Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

কলঙ্ক ছাপিয়ে ইতিহাস...

প্রকাশের সময় : ৭ মে, ২০১৬, ১২:০০ এএম

লেস্টার শিরোপা জিতবে এমন স্বপ্ন দেখার সাহস স্বয়ং ক্লাবের মালিকও কখনো করেননি। এর প্রমাণ মিলবে গত বছরের ঘটনায়, যেবার একটুর জন্য অবনমন এড়াল লেস্টার সিটি। লেস্টারের স্বত্বাধিকারী তাতেই মহাখুশি। দারুণ এই ‘সাফল্যে’র জন্য ক্লাবটির থাই মালিক গোটা দলকে নেমন্তন করেছিলেন থাইল্যান্ডে। ব্যাংককের সেই শুভেচ্ছা সফরে গিয়ে লেস্টারের কয়েকজন খেলোয়াড় যে কা- করেছিলেন তাতে লজ্জায় মুখ লুকোনোই দায় ছিল ক্লাব কর্তাদের। আর সেই ব্যাংকক-কলঙ্ক সামাল দিতে দলে যেসব পরিবর্তন আনা হলো, তারই ফলাফলে লেস্টার হয়ে গেল চমকে দেওয়া এক চ্যাম্পিয়ন দল!
গত মৌসুমে লেস্টারের ম্যানেজার ছিলেন নাইজেল পিয়ারসন। তার ছেলে জেমস পিয়ারসন ছিলেন দলের অন্যতম খেলোয়াড়। কিন্তু জেমস ব্যাংকক সফরে অভিযুক্ত হন অশ্লীল আচরণের দায়ে। বেশ কয়েকজন থাই নারীর সঙ্গে জেমসসহ তিনজন খেলোয়াড় হোটেলকক্ষে ‘সেক্স টেপ’ বানান। পরে যেটি ফাঁস হয়ে যায়। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, খেলোয়াড়েরা থাই নারীদের চোখ ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে বিদ্রুপ করছেন, সরস সব মন্তব্য ছুড়ে দিচ্ছেন।
এই ঘটনা তখন রীতিমতো থাইল্যান্ডে বিতর্কের ঝড় তুলেছিল। থাই সাধারণ মানুষও ব্যাপারটিকে খুব ভালোভাবে নেয়নি। থাইল্যান্ডের মানুষ স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনায় অপমানিত হয়েছিলেন। লেস্টারকে নিয়ে আসা হয়েছিল থাইল্যান্ডে জনপ্রিয়তা বাড়াতে। তারাই ক্লাবটিকে করে তুলল চরম অজনপ্রিয়!
ক্লাবের থাই মালিক ভিচাই শ্রীবাদ্ধানাপারাবা অবশ্য এই ঘটনায় বেশ ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে ব্যাপারটা সামলে নিয়েছিলেন। থাইল্যান্ড সফরের পরপরই দল থেকে বহিষ্কার করেছিলেন অভিযুক্ত ফুটবলারদের। নাইজেল পিয়ারসনকেও বরখাস্ত করেছিলেন ক্লাব কর্তা। নাইজেল পিয়ারসনের বরখাস্ত হওয়াটা অবশ্য অনেকেই তখন ভালো চোখে দেখেননি। সে সময় অনেকেই পিয়ারসনকে দুঃসময়ের কান্ডারি হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। বলেছিলেন, যে কোচ দলকে পয়েন্ট তালিকার একেবারে নিচ থেকে টেনে তুললেন, তিনি তাঁর প্রাপ্য সম্মানটুকু পেলেন না। সাবেক ইংলিশ তারকা গ্যারি লিনেকার পর্যন্ত সে সময় নাইজেল পিয়ারসনের পক্ষ নিয়ে বলেছিলেন, ‘নাইজেলকে বরখাস্ত করে লেস্টার মালিকেরা প্রমাণ করলেন, না জেনে, না বুঝেই তাঁরা সবকিছু করছেন।’
ওদিকে ক্লাদিওর রেনিয়েরিও বরখান্থ হয়েছিলেন ইউরেতে তার দল গ্রিস ‘পুচকে’ ফেরো আইল্যান্ডের কাছে হেরে যাওয়ায়। বেকার ইতালিয়ান কোচকে তখন নিয়ে আসা হল লেস্টারে। এসে কথার চেয়ে কাজটাই বেশি করে দেখালেন ৬৪ বছর বয়সী। নিজের দুর্দান্ত অভিজ্ঞতাকে নিংড়ে দিয়ে গড়লেন একটি দল। বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে দল থেকে বাদও দিলেন। কয়েকজন নতুন মুখকে দলে সই করালেন। খেলোয়াড়দের উদ্বুদ্ধ করলেন অতীত ভুলে গিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে। এর পরের ইতিহাস তো সবারই জানা! সেদিন থাইল্যান্ডের সেই ঘটনা না ঘটলে আগের মৌসুমে অবনমন বাঁচিয়ে দেওয়া কোচকে হয়তো ছাঁটা-ই করতেন না লেস্টার মালিক? তাহলে কি শুরু হতো রানিয়েরি যুগ? জন্ম হত লেস্টার রূপকথার?



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ