Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ০৮ কার্তিক ১৪২৬, ২৪ সফর ১৪৪১ হিজরী

বেড়েছে রসুন ও পিঁয়াজের ঝাঁজ

প্রকাশের সময় : ৭ মে, ২০১৬, ১২:০০ এএম

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : রাজধানীর কাঁচাবাজারে গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজি ভরপুর থাকায় ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। মৌসুমের শুরু থেকেই উত্তাপ ছড়ানোর পর চলতি সপ্তাহে কেজিপ্রতি প্রায় ৫ থেকে ১০ টাকা কমেছে বেশিরভাগ সবজির দাম। তবে পিঁয়াজের ঝাঁজ বাড়ছে।
সপ্তাহ ব্যবধানে পিঁয়াজের দাম বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বাজারে দেশী পিঁয়াজ কেজি ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকা, আমদানি করা পিঁয়াজ ২৫ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে সব ধরনের রসুনের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কেজিতে গড়ে বেড়েছে ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা। খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আমদানিকারক ও পাইকাররা রসুনের দাম বাড়িয়েছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, গত সপ্তাহে যে রসুনের পাইকারি দাম ছিল ১৬০ টাকা, সে রসুন এখন ২০০ টাকা। কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, বাজারে দেশী রসুনের মজুদ কম। বিদেশী রসুন বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলেই দাম বেশি। তবে চলতি মাসের শেষের দিকে নতুন রসুন এলে দাম কমে আসবে।
এদিকে সবজির দাম কমেছে। এক সপ্তাহ আগেও পটল, বেগুন, করলা, কাঁকরোল, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গাসহ বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি গড়ে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে। তবে শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর পিরেরবাগ, শান্তিনগর, ফকিরাপুল, সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারসহ একাধিক বাজার ঘুরে দেখা যায় এসব সবজি কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে একযোগে মৌসুমী সবজি আসছে রাজধানীর বাজারে। এতে সরবরাহ বাড়ায় দামও ফিরেছে ইতিবাচক ধারায়। পিরেরবাগ বাজারের সবজি বিক্রেতা হায়দার আলি জানান, রাজধানীতে মৌসুমী সবজি বাজারে পুরোদমে আসা শুরু করেছে। তাছাড়া বৃষ্টি-বাদল না হওয়ায় সবজির চাষও ভালো হয়েছে। ফলে সরবরাহ বাড়ায় দাম কমে এসেছে।
তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় কমেনি মাছের দাম। বেশিরভাগ মাছই গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে। অপরিবর্তিত রয়েছে চাল, ডাল, রসুন-তেল, আদাসহ মুদিপণ্যের দাম। ডিম ও গোশতের দামও রয়েছে স্থিতিশীল।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে গতকাল বাজারে প্রতিকেজি পটল বিক্রি হয়েছে মান ভেদে ২৫-৩০ টাকা। এছাড়া প্রতি কেজি ধুন্দল ৩৫ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ টাকা, ঝিঙ্গা ৪০ টাকা, শিম ৪০ টাকা, করলা ৩০ টাকা, বরবটি ৩৫ টাকা, চাল কুমড়া ৩০ টাকা, লাউ ৩০-৪৫ টাকা, কাঁকরোল ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ৪০ টাকা, গাজর ৩০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, শশা ৩০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুদিপণ্যের মধ্যে কেজি প্রতি দেশি মসুর ডাল ১৪০-১৫০ টাকা, ভারতীয় মোটা মসুর ডাল ১০৫-১১০ টাকা, মুগডাল ১১০ টাকা, বুটেরডাল ৪০-৪৫ টাকা, মাষকলাই ৯০ টাকা, ছোলা ৬০-৬৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ভোজ্যতেলের মধ্যে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৮৫-৯০ টাকায় ও বোতলজাত সয়াবিন প্রতিটি ৫ লিটারের রূপচাঁদা ৪৫৫ টাকা এবং তীর ৪৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বাজারে অধিকাংশ মাছই গত সপ্তাহের মত বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে বড় আকারের প্রতি কেজি রুই ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে। অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের রুই পাওয়া যাচ্ছে ২০০-৩০০ টাকার মধ্যে। একইভাবে বড় আকারের কাতলা ৩০০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, আকারভেদে প্রতিকেজি গলদা চিংড়ি ৫০০-৭০০ টাকা, শিং মাছ ৫০০-৬০০ টাকা, আকারভেদে প্রতি হালি ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে ২ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে।
গোশতের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি গরুর গোশত ৪২০-৪৪০ টাকা, খাসির গোশত ৬০০-৬৫০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকা, লেয়ার ১৭৫ টাকা এবং দেশী মুরগি আকার ভেদে ২৮০-৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ফার্মের লাল ডিম প্রতি হালি দুই টাকা কমে ৩২ টাকা এবং দেশী মুরগির ডিম ৪০ টাকা ও হাঁসের ডিম ৪০ থেকে ৪২ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
চাল বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিক্রেতারা প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি করছেন ৩২-৩৮ টাকা দরে। এছাড়া মিনিকেট ৪৬-৪৮ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৪২-৪৪ টাকা, পারিজা ৪২ টাকা, নাজিরশাইল ৫০-৫৫ টাকা এবং লতা ৩৮-৪৩ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন