Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

একগুচ্ছ পদাবলি

| প্রকাশের সময় : ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১২:০৭ এএম

জাহানারা আরজু

এ আমার স্বদেশ

আমার স্বদেশ আমার বুকের গভীরে দিনরাত
কথা বলে, আমার স্বপ্নে সুপ্তিতে জাগরণে কর্ম কোলাহলে,
দুঃখের দাবানলে, কখনো খুশির পুষ্পিত পরাগে
আমার স্বদেশ কথা বলে?
আমার স্বদেশ-
বর্ষায় বাদলে, চৈত্রের খা-খা রৌদ্দুরে শীতের তুহিনে
কখনো ব্যথা-নীল ঢল, কখনো অগ্নিগিরি দাবাগ্নি দহনে,
কখনো দুঃসহ ব্যথা-জমাট বরফ-সাগর-
তবু কথা বলে, অহরহ আমার বুকের তন্ত্রীতে সহস্র
রাগ মূর্ছনায় বেজে ওঠে ধ্বনিময়-আমার স্বদেশ।
আমার পূর্বপুরুষ আর উত্তর পুরুষের মিলিত স্রোতধারায়
এ মাটি আমার-
এখানে আমার পবিত্র জন্মলগ্ন মাতৃ-নাড়ি ছিন্ন হয়ে
সূর্যের পৃথিবীতে প্রথম দেখে-
আমার কুসুমিত শৈশব একে একে দৃঢ়তায় পদক্ষেপ রাখে,
আমার বন্ধনহারা দামাল কৈশোর বৈাশেখের ঝড়ে আম কুড়ায়,
এবং পদ্ম মেঘনা নির্ভীক আনন্দে সাঁতার কাটে,
এখানেই আমার যৌবন প্রথম প্রেমের স্পন্দিত গুচ্ছ গুচ্ছ
পুষ্পঞ্জলি ছিটোয়-
এখানেই আমার বার্ধক্য তার সম্ভার তরুণী বয়ে বয়ে একদিন
পরিশ্রান্ত পণ্যের বোঝা নামায়-এ আমার স্বদেশ।
এখানে কানুপা-চন্ডীদাস-বিদ্যাপতি-আলওল-সৈয়দ হামজা-
রবীন্দ্রনাথ-নজরুল স্থির নিশানায় নিয়ত আমাকে পথ দেখায়-
আমার দু’চোখের বিন্দুতে সে আলো জ্বেলে আমি এখানেই
ফিরে আসি, ভালোবাসি, ভালোবাসা পেতে চাই- এ আমার স্বদেশ!
এখানে আমার টগবগে তারুণ্য কখনো বুলেট বারুদে
আতশবাজির মতো ফেটে পড়ে-
কখনো আমি বুনো জিঘাংসার শিকার হয়ে
ছিন্ন ভিন্ন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাই-
তবুও আমি নিয়তই রক্তবীজের ঝার রেখে যাই
এখানেই-এ আমার স্বদেশ।
আমার ভালোবাসায়, আমার বেদনায়, আমার তৃষ্ণায়
পাওয়া-না-পাওয়ার-শোকে শান্তিতে
আঁকড়ে থাকি এ মাটি-
এবং আমি ফিরে আসি শিশু যেমন খেলা শেষে
তার মায়ের কোলেই ফিরে আসে,
পাখী ফিরে আসে দিন শেষে ছোট্ট নীড়টাতে,
আমিও তেমনি ফিরে আসি মৃত্যু-ঘুমের স্থায়ী
আবাসটুকু চেয়ে-এখানেই-
এ আমার স্বদেশ।

ফাহিম ফিরোজ
ফাস্টলাইক : ২

মুহূর্তে দর্শন; অভিমান
মেঘ থম থম গোলময়
কাকী, তারে নাকি ফেলে গেছি?
কয় কয় ঘাসমূলে, ফোলে
কইছে কইছে দাদীমায়
এসব বাজার নয়-
আছি বাবা মাইনকা চিপায়!


রকি মাহমুদ
অসহায় বোতাম

থাক প্রাণ আর না থাক, সকল বস্তু
এক সর্বজনীন চেতনায় বিধৃত
বিশ্বত্মার সংস্পর্শে এসে সকল জীব
আর ব্যক্তিআত্মা দীপ্তিমান হয়ে ওঠে
দেহনিরপেক্ষ অধ্যাত্ম সত্তার কোন
ধ্বংস নেই, শুধুই রূপান্তর।
অনাদি আত্মা কেবল ঠিকানা
পরিবর্তন করে, আদি উৎস স্থলে
প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, তন্ময়তা, অভ্যন্তরীণ
পরিবর্তনের মাধ্যমে আসে এই তৃপ্ততা।
নিরবচ্ছিন্ন শুভচিন্তার সমন্বয়ধর্মী দর্শন
পরিপূর্ণ মাহাত্ম্যে বিকশিত হয়
প্রজ্ঞাই পারে অতীন্দ্রিয়ানুভূতির পঙ্কিলতা
থেকে দায়মুক্তির সন্ধান দিতে
কি হবে আর সময়ের শার্টে নিয়তির সুতোয়
গাঁথা অসহায় বোতাম হয়ে ঝুলে??

বিশ্বজিৎ মন্ডল
প্রসূত

ফুলগুলো নিশ্চিতভাবেই ফুটেছিল
গাছ ভেবে দেহদান করে গেলে বুর্বাক
সন্ধিহান হলেও কেউ ফিরে চায়বে না...
ফুল তো লুকিয়ে ছিল, অজন্মা মরামাস
দ্যাখো,অনর্গল বাজাচ্ছি পুরাতনি বিউগল

মালা মিত্র
জয় বাঙলাদেশ

ষোলই ডিসেম্বর, বাঙলা দেশের, পরম শুভ দিন,
ন’মাস যুদ্ধে তিরিশ লক্ষ শহীদ অক্লেশে প্রাণ ঢালে যেদিন।
জাগো বাঙলাদেশ রক্ষা করো শহীদের সম্মান।
শষ্য শ্যামলা সবুজ মা তোদের খুনে খুনে ছিল লাল,
অনেক রক্তে স্বাধীনতা কেনা একাত্তরের সাল।
পাকিস্থানী হায়েনা ও নরপিশাচের দল,
ভয় পেয়ে শেষে আত্মসমর্পিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।
আজ সবুজ লাল পতাকা ওড়ে গর্ব ভরে বাজায় বিষাণ।
ব্যর্থ হয়নি শহীদ রক্ত, পেল মানচিত্রে স্থান
সালাম জানাই বীর শহীদদের, বাঙলাদেশ সালাম।

যাপনের দৃশ্যে
নিঃশব্দ আহামদ

ক্লান্ত কোনো দিনের কাছে হাঁপিয়ে উঠা নিঃশ্বাসের মতো এইসব ক্ষণ
নিয়ে গেছে ধুলোর গন্ধ গায়ে উদাস বিকেল রোদে -পথচারি মন
ঘাসের কাছে এলিয়ে দেবার ছিলো এ শরীর,সবুজ মাখে
কেমন আদর সারি হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ইপিল বন
নিস্প্রভ হয়ে আসা পৌঢ় চোখের মতো দ্যুতিহীন
যেনো কাছের সব দৃশ্য,এই আলো
যৌবনের গানে উতরোল তুলে বেজে যাওয়া বাঁশি
কোনো জানি বেসুরো হলো
ছেড়ে যাবার মতো ব্যথাতুর হয়ে ফিরছে ,চোখ জলে
সমস্ত সকাল দিনমান
ঊত্তরি হাওয়া এসে শরতের কাছে,কেমন জড়িয়ে রাখে
যাপনের নামে কোনো মুগ্ধতার আহবাণ

তোফায়েল হোসেন
ফিরে আসে একাত্তর

ছেড়া পালেও বাতাস ছুঁয়ে যায় যদিও উতরে যায় ফাঁক গলে,
বসন্ত পূর্ব বৃক্ষশাখা নাঙা তলোয়ার শুধু কৃষ্ণচূড়া সুশোভিত সাঁজে।
আমি দেখি বৈশাখ থেকে চৈত্রে শহীদের রক্ত ও পতাকার কান্না।
ফিরে ফিরে একাত্তর আসে এদেশে বিদ্রোহ বুকে ছুটে চলি, অদম্য।
স্লোগানে মিছিলে ছুটে চলি দূর্বার, নির্ভয়ে চলি প্রেরণার রেসকোর্সে-
শুধু সামনে নেই নির্ভর শেখ মুজিব স্বপ্ন গড়ার কারিগর তর্জনী উঁচিয়ে।
আমি খুঁজি তাকে- ছাপ্পান্ন হাজার পাঁচশ এক বর্গমাইল জুড়ে
‘বাংলাদেশ’ নামে ও উড়ন্ত পতাকায় ঘাসের বিছানায় ও মুক্ত আকাশে।।

তহীদ মনি
নিঃসঙ্গ মানুষ

প্রতিটি মানুষের মধ্যেই বাস করে এক একজন নিঃসঙ্গ মানুষ
গভীর রাতে অথবা একাকি দুঃসময়ে ঘুম থেকে জেগে
যোগ-বিয়োগের অংক কষে-হিসাব মেলে না তার।
স্তব্ধতার গভীর খাদে পড়ে থাকে তার সকল কথা
সব চাওয়া পাওয়া!
পাশে শুয়ে থাকা বন্ধু,ভাই সন্তান অথবা মা-কন্যা কেউ পায়না
অতল অন্ধকারে সে মানুষের কান্না ঝরা দিন রাত্রির খোঁজ,
ভাষাহীন-শব্দহীন সব কিছু অলক্ষে অন্তরালে বসবাস করে তারই ঘরে।
এরপর বিলুপ্ত সবই ইতিহাস! যখন সে হারায় জীবন থেকে! চাপা পড়ে
অজস্র ব্যথা ও স্বপ্ন, হারায় কালের গহ্বরে তার চিরকালীন নিঃসঙ্গতা,
যতটা বলেছিল তার চেয়েও সহস্রগুনের না বলা কথার মালা।

এক বর্ষাস্নাত সন্ধ্যার গল্প
মোহাম্মদ মাসুদ

গলা বেয়ে নেমে পড়া— পবিত্র নগ্নতায়
কামনার স্পর্শে হয়ে উঠা
এক পুরুষের বিধ্বস্ত-বেমালুম কাব্য।
স্পর্শ পিপাসু হয়ে— জীবন্ত ফসিল।
আগুনের স্পর্শে সৌন্দর্য্যের আরাধনা।
প্রতিটি শিরা-উপশিরার
চাঞ্চল্যতার হিসেবে ছিলনা কার্পণ্যের ভাগা।
ভালোবাসার প্রতিটি অধ্যায়ে নতুনত্বের প্রেম হয়,
দৈনিকের অসহ্য ক্লান্তির আলপনা ঝরিয়ে।
তারপরও নতুন আসে নতুনের হাওয়ায় মেতে।



 

Show all comments
  • Rakib Al Hasan ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১১:১৬ এএম says : 0
    কাল একটি কবিতা দিয়েছিলাম ইংক্বিলাবে,কিন্তু ছাপা হয়নি মনেহয়।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কবিতা

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
১৬ আগস্ট, ২০১৯
২ আগস্ট, ২০১৯
১২ জুলাই, ২০১৯
৫ জুলাই, ২০১৯
২৮ জুন, ২০১৯
২১ জুন, ২০১৯
২১ জুন, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন