Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার ২০ জুলাই ২০১৯, ০৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৬ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

মেরু অঞ্চলেও প্লাস্টিক আবর্জনা!

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৭:১৮ পিএম

পরিবেশ দূষণের সমস্যা উত্তর মেরু এলাকার সমুদ্রের নীচেও পৌঁছে গেছে৷ মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণা মাছের শরীরে প্রবেশ করে মানুষের খাদ্য শৃঙ্খলেও প্রবেশ করছে৷ গবেষকরা তথ্য সংগ্রহ করে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে চাইছেন৷
সম্প্রতি গবেষকরা উত্তর মেরুর তুষারের নীচে অভিনব জীববৈচিত্র্য আবিষ্কার করেছেন৷ সেখানে ছোট চিংড়ির পাশাপাশি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে প্রবালও পাওয়া গেছে৷ কিন্তু সেই পরিবেশ বিশাল হুমকির মুখে রয়েছে৷ জার্মানির আলফ্রেড-ভেগেনার ইনস্টিটিউটের এক গবেষকদল সেই এলাকার কিছুটা দক্ষিণে প্লাস্টিক জঞ্জাল ও অন্যান্য আবর্জনার ছবি তুলেছেন৷
গত ১৫ বছর ধরে মেলানি ব্যার্গমান মেরু এলাকার সমুদ্রে আবর্জনার দিকে নজর রাখছেন৷ তিনি বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে, জেলেদের ব্যবহৃত জালের প্রান্ত৷ এটাও প্লাস্টিক আবর্জনার উদাহরণ৷ এমনকি আড়াই কিলোমিটার গভীরে সমুদ্রের তলদেশেও প্লাস্টিকের এমন অনেক অংশ দেখা যায়৷’
গবেষকরা ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকা জুড়ে তাদের পরীক্ষা ক্ষেত্রের নাম রেখেছেন ‘বাড়ির বাগান’৷ ১৯৯৯ সাল থেকে সেখানে দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে৷
গবেষকরা বিভিন্ন বছরে তোলা ছবি তুলনা করে দেখেছেন৷ ফলাফল সত্যি বড় বেদনাদায়ক৷ মেলানি ব্যার্গমান বলেন, ‘উত্তরের স্টেশনে জঞ্জাল প্রায় ২০ গুণ বেড়ে গেছে৷ একটি ফুটবল মাঠের সমান এলাকায় আগে যেখানে আড়াইটি অংশ পাওয়া যেতো, এখন তা বেড়ে ৬০ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ তা-ও জনবসতি থেকে এত দূরে মেরু এলাকায়!’
মেরু এলাকার সমুদ্রের তলদেশ এখন গোটা বিশ্বের সবচেয়ে নোংরা সামুদ্রিক এলাকাগুলির অন্যতম৷ ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে এর তুলনা করা যায়, যেখানে জঞ্জালের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি৷ ব্যার্গমান বলেন, ‘আমি অবশ্যই হতাশ হয়েছি৷সমুদ্রের তলদেশের সুন্দর জগত নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ছবিগুলি দেখলে শুধু আবর্জনা চোখে পড়ে৷কেইবা এমনটা চায়!’
মেরু সাগরে এমন উচ্চ মাত্রার দূষণের একটি সম্ভাব্য কারণ অবশ্যই সামুদ্রিক স্রোত৷ গাল্ফ স্ট্রিম বা উপসাগরীয় প্রবাহ দক্ষিণের অঞ্চলগুলি থেকে জঞ্জাল উত্তরে বয়ে আনে এবং পানির গভীরে ঠেলে দেয়৷ এভাবে এখানে আবর্জনার স্তূপ সৃষ্টি হচ্ছে৷ মেরু সাগর গোটা বিশ্বের আবর্জনার পাহাড় হয়ে উঠছে৷ খালি চোখে দেখা যায়, এমন প্লাস্টিক জঞ্জাল এই সমস্যার একটা অংশমাত্র৷ সূর্যালোক ও সমুদ্রের সংস্পর্শে এসে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্লাস্টিকের ক্ষয় হয়৷ তখন মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা সৃষ্টি হয়৷
অতীতে গবেষকরা দূষণের মাত্রা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না৷ বিশ্লেষণের জন্য উপযুক্ত পদ্ধতিরও অভাব ছিল৷ এখন তলদেশের মাটির মধ্য থেকে প্রত্যেকটি কণা আলাদা করে ফিল্টার করা সম্ভব৷ এমনকি কালো ও লাল কণা গুনে তার ছবি তোলাও সম্ভব৷ সেই দৃশ্য অবশ্য মোটেই সুখকর নয়৷ মেরু গবেষক মেলানি ব্যার্গমান বলেন, ‘মাটির মধ্যে অতি ক্ষুদ্র কণা ঢুকে গেছে৷ সেগুলি কোনোদিন আলাদা করতে পারবো না৷ এসব খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করবে এবং সমুদ্রের তলদেশ প্লাস্টিকে ভরে যাবে৷’
গবেষকরা বেশিরভাগ সামুদ্রিক প্রাণীর শরীরেও প্লাস্টিক শনাক্ত করেছেন৷ প্রায়ই সেগুলি তাদের শরীরে সংক্রমণ ও বিষক্রিয়া ঘটায়৷ তার ফলে শুধু প্রাণীদেরই ক্ষতি হয় না৷ মেলানি ব্যার্গমান বলেন, ‘আজকাল মাছ, শামুক বা চিংড়ি খেলে ধরে নিতে হবে যে, সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিকও পেটে ঢুকছে৷’ অর্থাৎ, সমুদ্রের মধ্যে জঞ্জাল শুধু মেরু অঞ্চলের প্রাণিজগতের সমস্যা নয়৷ এমন পরিবেশ-বিপর্যয় আমাদের সবার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে৷ সূত্র: ডয়েচ ভ্যালে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পরিবেশ দূষণ

১৭ জানুয়ারি, ২০১৯
৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আরও
আরও পড়ুন