Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯, ৭ বৈশাখ ১৪২৬, ১৩ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

বিএনপির ইশতেহারে চমক

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১২:১০ এএম

 প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য  গণভোট পুনঃপ্রবর্তন  নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো প্রবর্তন  ন্যায়পাল নিয়োগ  র‌্যাবের পুনর্গঠন  চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা তুলে দেয়া  ৩ বছরে ২ লাখ সরকারি চাকরি  নারীদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ  ডিজিটাল নিরাপত্তা, বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ সকল কালাকানুন বাতিল  গুম-খুন, শারীরিক নির্যাতন বন্ধ  বেকার ভাতা চালু  শিক্ষার্থীদের সকল ভ্যাট বাতিল  খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের ভাতা  তরুণ দম্পতিদের ২০ বছর মেয়াদী ঋণ

কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতীসহ সকল শ্রেণি, পেশার মানুষকে আকৃষ্ট করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করেছে বিএনপি। ইশতেহারে ভোটের দিনের গণতন্ত্রকে নিত্যদিন অনুশীলন করা, প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকা, গণভোট পুনঃপ্রবর্তন, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা তুলে দেয়া, ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি, নারীদের জন্য সর্বক্ষেত্রে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ, ইন্টারনেটের মূল্য কমানো, সকল দুর্নীতি-অনিয়মের বিচারসহ একগুচ্ছ অঙ্গীকার দিয়েছে রাজপথের প্রধান এই বিরোধী দল। গতকাল (মঙ্গলবার) সকালে গুলশানে লেকশোর হোটেলে ১৯ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগের নির্বাচনগুলোতে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এই ইশতেহার ঘোষণা করে এলেও এবার তিনি জেলে থাকায় মহাসচিব তার পক্ষে ইশতেহার ঘোষণা করেন।
বিএনপির ইশতেহারে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সম্পর্কে বলা হয়, নির্বাচনের দিনটিকে বিএনপি গণতন্ত্রের নিত্যদিনের অনুশীলনে পরিণত করবে। প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনবে। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার দেবে। সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন ও গণভোট পুনঃপ্রবর্তন করবে। নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো প্রবর্তন করবে। প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে নতুন ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি গঠনের জন্য জাতীয় কমিশন গঠন করবে। এ ছাড়া ন্যায়পাল নিয়োগ, র‌্যাবের পুনর্গঠন, পুলিশ ও আনসার ছাড়া শর্ত সাপেক্ষে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা উঠিয়ে দেয়া, প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের সময় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ রোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নিম্ন আদালতকে সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত করা, বিচারব্যবস্থার সংস্কারে জুডিশিয়াল কমিশন গঠন, মত প্রকাশের অবারিত স্বাধীনতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ সকল কালাকানুন বাতিল, গুম-খুন ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতন বন্ধ করার প্রতিশ্রæতি দেয়া হয়েছে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণসহ বাজেটের ৩০ শতাংশ স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ না করার প্রতিশ্রæতির পাশাপাশি এসব কাজের দুর্নীতি নিরীক্ষা করে দেখবে বিএনপি। বর্তমান সরকারের শেষ দুই বছরে তড়িঘড়ি করে নেয়া প্রকল্পগুলো পুনর্বিবেচনা করা হবে। তরুণদের জন্য প্রথম ৩ বছরে ২ লাখ সরকারি চাকরি ও ৫ বছরে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে। মাদরাসা শিক্ষাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করা, মসজিদের খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী ভাতা চালু, শিক্ষার্থীদের ওপর সব ধরনের ভ্যাট বাতিল, ভ্যাট বিরোধী, কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের সব মামলা প্রত্যাহার ও ক্ষতিপূরণ প্রদান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ১১ শতাংশে উন্নীত করারও অঙ্গীকার করা হয়। এছাড়া নারীদের স্বল্প সুদে ঋণ, কর ছাড়া, ন্যায়সঙ্গত সম্পত্তির উত্তরাধিকার, নারী নির্যাতন, যৌতুক প্রথা, এসিড নিক্ষেপ, যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, নারী ও শিশু পাচাররোধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথাও বলা হয়।
বিএনপির ইশতেহারে যা আছে :
গণতন্ত্র ও আইনের শাসন : বিএনপি নির্বাচনের দিনের গণতন্ত্রকে নিত্যদিনের অনুশীলনে পরিণত করবে। সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনীর মাধ্যমে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা হবে। একাধারে পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকার বিধান করা হবে। মন্ত্রিসভাসহ প্রধানমন্ত্রীকে সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা হবে। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি ¯িপকার নিয়োগ দেয়া হবে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে শর্তসাপেক্ষে সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে ‘জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। সংবিধানে ‘গণভোট’ ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃস্থাপন করা হবে। সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে। জাতীয় সংসদকে সকল জাতীয় কর্মকাÐের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হবে। নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি সরকারব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে ক্ষমতা কুক্ষিগতকরণের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। এই তত্ত¡াবধায়ক ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য অতীতের সমস্যার আলোকে নিরূপণ করা হবে এবং এ লক্ষ্যে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে স্বচ্ছ আলাপ-আলোচনা করা হবে। প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে ভবিষ্যৎমুখী এক নতুন ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করার জন্য নতুন এক সামাজিক চুক্তিতে পৌঁছাতে একটি জাতীয় কমিশন গঠন করা হবে। এই কমিশনের সদস্য থাকবেন সংসদে সরকারি দলের নেতা, বিরোধী দলের নেতা এবং সর্বজনশ্রদ্ধেয় জাতীয় ব্যক্তিত্ব। একদলীয় শাসনের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে তা নিশ্চিত করা হবে। জাতীয় নেতৃবৃন্দের আপত্তিকর সমালোচনা রোধে সহিষ্ণুতার সংস্কৃতি উৎসাহিত করা হবে। ব্যক্তির বিশ্বাস-অবিশ্বাস এবং দলীয় আনুগত্যকে বিবেচনায় না নিয়ে কেবলমাত্র সততা, দক্ষতা, মেধা, যোগ্যতা, দেশপ্রেম ও বিচার ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে রাষ্ট্রের প্রশাসনযন্ত্র, পুলিশ এবং প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হবে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংবিধান অনুযায়ী ‘ন্যায়পাল’ নিয়োগ দেয়া হবে। র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। র‌্যাবের বর্তমান কাঠামো পরিবর্তন করে অতিরিক্ত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠন করা হবে। এই ব্যাটালিয়ন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে। রাষ্ট্রের সকল সামরিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা স্ব-স্ব চার্টার অনুযায়ী পরিচালিত হবে। চাকরি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে সকল ধরনের তদবির ও চাঁদাবাজি নিষিদ্ধ এবং দÐনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। দেশরক্ষা, পুলিশ ও আনসার ব্যতীত শর্তসাপেক্ষে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো সময়সীমা থাকবে না। বিডিআর হত্যাকাÐের এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি সংক্রান্ত সকল অনুসন্ধান রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে এবং অধিকতর তদন্তের উদ্যোগ নেয়া হবে। প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের সময় যেন সাধারণ মানুষের কোনো ভোগান্তি না হয় সে জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব প্রতি বছর প্রকাশ করা হবে। সড়কপথে চলাচলে বিরাজমান বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটানো হবে এবং সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বিচার বিভাগ : সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে নি¤œ আদালতের নিয়ন্ত্রণ প্রেসিডেন্টের হাত থেকে সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত করা হবে। মামলার জট দূর করার জন্য যোগ্য বিচারক নিয়োগ দেয়া হবে এবং এর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। বর্তমান বিচারব্যবস্থা সংস্কারের জন্য একটি জুডিশিয়াল কমিশন গঠন করা হবে।
মত প্রকাশের স্বাধীনতা : মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। সরকারের সাথে কোনো বিষয়ে মতভিন্নতা থাকলেও কারো কণ্ঠ রোধ করা হবে না। অনলাইন মনিটরিং তুলে দিয়ে জনগণকে অবাধে কথা বলার ও মত প্রকাশের সুযোগ দেয়া হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টসহ সকল প্রকার কালাকানুন বাতিল করা হবে। তথ্য অধিকার আইনে তথ্য প্রাপ্তি দ্রæততর করার জন্য বিদ্যমান বাধাসমূহ পুরোপুরি দূর করা হবে। মানুষের জীবনের মূল্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাÐ, গুম, খুন এবং অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অবসান ঘটানো হবে। বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ বাতিল করা হবে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের যুক্তিসঙ্গত সমালোচনার অবাধ অধিকার থাকবে।
ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ : দেশের উন্নয়ন কর্মকাÐের দায়িত্ব থাকবে নির্বাচিত স্থাানীয় সরকারের হাতে। বর্তমানে কমবেশি ৫ শতাংশ বাজেট স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে ব্যয়ের পরিবর্তে প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে বাড়িয়ে ৫ বছরে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ বাজেট স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে ব্যয়ের বিধান করা হবে। জেলা পরিষদ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবে। পৌর এলাকাগুলোতে সব সেবা সংস্থা মেয়রের অধীনে রেখে সিটি গভর্নমেন্ট চালু করা হবে। জনকল্যাণে প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা এবং স্থানীয় সরকারের স্তর নির্ধারণের লক্ষ্যে কমিশন গঠন করা হবে।
অর্থনীতি : জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ১১ শতাংশে উন্নীত করা হবে। রফতানি প্রবৃদ্ধির হার ৩ গুণ বাড়ানো হবে। রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণ করা হবে। শেয়ার মার্কেট, ব্যাংক এবং সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলের অর্থ লুটের তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে ভবিষ্যতে যাতে কেউ এমন দুর্নীতি-অনাচার করতে না পারে সেই লক্ষ্যে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক পরিচালনা বোর্ডে যোগ্য, সৎ ও দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়া হবে। ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং ডিভিশন বিলুপ্ত করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসমূহ পরিচালনা ও তদারকির ভার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে ন্যস্ত করা হবে। বর্তমানে চলমান কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। তবে মেগা প্রকল্পে ব্যয়ের আড়ালে সংগঠিত দুর্নীতি নিরীক্ষা করে দেখা হবে এবং এ জন্য দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। বর্তমান সরকারের শেষ দুই বছরে তড়িঘড়ি করে নেয়া প্রকল্পগুলো পুনর্বিবেচনা করার জন্য কমিটি গঠন করা হবে। দেশে কর্মরত সকল বিদেশিকে ওয়ার্ক পারমিটের আওতায় এনে মুদ্রা পাচার রোধ করা হবে এবং তাদের করের আওতায় আনা হবে। একটি টাস্কফোর্স রেন্টাল পাওয়ার প্রজেক্টের উচ্চ ব্যয়ের কারণ তদন্ত করে দেখবে।
মুক্তিযোদ্ধা : সকল মুক্তিযোদ্ধাকে ‘রাষ্ট্রের সম্মানিত নাগরিক’ হিসেবে ঘোষণা করা এবং মুক্তিযোদ্ধা তালিকা প্রণয়নের নামে দুর্নীতির অবসান ঘটানো হবে। মূল্যস্ফীতির নিরিখে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ভাতা বৃদ্ধি করা হবে। দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষা ও মুক্তিযুদ্ধকালীন বধ্যভূমি ও গণকবর চিহ্নিত করে সেসব স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিবিড় জরিপের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি সঠিক তালিকা প্রণয়ন করা হবে এবং তাদের যথাযথ মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করা হবে।
যুব, নারী ও শিশু : জাতীয় উন্নয়নে যুব, নারী ও শিশুদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত তরুণদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য ইয়ুথ পার্লামেন্ট গঠন করা হবে। দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য বিএনপি সকল কর্মকাÐে নারী সমাজকে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত করবে। এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে সকল বাধা অপসারণ করা হবে। ক্রীড়া ক্ষেত্রে নারীদের উন্নয়নে পৃষ্ঠপোষকতা করা হবে। নারী নির্যাতন, যৌতুক প্রথা, এসিড নিক্ষেপ, যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, নারী ও শিশু পাচাররোধে কঠোর কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিশু-শ্রম রোধে কার্যকর বাস্তবানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। শিশু সন্তান রেখে নারীরা যাতে নিশ্চিন্তে কাজে মনোনিবেশ করতে পারে সেই লক্ষ্যে অধিক সংখ্যক দিবা যতœ কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। নারী উদ্যোক্তাদের অধিকতর উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়নে প্রয়োজনীয় সমর্থন, স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ এবং কর ছাড় দেয়া হবে। এক বছরব্যাপী অথবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত, যেটাই আগে হবে, শিক্ষিত বেকারদের বেকার ভাতা প্রদান করা হবে। এদের যৌক্তিক অর্থনৈতিক উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। নারীদের ন্যায়সঙ্গত সম্পত্তির উত্তরাধিকার প্রদান করা হবে। এ লক্ষ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিদ্যমান আইন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে।
শিক্ষা ও কর্মসংস্থান : শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় করা হবে। উচ্চতর পর্যায়ের শিক্ষা হবে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষে সমৃদ্ধ। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে। গড়ে তোলা হবে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য জাতীয় টিভিতে একটি পৃথক শিক্ষা চ্যানেল চালু করা হবে। বিশ্বের মেধা জগৎ ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের একটি নতুন মাত্রা যোগের জন্য বাংলা ভাষার পাশাপাশি ইংরেজিসহ অন্যান্য বিদেশি ভাষা শেখার জন্য অধিকতর সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। স্বল্প আয়ের পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের জন্য স্বল্প সুদে শিক্ষাঋণ চালু করা হবে। বিদেশের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের সুবিধার্থে মেধাবীদের বৃত্তি প্রদানের জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র-সংসদের নির্বাচন নিশ্চিত করে ছাত্রদের মধ্য হতে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিকাশের পথ সুগম করা হবে। মাদরাসা শিক্ষাকে আরো আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হবে। তাদের কারিকুলামে পেশাভিত্তিক ও বৃত্তিমূলক বিভিন্ন বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে মসজিদের খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানজনক ‘সম্মানী ভাতা’ চালু করা হবে। বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে এবং শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে তা প্রতিরোধ করার জন্য সকল প্রকার আইনি, প্রতিকারমূলক এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে সব ধরনের ভ্যাট বাতিল করা হবে। ভ্যাটবিরোধী, কোটা সংস্কার এবং নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের বিরুদ্ধে আনীত সব মামলা প্রত্যাহার এবং এসব আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। সরকারি এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গরিব মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আসন সংরক্ষণ করা হবে। পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষা ব্যবস্থা বিলোপ করা হবে। প্রথম ৩ বছরে দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থায় মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে ২ লাখ মানুষকে চাকরি দেয়া হবে। তরুণ দম্পতি ও উদ্যোক্তাদের সাবলম্বী হওয়ার জন্য ২০ বছর মেয়াদী ঋণ চালু করা হবে। আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক বছরব্যাপী অথবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত, যেটাই আগে হবে, শিক্ষিত বেকারদের বেকার ভাতা প্রদান করা হবে। এদের যৌক্তিক অর্থনৈতিক উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।
জ্বালানি : অদক্ষ পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহ অতি জরুরি ভিত্তিতে আধুনিকায়ন এবং পুনর্বাসনের পদক্ষেপ নেয়া হবে। দেশীয় গ্যাস এবং ফার্নেস অয়েলের ওপর নির্ভরশীলতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস করা হবে। বিদ্যুৎ সঙ্কট স্থায়ীভাবে নিরসন এবং কার্বন নিঃস্বরণ হ্রাস করার লক্ষ্যে ছোট, মাঝারি ও বৃহদাকার পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি আহরণ বিশেষ করে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জিও-থারমাল, সমুদ্র তরঙ্গ, বায়োগ্যাস, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বড় বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র, জলাধার, গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহ শিল্প সরকারি খাত এবং প্রয়োজনবোধে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে স্থাপন করা হবে। ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম বছরে বিদ্যুৎ ও আবাসিক গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হবে না। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যে সকল প্রকার অসঙ্গতি দূর করা হবে।
তথ্য ও প্রযুক্তি : তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে বিদেশ হতে অর্জিত অর্থ দেশে আনার ক্ষেত্রে সকল প্রকার অযৌক্তিক বাধা দূর করা হবে। ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিংয়ের সাথে জড়িত সকলকে সুবিধা দেয়ার উদ্দেশ্যে স্বল্প চার্জে গেøাবাল পেমেন্ট গেটওয়ে সুবিধা দেয়া হবে। ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন), ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি) এবং ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) মার্কেট উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। এর ফলে প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হবে, দক্ষতা বাড়বে এবং ইন্টারনেট ব্যয় হ্রাস পাবে। অগমেনটেড রিয়্যালিটি, অ্যানিমেশন এবং রোবটিকস তৈরি খাতে গবেষণা ও বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে। স্টার্ট আপ ফান্ড এবং আইটি ইনোভেশন ফান্ড এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল দিয়ে দেশের স্থানীয় সমস্যার জন্য তথ্য প্রযুক্তির সলিউশান ডেভেলপ করতে উৎসাহ দেয়া হবে। পাঁচ বছরের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ই-গভর্নমেন্ট চালু করার জন্য ক্লাউডভিত্তিক এন্টারপ্রাইজ অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপ করতে সরকার দেশি প্রযুক্তি ব্যবহারে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেবে। ভিওআইপি ব্যবস্থা উন্মুক্ত করে এই খাতে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে। সৃজনশীল ব্যক্তির মেধাস্বত্বের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। শুধু সাব-কন্ট্রাক্ট নয়, আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদনে স্থানীয় কো¤পানিগুলোকে সহায়তা দেয়া হবে। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত সফটওয়্যার ব্যবহারে স্থানীয় কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করা হবে। প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ত্বরান্বিতকরণ তহবিলসহ আইটি ইনকিউবেটর এবং ল্যাবরেটরি ব্যবস্থা সংযোজিত হবে। ইন্টারনেট অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দ্রæততম সময়ের মধ্যে মোবাইল ডাটার জন্য এবং ব্রডব্যান্ডের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী মূল্যে সময়োপযোগী সর্বোচ্চ গতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করা হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত সকল প্রকার উপকরণ সামগ্রীর ওপর শূন্য শুল্ক সুবিধা বজায় রাখা হবে। মেট্রোপলিটন এলাকা, পৌরসভা, সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রশাসনিক কেন্দ্রসমূহকে ক্রমান্বয়ে স্মার্ট সিটি, স্মার্ট পৌরসভা, স্মার্ট গ্রাম ও স্মার্ট ক্যাম্পাসে রূপান্তরিত করা হবে।
ক্রীড়া ও সংস্কৃতি : আগামী ৫ বছরের মধ্যে খেলাধুলার কয়েকটি ক্ষেত্রে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ যাতে একটি গ্রহণযোগ্য স্থান করে নিতে পারে সে লক্ষ্যে পরিকল্পিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। খেলাধুলায় আন্তর্জাতিক মান অর্জনের জন্য প্রতি জেলায় একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ক্রীড়া অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে। জাতীয় ভাবধারার পরিপন্থী অপসংস্কৃতি চর্চাকে নিরুৎসাহিত করা হবে। সংস্কৃতির মাধ্যমে স্বাধীন চিন্তাধারা ও মতাদর্শের যেন সুষ্ঠু প্রতিফলন হয় তার জন্য গণতান্ত্রিক রীতি পদ্ধতির অনুসরণ করা হবে।
বৈদেশিক ও প্রবাসী কল্যাণ : বৈদেশিক কর্মসংস্থাান সম্প্রসারণ, ঝুঁকিমুক্ত অভিবাসন নিশ্চিতকরণ ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রবাসীরা যাতে তাদের কষ্টার্জিত আয় বৈধ পথে বাংলাদেশে প্রেরণ করতে পারে সে জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক এক্সচেঞ্জ হাউস/ব্যাংকের সঙ্গে প্রণোদনা সুবিধাসহ রেমিট্যান্স প্রেরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। বিদেশে বাংলাদেশী দূতাবাসগুলো যাতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে যথাযোগ্য ভূমিকা পালন করে তা নিশ্চিত করা হবে। বিদেশফেরত প্রবাসীদের বিমানবন্দরে বিদ্যমান হয়রানি বন্ধ করা হবে। বিদেশ থেকে ফেরত আসা প্রবাসীদের যথাযথ তালিকা প্রস্তুত করে তাদের কল্যাণে নানামুখী প্রকল্প হাতে নেয়া হবে। প্রবাসী বাংলাদেশীদের জাতীয় নির্বাচনে ভোট প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি করে দেশ পরিচালনায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। বিদেশে বিপদগ্রস্ত বা আটকে পড়া নাগরিকদের রক্ষা ও ফিরিয়ে আনতে যথোপযুক্ত কনস্যুলার সহায়তা ও আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। কৃষি ও শিল্প মূল্য-সমর্থন এবং উপকরণ ভর্তুকির সঠিক সংমিশ্রণ ঘটিয়ে কৃষক যাতে তার ফসলের ন্যায্য মূল্য পায় সে ব্যবস্থা করা হবে। প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদে উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে ডাটাবেইজ গড়ে তুলে রাষ্ট্রীয় সমর্থন পাওয়ার যোগ্য কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করা হবে। কৃষিতে নানা ধরনের ঝুঁকি মোকাবেলা করার জন্য প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও শস্য বীমা, পশু বীমা, মৎস্য বীমা এবং পোল্ট্রি বীমা চালু করা হবে। গরিব এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত কৃষকের কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করা হবে। দুই বছরের মধ্যেই গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার টাকা করা হবে। গার্মেন্টসসহ অন্যান্য সকল শিল্প এলাকায় শ্রমিকদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। সকল খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে। কৃষি উৎপাদনকে লাভজনক পেশায় পরিণত করার লক্ষ্যে উৎপাদন খরচের সাথে যৌক্তিক মুনাফা নিশ্চিত করে সকল কৃষি পণ্যের মূল্য নির্ধারিত হবে স্থানীয় সমবায় সমিতির মাধ্যমে। শ্রমিক ও ক্ষেতমজুরসহ গ্রাম ও শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সুলভ মূল্যে রেশনিং চালু করা হবে। কৃষি ভর্তুকি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাড়িয়ে সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা হবে। জলমহাল এবং হাওরের ইজারা সম্পূর্ণ বাতিল করে মৎসজীবী ও দরিদ্র জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। পুনর্বাসন ছাড়া শহরের বস্তিবাসী ও হকারদের উচ্ছেদ করা হবে না। স্বাস্থ্যবীমার মাধ্যমে শ্রমিকরা মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রিমিয়ামের মাধ্যমে সকল চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। এক বছরের মধ্যে মানুষকে ভেজাল ও রাসায়নিকমুক্ত নিরাপদ খাদ্য পাবার নিশ্চয়তা দেয়া হবে।
স্বাস্থ্যা ও চিকিৎসা : দুস্থ বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা মহিলা এবং অসহায় বয়স্কদের ভাতার পরিমাণ মূল্যস্ফীতির নিরিখে বৃদ্ধি করা হবে। বেসরকারি ও স্বনিয়োজিত খাতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য বার্ধক্যের দুর্দশা লাঘবের উদ্দেশ্যে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে একটি ‘পেনশন ফান্ড’ গঠন করা হবে। গরিব ও নি¤œ আয়ের মানুষদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হবে।
পরিবেশ : জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করার জন্য টেকসই কৌশল গ্রহণ করা হবে। উপকূল এলাকাসহ সারাদেশে নিবিড় বনায়ন ও সুন্দরবনসহ অন্যান্য বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পররাষ্ট্র : বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া হবে। বিএনপি অন্য কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না এবং অন্য কোনো রাষ্ট্রের জন্য নিরাপত্তা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো কর্মকাÐকে কোনো স্পেস দেবে না। একইভাবে অন্য কোনো রাষ্ট্রও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় হুমকি সৃষ্টি করলে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। মুসলিম দেশসমূহ ও প্রতিবেশী দেশসমূহের সাথে বিশেষ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করা হবে। বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ বাসভ‚মিতে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক উদ্যোগ নেয়া হবে। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সংস্থা যেমনÑ সার্ক, বিমসটেক, বিসিআইএম, বিবিআইএন প্রভৃতি সংস্থাগুলোকে সুসংহত করা এবং কার্যকরভাবে গড়ে তোলার জন্য সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বিআরআই, ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্রাটেসিক ইনসিয়েটিভসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যান্য দেশের সংযোগ বৃদ্ধি করা হবে এবং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ত্রিপুরা, মেঘালয়, নেপাল, ভুটান ও ইউনানের জনগণের সংযোগ সহজতর করা হবে। আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে বহমান আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে আঞ্চলিক ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে আলাপ-আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায় : পাহাড়ি ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠীর জীবন, সম্পদ, সম্ভ্রম ও মর্যাদা সুরক্ষা করা হবে। অনগ্রসর পাহাড়ি ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে সকল সুবিধা এবং পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা হবে। দল, মত, জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে ক্ষুদ্র-বৃহৎ সকল জাতিগোষ্ঠীর সংবিধান প্রদত্ত সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মকর্মের অধিকার এবং জীবন, সম্ভ্রম ও সম্পদের পূর্ণ নিরাপত্তা বিধান করা হবে। এ লক্ষ্যে ধর্মীয় সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।

 



 

Show all comments
  • Abu Yousuf Parves ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১:০৬ এএম says : 1
    আমার দেখা এবং জানা মতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ইশতেহার এবারের বিএনপির ইশতেহার ।বাংলাদেশের জনগণ সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিবে।হয়তো বিএনপির নায়ক নায়িকা গায়ক গায়িকা নাই।কিন্তু বিএনপির আছে ষোল কোটি জনগণ দশ কোটি ভোটার ।
    Total Reply(0) Reply
  • Jahangir Khandokar ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১:০৬ এএম says : 0
    বিএনপির ইশতেহার - দেশের জন্য - দেশের মানুষের জন্য সময়োপযোগী সেরা উপহার!!!
    Total Reply(0) Reply
  • Anayet Rahim ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১:০৬ এএম says : 0
    চমৎকার ইশতেহার হইছে!
    Total Reply(0) Reply
  • Samia Lessi ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১:২৮ এএম says : 0
    বাংলাদেশর ইতিহাসে প্রথম কোনো ব্যতিক্রমি ইশতেহার।
    Total Reply(0) Reply
  • Noor Zakir ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১:২৯ এএম says : 0
    পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী নয় বলছেন। এখন অাপনারা জিতলে কে হবে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিতে ভয় পাচ্ছেন কেন ?
    Total Reply(0) Reply
  • Lutfur Rahman ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১:৩০ এএম says : 0
    বিএনপির উচিত ইশতেহারে ন্যায় বিচারের মাধ্যমে সত্যিকার যুদ্ধাপরাধীর বিচারের ব্যাপারে অঙ্গীকার করা। যদি সত্যিকার অর্থে ন্যায় বিচার করা হয় তাহলে বাংলাদেশে কোন যুদ্ধাপরাধী খুজে পাওয়া যাবে না। কাজে হাড্ডি খোরদের মুখ বন্ধ করার জন্য ইশতেহারে এটা পরিস্কার করা উচিত।
    Total Reply(0) Reply
  • Md Didar Hossain ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১:৩২ এএম says : 0
    বড় দু:খ ও হতাশা হলাম নির্বাচনী ইশতেহারে প্রবাসীদেরকে নিয়ে কোন রাজনিতিক দলের কোন চিন্তা নেই, প্রবাসীদের প্রতি গুরুত্ব কোন পদক্ষেপ, বড় ধরনের কোন সহযোগিতার কথাও নির্বাচনী ইশতেহারে নেই.. অথচ বাংলাদেশ প্রবাসীদের রেমিটেন্সের ওপর নির্ভরশীল৷…
    Total Reply(0) Reply
  • Rodrow Adour ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮, ২:৩০ এএম says : 1
    এই এশতেহার এর বিরোধিতা করা আর দেশ বিরুদ্ধতা করা একি।
    Total Reply(1) Reply
    • সাইফ ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৯:৫৪ এএম says : 0
      তাকেবল আপনার মত দলওন্ধ বা দলের গোলামদের জন্যে ঠিক কথা।
  • Rakibul Hasan ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮, ২:৩১ এএম says : 0
    আমার ভোট আমি চাই, গণতন্ত্র ফেরৎ চাই ! নিরাপদ জীবন চাই, দখল মুক্ত ভোটকেন্দ্র চাই ! নির্যাতন মুক্ত বাংলা চাই, স্বৈরাচারী মুক্ত বাংলা চাই ! রেব , ডিজিএফআই, ডিবির শাস্তি চাই ! বিচার বিভাগ স্বাধীন চাই , আইনের শাসন চাই ! মুক্তবাকের মুক্তি চাই , কোটা বৈষম্য শেষ চাই ! স্বাধীন মন, মত ও রাজনীতির মুক্তি চাই আওয়ামী একদলীয় স্বৈরচারীরর শেষ চাই !
    Total Reply(0) Reply
  • Muhamod Saed ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮, ২:৩২ এএম says : 1
    100/সময় উপযোগী ইস্তেহার
    Total Reply(0) Reply
  • Zakir Hossain Moni ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮, ২:৩৩ এএম says : 0
    আওয়ামীলীগ ছাড়া সবাই প্রসংসা করবে। শুভ কামনা রইলো।
    Total Reply(0) Reply
  • Engr Amirul Islam ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৭:৪৬ এএম says : 0
    insha'Allah BNP will be successful
    Total Reply(0) Reply
  • মো: আ: লতিফ ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৮:১৩ এএম says : 0
    ইশতেহার বেশ ভালোই হয়েছে
    Total Reply(0) Reply
  • Nannu chowhan ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৮:৪২ এএম says : 0
    Boroi chomotkar shomoy opojogi istehar. Tobe eai istahar karjokor jara korben tader sharthoke bishorjon dite hobe ebong oboshshoi sottikar jatiobadi adorshsho o shot hote hobe ebong gunda mastander tader god fatherder kono obostatei dolio bebechonai prosroy deoa jabena taholei eai desh o jati shomriddir pothe othe ashbe...
    Total Reply(0) Reply
  • মোঃহাসান মাতুব্বার ২১ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৫:৫৪ পিএম says : 0
    হ্যা সবই বুঝলাম কিন্তু প্রবাসির রেমিটেন্সের কথা লেখা হয়নি কেন?
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: জাতীয় সংসদ নির্বাচন

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ