Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬, ২২ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

দেখা হলো, তবু কথা হলো না...

ইনকিলাব ডেস্ক : | প্রকাশের সময় : ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

একের ‘আছে দিন’কে অপর জনের ‘আছে দিনে’র ব্যাস্তানুপাতিক হিসেবে দেখে গোটা দেশ। ফলে তাঁরাও যে একে অপরকে খুব একটা ভালো চোখে দেখবেন না, সেটাই স্বাভাবিক। বিশেষ করে যখন ক’দিন আগেই নির্বাচনী ময়দানে ঝড় তুলেছে ‘চৌকিদারই চোর’ এবং ‘কংগ্রেসের বিধবা’র মতো স্লোগান। কিন্তু, সৌজন্য? কুশল বিনিময়? আজ্ঞে না। সেটুকুও হল না।

সংসদ ভবনে হামলায় শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে বৃহস্পতিবার হাজির হয়েছিলেন সাংসদরা। তখনই একেবারে পাশাপাশি চলে আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। পাঁচ রাজ্যের ফলঘোষণার পর এই প্রথমবার। মাঝে তখন শুধু মনমোহন সিং। এগিয়ে গিয়ে পূর্বসূরীর সঙ্গে হাত মেলালেন মোদী। কিন্তু, এড়িয়ে গেলেন রাহুলকে। যেন দেখেও দেখলেন না! রাহুলও প্রধানমন্ত্রীকে না দেখার ভান করে উল্টো দিকে তাকিয়ে রইলেন। দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিজয় গোয়েল এবং রামদাস আটাওয়ালে কংগ্রেস সভাপতির সঙ্গে কুশল বিনিময় করলেন কিন্তু মোদী-রাহুল দূরত্ব বজায় রেখেই অনুষ্ঠান ছাড়লেন।
এ দিকে, তিন রাজ্যে হারের পর এ দিন প্রথম বিজেপির সংসদীয় দলের বৈঠক হল। যদিও, সাংসদদের কাছে এ নিয়ে একটি শব্দও উচারণ করলেন না প্রধানমন্ত্রী। বিজেপি সাংসদদের প্রত্যাশা ছিল, প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই এ নিয়ে কিছু বলবেন, ভবিষ্যতের জন্য দিশানির্দেশ করবেন। তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ হল না। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বললেন বটে, কিন্তু সেটা বাজপেয়ী, অনন্তকুমার এবং ভোলা সিং-কে নিয়ে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, সংসদীয়মন্ত্রী এবং বিহার থেকে নির্বাচিত দলের সাংসদ স¤প্রতি প্রয়াত হয়েছেন। তাঁদের শ্রদ্ধা জানিয়েই বৈঠক শেষ হয়ে যায়।
এরপর প্রধানমন্ত্রী, রাজনাথ সিং, সুষমা স্বরাজ, অরুণ জেটলি, অমিত শাহরা চলে যান সতেরো বছর আগে ঠিক এই দিনে সংসদ রক্ষা করতে গিয়ে যাঁরা শহিদ হয়েছিলেন তাঁদের শ্রদ্ধা জানাতে।
অতীতে যখনই কোনও রাজ্যে বিজেপি-র জয় হয়েছে, পরের সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকেই সেই বিজয়ের ষোলোআনা কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁকে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়েছে। এমনকী কর্নাটকে দলের হারের পরেও দলীয় দপ্তরে এসে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আসলে বিজেপি-রই নৈতিক জয় হয়েছে। কিন্তু, এ দিন ছিল ব্যতিক্রম।
উল্টে প্রধানমন্ত্রী এই বার্তাই দিলেন যে তিন রাজ্যের পরাজয়ে তিনি একেবারেই বিচলিত নন। বিজেপি সূত্রের খবর, ফল প্রকাশের দিন প্রধানমন্ত্রী অন্য দিনের মতোই ব্যস্ততায় কাটিয়েছেন। সকাল সাড়ে দশটায় সংসদে গিয়েছেন। দুপুরে উত্তরপ্রদেশে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনাগুলির অগ্রগতি নিয়ে বৈঠক করেছেন। ১৬ ডিসেম্বর রায়বরেলি ও প্রয়াগরাজে তাঁর উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করার কথা। সন্ধ্যায় তিনি শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে পার্টনারস ফোরামের সভায় তাঁর বক্তৃতার ‘ফিনিশিং টাচ’ দেনণ
পরের দিন অর্থাৎ, ১২ ডিসেম্বরও তিনি সকাল ৯টায় বিজ্ঞান ভবনের অনুষ্ঠানে যান। তার পর সেখান থেকে চলে যান সংসদ ভবনে। প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সবই চলে আগের মতো। যেন কোথাও কোনও ভোটই হয়নি, পরাজয় তো দূরের কথা! কিন্তু, এই কৌশলে দল এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্বেগ মোছা যাবে তো? প্রশ্নটা অনেকেই তুলছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন