Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ০৫ ভাদ্র ১৪২৬, ১৮ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

ড. ফজলে রাব্বী চৌধুরীর ইন্তেকাল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২১ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

বিজ্ঞানী এবং প্রবীণ রাজনীতিক জাতীয় পার্টির (জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী ড. টিআইএম ফজলে রাব্বী চৌধুরী আর নেই। গতকাল ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহির রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। ফুসফুসে সংক্রমণসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। ৬ বারের নির্বাচিত এই এমপি ইংল্যান্ডের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও ময়মনসিংহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে বৃহস্পতিবারতার গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্যাপুর) আসনে প্রচার-প্রচারণায় নামা কথা ছিলো। তার মৃত্যুতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
জ্ঞানতাপস ড. ফজলে রাব্বী চৌধুরী ‘রানিক্ষেত’ রোগের টিকা আবিস্কারক। সত্তুর দশকে হাঁস-মুরগির মুখ-পা হঠাৎ লাল হয়ে মুখ দিয়ে লালা ঝড়ে মারা যেত। এটাকে বলা হতো রানিক্ষেত রোগ। এতে গৃহিনীদের তথা গ্রামীণ অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। হাসঁ-মুরগির রানিক্ষেত রোগের টিকা আবিস্কার করে বিশ্বে সাড়া ফেলে দেন ড. টিআইএম ফজলে রাব্বী চৌধুরী। তিনি ১৯৩৪ সালে ১লা অক্টোবর গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার তালুকজামিরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ৬ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। তিনি ৩ ছেলে ও ২ কন্যা সন্তানের জনক। তিনি ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ্যানিম্যাল হ্যাজব্যনট্রিতে ২য় স্থান অধিকার করে বিএসসি (অনার্স) ডিগ্রীলাভ করেন ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সরকারি চাকরি নেন। ১৯৬০ সালে আমেরিকা সরকারের বৃত্তি নিয়ে ১৯৬৩ সালে টেকসাস এন্ড এস হতে এমএসসি এবং ১৯৬৫ সালে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন। অতপর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ্যাসিসট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালে তিনি বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পান। এছাড়াও ডীন, ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ সালে ইংল্যান্ডের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে যোগদান করেন। তিনি উলফসন কলেজের ফেলো নির্বাচিত হন।
গাইবান্ধা-৩ আসনে ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত এমপি ড. রাব্বী ছিলেন স্বাধীনচেতা মানুষ। কথা বলতেন রংপুরের আঞ্চলিক ভাষায়। ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমানের নজরে পড়লেও ১৯৮৪ সালে তিনি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট এইচএম এরশাদের ডাকে সাড়া দিয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন। তিনি এরশাদের রাজনৈতিক উপদেষ্টা, পরবর্তীতে ভূমি মন্ত্রী, ত্রাণ ও পূনর্বাসন মন্ত্রী ও সংস্থাপন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদের হুইপ ছিলেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে অংশ নেয়া ইস্যুতে এরশাদের সঙ্গে মতভেদের কারণে এরশাদকে ছেড়ে কাজী জাফর আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। কাজী জাফর আহমদের ইন্তেকালের পর থেকে তিনি দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০ দলীয় জোটের নেতা ড. রাব্বী চৌধুরীর প্রথম নামাজে জানাযা গতকাল বাদ যোহর বনানী চেয়ারম্যান বাড়ী জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার, বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় পাটির প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম আলমসহ ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও ২০ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আজ শুক্রবার বাদ জুম্মা পলাশবাড়ি তালুকজামিরা গ্রামে দ্বিতীয় নামাজে জানাযার পর তাকে পারিবারিক করবস্থানে দাফন করা হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: জাতীয় সংসদ নির্বাচন

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ