Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ০৬ ভাদ্র ১৪২৬, ১৯ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

শীতের শুরুতেই ক্যারিবীয় উত্তাপ

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

ক’দিন ধরেই দক্ষিণ পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে উত্তাল করে রেখেছে ঘূর্ণিঝড় ‘পিথাই’। তার রেশ গোটা দেজুড়েই। গতকাল ভোর রাত থেকেই ঢাকাসহ বেশকিছু জায়গায় হয়ে গেছে এক পষলা বৃষ্টি। পৌষের তিন দিন কেটে গেলেও আসি আসি করে আসছিলনা যে শীত, তা নেমে গেল এক লহমায়। যার প্রভাব ছিল সিলেটেও। দিনভর গুমোট আবহাওয়া। পুবের সূর্য মধ্যগগণ ঘুরে পশ্চিমের পথে অস্তগামী। তবুও নেই রৌদ্রের ঝলকানি। পুরোদিন মেঘের আড়ালেই কেটে গেল সৌরজগতের সবচেয়ে উত্তপ্ত এই গুহটির। তবে সিলেটের লাক্কাতুরা চা-বাগানের কোলে গড়ে ওঠা নয়নাভিরাম স্টেডিয়ামে ঠিকই ছড়ালো উত্তাপ। যে আগুনে পুড়ে ছাই বাংলাদেশ!
বিবর্ণ ব্যাটিং আর নির্বিষ বোলিং। দুইয়ে মিলিয়ে পারফরম্যান্স যাচ্ছেতাই। শারীরিক ভাষাও আলগা, ফিল্ডিংয়েও নিরামিষ। তাইতো ক্রিকেটের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাট টি-টোয়েন্টিতে হার দিয়ে শুরু হলো বাংলাদেশের সিরিজ যাত্রা। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ হেরেছে ৮ উইকেট। টস জয়ের পর ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত সাকিব আল হাসানের। এক ওভার বাকি থাকতেই ১২৯ রানে শেষ স্বাগতিকদের ইনিংস। ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকেল তিনটা ছাড়িয়েছে কেবল। ইনিংসের ১১তম ওভারের খেলা চলছিল। পঞ্চম বলে এক রান হতেই ৫৫ বল হাতে রেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশাল জয়। উইকেট ও বলের হিসেবে বাংলাদেশের বিপক্ষে যা ক্যারিবীয়দের সবচেয়ে বড় জয়।
বোলিং ছিল হতশ্রী। চার বোলার ওভারপ্রতি ১৩ রানের বেশি দিয়েছেন। মেহেদী হাসান মিরাজ দ্বিতীয় ওভারে তিন ছক্কা হজম করে দেন ২৩। সাকিব ৩.৫ ওভারে খরচ করেন ৩২। আবু হায়দার রনি ও মুস্তাফিজুর রহমান প্রত্যেকে এক ওভারে হাত ঘুরিয়ে দেন ১৫ রান করে। সবচেয়ে মিতব্যয়ী মাহমুদউল্লাহ এক উইকেট পেতে দুই ওভার হাত ঘুরিয়ে দিয়েছেন ১৩ রান। অপর উইকেট শিকারি সাইফউদ্দিনও এক ওভারে দিয়েছেন ১৩ রান। ম্যাচ হারতে আর কিছু লাগে?
লক্ষ্য মাত্র ১৩০। দ্ইু ওপেনারের উদ্বোধনী জুটিতে ৩.২ ওভারে আসল ৫১ রান। ওয়ানডেতে দুই সেঞ্চুরি পাওয়া শাই হোপ ১৬ বলে তোলেন ফিফটি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দ্রুততম এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তৃতীয় দ্রুততম। সামনে কেবল ভারতের যুবরাজ সিং (১২ বল) এবং নিউজিল্যান্ডের কলিন মুনরো (১৪ বল)। পাওয়ার প্লে’তে সফরকারীরা পায় ৯১ রান, যা পাওয়ার প্লে’তে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। ম্যাচ জিততে আর কিছু লাগে?
১১ বলে ১৮ রান করে এভিন লুইস ফিরলেও হোপ ঝড় তোলেন ২২ গজের ক্রিজে। ২৩ বলে ৩ চার ও ৬ ছক্কায় তোলেন ৫৫ রান। আউট হন মাহমুদউল্লাহর বলে। তৃতীয় উইকেটে অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৩.১ ওভারে ৩২ রান তুলে জয় নিশ্চিত করেন নিকোলাস পুরাণ (১৭ বলে ২৩) ও কিমো পল (১৪ বলে ২৮)।
তবে এর আগে ব্যাটসম্যানদের কাজটি সহজ করে দিয়েছিলেন শেলডন কট্রেল। বাংলাদেশের ইনিংসের শুরু থেকেই হানা দিয়েছিলেন এই মিডিয়াম পেসার। তামিম আর সৌম্য সরকারকে শর্ট বল দিয়ে টপ এজ করিয়েছেন। বাংলাদেশের টপ স্কোরার সাকিব আল হাসানকেও ফিরিয়েছেন কট এন্ড বোল্ড করে। মাহমুদউল্লাহকে নাজেহাল করেছেন আউট স্যুয়িং দিয়ে। ২৮ রানে চার উইকেটে ১২৯ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ওই রান তাদের ব্যাটসম্যানরা পরে পেরিয়েছেন তুড়ি মেরে। বাংলাদেশকে কাবু করার দিনে ম্যাচ সেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন