Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১১ মাঘ ১৪২৫, ১৭ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের ইন্তেকাল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

দেশবরেণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক আমজাদ হোসেন আর নেই। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় ২টা ৫৭ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আমজাদ হোসেনের পরিবারের বরাত দিয়ে ডিরেক্টরস গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ও চলচ্চিত্র পরিচালক এস এ হক অলিক এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, লাশ কবে দেশে আনা হবে তা এখনও ঠিক হয়নি। চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, চিত্রনাট্যকার ও অভিনয়শিল্পী আমজাদ হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গতকাল এক শোকবার্তায় তিনি বলেছেন, বরেণ্য এই শিল্পীর মৃত্যুতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি হল। স্বীয় কর্মের মাধ্যমে তিনি মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
গত ১৮ নভেম্বর আমজাদ হোসেন ব্রেন স্ট্রোক করলে তাকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বেশ কিছুদিন লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি।
এরপর তার চিকিৎসার সব দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উন্নত চিকিৎসার খরচ বাবদ নন্দিত এই নির্মাতার পরিবারের হাতে ২০ লাখ টাকা এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া বাবদ ২২ লাখ টাকা দেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর ২৭ নভেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে অসুস্থ আমজাদ হোসেনকে পরিচালককে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার সাথে যান দুই ছেলে দোদুল ও সোহেল আরমান। বর্তমানে ব্যাংককে রয়েছেন আমজাদ হোসেনের ছেলে সোহেল আরমান।
আমজাদ হোসেনের জন্ম ১৯৪২ সালের ১৪ই আগস্ট, জামালপুরে। শৈশব থেকেই তার সাহিত্য চর্চা শুরু। পঞ্চাশের দশকে ঢাকায় এসে সাহিত্য ও নাট্যচর্চার সঙ্গে জড়িত হন। মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘তোমার আমার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি অভিনয় শুরু করেন। এর পরপরই অভিনয় করেন মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘হারানো দিন’ চলচ্চিত্রে। তবে এর পরের ইতিহাসটা একেবারেই অন্যরকম। পরিচালক সালাহউদ্দিন আমজাদ হোসেনের লেখা নাটক ‘ধারাপাত’ নিয়ে প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এতে আমজাদ হোসেন নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন। এরপর আমজাদ হোসেন জহির রায়হানের ইউনিটে কাজ শুরু করেন। এভাবেই দীর্ঘদিন কাজ করতে করতে ১৯৬৭ সালে তিনি নিজেই ‘জুলেখা’ নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এরপর নূরুল হক বাচ্চুর সঙ্গে যৌথভাবে নির্মাণ করেন ‘দুই ভাই’। তার পরিচালিত ব্যাপক দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলো হচ্ছে বাল্যবন্ধু, পিতাপুত্র, এই নিয়ে পৃথিবী, বাংলার মুখ, নয়নমনি, গোলাপী এখন ট্রেনে, সুন্দরী, কসাই, জন্ম থেকে জ্বলছি, দুই পয়সার আলতা, সখিনার যুদ্ধ, ভাত দে, হীরামতি, প্রাণের মানুষ,সুন্দরী বধূ, কাল সকালে, গোলাপী এখন ঢাকায়, গোলাপী এখন বিলেতে ইত্যাদি। গুণী এই পরিচালক ১৯৭৮ সালে গোলাপী এখন ট্রেনে এবং ১৯৮৪ সালে ভাত দে চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া সাহিত্য রচনার জন্য তিনি ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে দুইবার অগ্রণী শিশু সাহিত্য পুরস্কার ও ২০০৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ