Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯, ৭ বৈশাখ ১৪২৬, ১৩ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

সিলেট থেকেই বিশ্বকাপের ছক

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১২:০৫ এএম

২০০৬ সালে ১৮টি আর ২০০৯ সালে ১৪টি ওয়ানডে জিতলেও ২০১৫ সালটিকে বাংলাদেশের সেরা সাফল্যের বছর ধরা হয়। সেবার ঘরের মাঠে একের পর এক সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে, পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকার পর একটুর জন্য বেঁচে গেছে ইংল্যান্ড। সে সোনালি সাফল্যে মোড়ানো বছর আবার নিশ্চয়ই আসবে। সেই আসার আশা দিয়ে রাখল ২০১৮। এ বছর ১৩টি ওয়ানডে জিতল বাংলাদেশ। যার শেষটি এসেছে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে। ভেন্যুর অভিষেক ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের খেলা এ বছর আরও তিনটি (টি-২০) আছে। তবে দেশের মাটিতে মাশরাফি বিন মুর্তজার খেলা ‘শেষ’। সামনে বিশ্বকাপ। এরপরই নিজের ভবিষ্যত ঠিক করবেন ওয়ানডে অধিনায়ক।
এ বছর বাংলাদেশের ১৩ জয় এসেছে ২০ ম্যাচে। এ বছর যে ১৮টি দল ওয়ানডে খেলেছে; এর মধ্যে জয় বিবেচনায় বাংলাদেশ তৃতীয় সেরা। ২০ ম্যাচে ১৪ জয় নিয়ে একটু ওপরে ভারত। ২৪ ম্যাচে ১৭ জয় নিয়ে সবার ওপরে ইংল্যান্ড। ২০ ম্যাচে ১২ জয় নিয়ে বাংলাদেশের পেছনে আফগানিস্তান। এটি প্রতীকীও। বাংলাদেশকে বেশ ভালোভাবে পিছু তাড়া করছে ক্রিকেটের নতুন শক্তি হয়ে উঠে আসা আফগানরা। তাই জিরোবার সুযোগ নেই। মাশরাফিও জানেন, এ ক্ষণিকের বিশ্রাম মাত্র!
ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের হাতে আছে আর সাত ওয়ানডে। নিউজিল্যান্ডে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ আর আয়ারল্যান্ডে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ। তবে ওই দুই সিরিজে বিশ্বকাপের দল তৈরির বিষয় নেই, বরং তৈরি দল নিয়ে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিতে হবে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দাপট দেখিয়ে সিরিজ জেতে বাংলাদেশ। এক ম্যাচ হারলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জেতাও হয়েছে অনায়াসেই। তবে দল জেতার চেয়ে আরও বড় প্রাপ্তি আছে বাংলাদেশের।
বিশ্বসেরা লড়াইয়ে নামতে হাতে আর বাকি আছে পাঁচ মাস। ঘরের মাঠে এই সময়ে আর কোন ওয়ানডে সিরিজ নেই। জিম্বাবুয়ে আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেই তাই বিশ্বকাপের সম্ভাব্য দলের ছক আঁকতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজা জানালেন সেই কাজ তারা করতে পেরেছেন শতভাগ।
টপ অর্ডার থেকে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি রান পাওয়ায় সেখানে এসেছে সমাধান। সেরা ওপেনার তামিম ইকবালের সঙ্গে ছন্দে ফিরেছেন সৌম্য সরকার। লিটন দাস দেখাচ্ছেন আশা। ব্যাকআপ হিসেবে নিজের সামর্থ্য আর নিবেদন জানিয়ে রেখেছেন ইমরুল কায়েস। পেস অলরাউন্ডারের সংকটের সময়ে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন দিচ্ছেন সুসময়ের ইঙ্গিত। অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ওয়ানডে সংস্করণে গত কদিনে অবিশ্বাস্য উন্নতি দেখিয়ে পোক্ত করেছেন নিজের জায়গা।
উইন্ডিজকে হারানোর পর বিশ্বকাপের দল নিয়ে ইতিবাচক কথা শোনালেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘খুব ভালো কয়েকটি ব্যাপার আছে। মিরাজ এই বছর ধরেই খুব ভালো অবস্থায় আছে। হয়তো যখন টিম ম্যানেজমেন্ট ওকে নিয়েছিল, তখন তারাও এতটা আশা করেনি যে এতটা ভালো করবে। শুধু দেশে না, ওয়েস্ট ইন্ডিজেও ভালো করেছে। আজকেও (গতপরশু) ভালো করেছে, জিম্বাবুয়ে সিরিজেও করেছে। সৌম্য মোটামুটি থিতু হচ্ছে। ইমরুল আছে আশেপাশেই।’
বিশ্বকাপে কারা যাচ্ছেন বা যেতে পারেন সব মিলিয়ে তার মোটামুটি একটা ছক তৈরি মাশরাফির মাথায়, ‘১৬-১৭ জনের একটি দল আছে, আমার কাছে মনে হয় ওরা যদি সবাই ফিট থাকে, কোনো দূর্ঘটনা না হয়, তাহলে বেশির ভাগ ক্রিকেটার এখান থেকে যাবে। কোনো ইনজুরি বা ফর্ম একবারেই বাজে না হলে। বিশ্বকাপের আগে আছেই হয়তো আর ৭টি ওয়ানডে। খুব বেশি পরিবর্তনের সুযোগ নেই।’
এরই মধ্যে নাম লিখিয়েছেন রাজনীতিতে। অনেক দিন থেকেই একমাত্র ওয়ানডেতে খেলা মাশরাফির অবসর নিয়ে চলছে গুঞ্জন। নিজেও অনেকবার বলেছেন ২০১৯ বিশ্বকাপের পরই বিদায় বলতে চান প্রিয় প্রাঙ্গণকে। দেশের মাটিতে ‘শেষ’ ওয়ানডে শেষে উঠল এ প্রসঙ্গও। এদিনও স্বভাবসূলভ মারমুখী উত্তর দিলেন দেশসেরা অধিনায়ক, ‘বিশ্বকাপের পর আমি কি করতে চাই সেটা ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচের পরই বলতে পারব। আমি দেশে ফিরব এবং আপনাদের জানাব আমি আর খেলব কী না। আর যদি এর পরই মনে হয় খেলা চালিয়ে নিতে পারব, সেটাও আমি তখনই জানাতে পারব। এর আগে আপনারও ধাঁধায় পড়বেন না। নিশ্চিন্ত থাকুন। সামনে বিশ্বকাপ। সেদিকেই মনোযোগ দিতে চাই।’
২০১৫ বিশ্বকাপে মাশরাফির নেতৃত্বে বাংলাদেশ খেলেছিল কোয়ার্টার ফাইনাল। ২০১৭ সালে তার হাত ধরেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ। এবার মাশরাফির স্বপ্ন আরও বড়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ক্রিকেট

১৩ এপ্রিল, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন