Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১০ বৈশাখ ১৪২৬, ১৬ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

সারাদেশে এক হাজার ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২০ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১২:০৪ এএম

 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে নির্বাচনের মাঠে রাজধানীসহ সারাদেশে ১ হাজার ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিজিবিও মাঠপর্যায়ে কাজ করবে। বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোহসিন রেজা দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী মঙ্গলবারের মধ্যেই রাজধানীসহ সারাদেশে ১ হাজার ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি জানান, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রতিটি প্লাটুনে ১০ থেকে ৩০ জন সদস্য থাকতে পারে।
অন্যদিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ও নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এর অংশ হিসেবে আগামী ২৪ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে সেনা ও নৌ বাহিনী। প্রতি জেলায় ছোট আকারে সেনাবাহিনীর একটি টিম পাঠাবে নির্বাচন কমিশন। উপকূলবর্তী এলাকায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নৌবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।
নির্বাচন কমিশনের এক কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের বাইরে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবেন সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা। র‌্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে টহল দেবেন। তারা ভোট কেন্দ্রের ভেতরে বা ভোট গণনা কক্ষে ঢুকতে পারবেন না। অবশ্য রিটার্নিং বা প্রিজাইডিং কর্মকর্তা চাইলে স্ট্রাইকিং ও মোবাইল টিমের সদস্যরা প্রয়োজনে ভোট কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন।
ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এর আগে জানিয়েছিলেন, বিজিবি সদস্যদের ১২ দিনের জন্য মোতায়েনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
রাজশাহীতে প্রায় ২৫ প্লাটুন
নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গতকাল দুপুর থেকে রাজশাহীতে প্রায় ২৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তারা মাঠে থাকবে। বিজিবি-১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে: কর্নেল তাজুল ইসলাম বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজশাহীতে ২০ থেকে ২৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারা রাজশাহী নগরী এবং নয় উপজেলায় অবস্থান নিয়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৫ প্লাটুনের অধিক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬টি নির্বাচনী আসনে ১৫ প্লাটুনের অধিক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। দুপুর থেকে দেশের উওর প‚‚‚র্ব রিজন হেড কোর্য়াটার থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ২৫ বিজিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তা। ২৫ বিজিবির ব্যাটালিয়েনের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মুহাম্মদ গোলাম কবির গোলাম মোর্তজা জানান, ব্যাটালিয়েন থেকে আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় পাঠানো হয়েছে।
কুমিল্লায় ১০ প্লাটুন
কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসন এলাকায় ১০ বিজিবি প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে। কুমিল্লা ১০ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ইনকিলাবকে জানান, সরকার কর্তৃক অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিতকরনের লক্ষ্যে ভোট কেন্দ্রের শান্তি শৃংখলা রক্ষার্থে এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য বিজিবির প্লাটুনগুলো স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে নির্বাচনী এলাকায় টহল পরিচালনা শুরু করেছে।
সাতক্ষীরায় ১৪ প্লাটুন
সাতক্ষীরার ৪ টি আসনে ১৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরার ১ (তালা-কলারোয়া ও ২ (সদর) আসনে ৬ প্লাটুন এবং ৩ (আশাশুনি, দেবহাটা ও কালিগঞ্জের একাংশ) এবং ৪ (কালিগঞ্জের একাংশ ও শ্যামনগর) আসনে ৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

 

 



 

Show all comments
  • Mohammed Shah Alam Khan ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৮:৪১ এএম says : 0
    এখনও বিজিবি নামানোর সময় আসেনি তারপরও নির্বাচন কমিশন বিজিবি মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়ে তাদের কাছে আসা বিভিন্ন নালিশের পরিপ্রেক্ষিতে নিরপেক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। আমরা পত্রিকা খুললে অবশ্যই কয়েকটা নির্বাচনের উপর বিচ্ছিন্ন ঘটনা দেখতে পাই কিন্তু এসব ঘটনা একটু তলীয়ে দেখলেই বুঝা যাবে এই ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বিজিবি এবং সেনাবাহিনী নামাবার জন্যে বিএনপি জামাতের পাঁয়তারা। যেহেতু জামাতের লোকজন শিক্ষিত বেশী সেহেতু মন্তব্যকারীদের সংখ্যাও তাদের বেশী তাই সাধারন পাঠকদেরকে তারা বুঝাতে সক্ষম হচ্ছে যে, ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে সরকারি দল। একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করলেই বুঝা যাবে এসব ঘটনায় কারা লাভবান হচ্ছে??? যারা লাভবান হচ্ছে তারই এসব নাটক করছে এটাই সত্য নয় কি?? এখন বিচার করুন এসব আওয়ামী লীগ করেছে নাকি বিএনপি জামাত করেছে বিজিবি নামানোর জন্যে??? বুদ্ধিমানেরা মনে করে আওয়ামী লীগ বিজিবি কিংবা সেনাবাহিনী নামাতে কোন ভাবেই আগ্রহী নয় এটাই সত্য কাজেই এটা প্রমাণিত যে, জামাত বিএনপি নিজেরাই এই খেলা খেলে বিজিবিকে আগেই নামাতে সক্ষম হয়েছে এটাই সত্য। এখন নির্বাচন কমিশন যদি বিজিবি দিয়েই এদের নাটকের যবনিকা টানতে পারেন তাহলে মনে হচ্ছে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন নাও হতে পারে তাই না?? আল্লাহ্‌ সবই জানেন এবং আল্লাহ্‌ই সঠিক বিচারক। আল্লাহ্‌ আমাদের সবাইকে বুঝার এবং সেইভাবে চলার ক্ষমতা দিন। আমিন
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিজিবি


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ