Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২০, ২১ আষাঢ় ১৪২৭, ১৩ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের খসড়া প্রস্তাব

চীন-রাশিয়ার বয়কট

কূটনৈতিক সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১:৩৩ পিএম | আপডেট : ১:৩৫ পিএম, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮

চীন রাশিয়ার ভূমিকায় আবারও সংশয়ের মুখে পড়েছে নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের এক খসড়া প্রস্তাব। জাতিসংঘের সঙ্গে এ বছর জুনে সম্পন্ন হওয়া চুক্তি অনুযায়ী রাখাইন ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ-মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে ওই প্রস্তাব আনা হয়েছিল। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চীন-রাশিয়া এ সংক্রান্ত আলোচনা বয়কট করেছে।
উল্লেখ্য, অতীতেও একাধিকবার চীন-রাশিয়ার বিরোধিতায় নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের পদক্ষেপ বাধাগ্রস্ত হয়।
২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নতুন করে দমনপীড়ন শুরু হলে জীবন ও সম্ভ্রম বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হন এ জনগোষ্ঠীর লাখ লাখ মানুষ। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেকেই একে জাতিগত নিধনযজ্ঞ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের নভেম্বরে যুক্তরাজ্য নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে একটি খসড়াটি প্রস্তাব করে। মিয়ানমারে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ভয়াবহতায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসা সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার বাংলাদেশ থেকে স্বেচ্ছামূলক-নিরাপদ-মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাই এই খসড়া প্রস্তাবের লক্ষ্য। কূটনীতিকরা জানিয়েছে, এ নিয়ে কয়েক দফায় আলোচনা হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের উত্থাপিত প্রস্তাবে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর সঙ্গে স্বাক্ষরিত মিয়ানমারের প্রত্যাবাসন চুক্তি অনুযায়ী প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। জুনে মিয়ানমারের নেপিদোতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যে ওই সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ‘রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে এই চুক্তিটিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ’ হিসেবে চিহ্নিত করেন মিয়ানমারে নিয়োজিত জাতিসংঘের আবাসিক এবং মানবিক সহায়তাবিষয়ক সমন্বয়কারী নাট ওৎসবি। এক সংবাদমাধ্যমকে সে সময় তিনি জানান, ‘রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে যথাযথ পরিবেশ গড়ে তোলার কাজে সহায়তার জন্য ইউএনএইচসিআর ও ইউএনডিপি মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষর করেছে।’
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মিয়ানমার কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাসহ অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল ওই খসড়া প্রস্তাবে। রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের নিয়মিত নিরাপত্তা পরিষদের কাছে রিপোর্ট করার আহ্বানও ছিল এতে। তবে প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় চীন-রাশিয়ার অনুপস্থিতি একে সংশয়ের মুখে ফেলেছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার দূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া সোমবার রয়টার্সকে বলেন, আমার কাছে এটি অযথার্থ, অসময়োচিত ও নিরর্থক মনে হয়। চীনা দূত মা ঝাওজু এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। সংস্থাটিতে নিযুক্ত মিয়ানমারের প্রতিনিধিও তাৎক্ষণিকভাবে এ ব্যাপারে কোনও মন্তদ্য করতে অপারগতা জানিয়েছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: জাতিসংঘ


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ