানীবাজার শহর থেকে মাছ বাজার উচ্ছেদ করার পর থেকে মন্ত্রীসহ আওয়ামীলীগের প্রতি তারা নাখোঁশ। আওয়ামীলীগের রাজনীতি করেন এমন মৎস্যজীবি নেতারা মন্ত্রীর সাথে কাজ করলেও ভোটের বাক্সে কি হবে এ বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে রাজনীতিক বিশ্লেষকদের। তাদের মতে, এখন তাদের সাথে বিরোধ মিটিয়ে ফেলার অনেক সময় রয়েছে। তাই উদ্যোগী হয়ে যদি সংশ্লিষ্টরা এই বিরোধ নিরসন না করেন তাহলে হিতে বিপরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়াও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের জন্য বিয়ানীবাজারে অনেকটা ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে ছাত্রলীগের গ্রুপিং রাজনীতি। বিয়ানীবাজারে ছাত্রলীগের রয়েছে ৬টি গ্রুপ, যুবলীগের নেই দৃশ্যত কোন কার্যক্রম। আওয়ামীলীগকে এক দেখা গেলেও ভেতরে ভেতরে রয়েছে গ্রুপিং। গোলাপগঞ্জেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। এই সব সমস্যা সমাধানের কোন উদ্যোগ গ্রহণে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেতাকর্মীদের নিতে দেখা যায় নি। তবে বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান খান বলেছেন, ঘরে ঘরে নৌকার কর্মী রয়েছেন। যদি সাধারণ ভোটার মনে করেন শিক্ষামন্ত্রীর আমলে বিয়ানীবাজার গোলাপগঞ্জ উপজেলায় উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমুল পরিবর্তন শিক্ষামন্ত্রী এনেছেন তাহলে তারা নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামীলীগের প্রার্থী নুরুল ইসলাম নাহিদকে বিজয়ী করবেন। তিনি বলেন, সকল মিটিংয়ে নেতাকর্মী ও ভোটারের সাড়া মিলছে। তারা এক হয়ে কাজ করছেন। নৌকাকে ব্যালটের মাধ্যমে আটকানোর ক্ষমতা কারো নেই বলে মন্তব্য করেন এই নেতা।
তবে আওয়ামীলীগের মাঠ পর্যায়ের ত্যাগী নেতাদের অভিযোগ মন্ত্রী নির্বাচনী প্রচারণায়ও সেই বলয়ের বাহিরে আসতে পারছেন না। এই বলয় থেকে বের হয়ে সাধারণ নেতাকর্মীদের জন্য কাজ করার ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সাধারণ ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীরা নৌকার পক্ষে ঝাপিয়ে পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন না।
সার্বিক প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ১৭ বছর থেকে আওয়ামীলীগের রাজনীতি করছি। বড় দল ক্ষোভ দুঃখ থাকবে তা স্বাভাবিক। তবে ভোট প্রশ্নে আমরা সকলেই এক। তিনি জনগণের অভ’তপূর্ব সাড়া পেয়ে অভিভূত বলে জানিয়ে বলেন, পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে দুই উপজেলায় যে সকল উন্নয়ন হয়েছে তা আর কারো সময় হয়নি। আওয়ামীলীগের আমলেই সম্ভব হয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজ করেন না উল্লেখ করে বলেন, জনগণের চাহিদা ও বাস্তব অবস্থা দেখেই এই এলাকার উন্নয়নে হাত দিয়েছি তাই তড়িৎ এতো উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।
এদিকে ঐক্যজোটের প্রার্থী ফয়সল আহমদ চৌধুরী প্রবাসী ও ব্যবসায়ী। জেলা পর্যায়ে তিনি ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। বিয়ানীবাজারের সন্তান এই রাজনীতিবীদ সংসদ সদস্য নির্বাচন করার জন্য অনেক আগে থেকেই লবিং করে আসছিলেন। তৃণমুলে তার পরিচিতি তেমন না থাকলেও ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করায় তিনি ভোটারের কাছে গ্রহণ যোগ্যতা পাচ্ছেন। যদিও দলীয় নেতাকর্মীরা মামলার ও গ্রেফতারের ভয়ে অনেকটা গাঁ ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। প্রকাশ্যে তাদের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে সাহস পাচ্ছেন না। তারপরও ঐক্যজোট প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের কথাবার্তা সবখানেই চলছে।
ঐক্যজোটের প্রার্থী ফয়সল আহমদ চৌধুরী সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, তার কর্মীদের পুলিশ হয়রানী করছে। অনেক কর্মীকে ইতোমধ্যে পুলিশ গ্রেফতার করা হচ্ছে। তিনি এসবের জন্য মহাজোটের প্রার্থী নুরুল ইসলাম নাহিদকে দায়ী করেছেন। তবে মহাজোট প্রার্থী নুরুল ইসলাম নাহিদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মহাজোট থেকে সমসের মবিন চৌধুরী নির্বাচন করার জন্য জোর লবিং চালিয়ে ব্যর্থ হন। তারপরও তিনি মাঠ ছাড়েন নি। তিনি বর্তমানে বিকল্প ধারা প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন। সাবেক সচিব এই প্রার্থী নির্বাচন করার জন্য সকল প্রস্তুুতি নিলেও এখনো পর্যন্ত তাকে ভোটের মাঠে দেখেন নি ভোটারগণ। শেষ পর্যন্ত তিনি ভোটের মাঠে থাকবেন কি-না এ নিয়ে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: জাতীয় সংসদ নির্বাচন

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ